بالمناسك، وإنما هي علامات جغرافية ليس إلاّ(1).
3 المساكن والبقاع والطرق: أن المواضع التي سلكها النبي صلى الله عليه وسلم عرضًا، أو البقاع التي جلس فيها، أو مكث فيها مصادفة ولو لوهلة، ليس لها خصوصية، ولا أفضلية في الشرع، ولا يترتب على زيارتها ثواب، ولا ميزة لها على غيرها من الأماكن، ولا يجوز إحياؤها، ولا قصدها بالزيارة الشرعية، مثلها مثل بقية الأماكن(2).
4 الآبار والعيون: الآبار المذكورة آنفًا جاءت ثابتة في الآثار النبوية الحديثية ما عدا بئر غرس فهي مع ثبوتها ليس لها خصوصية شرعية، حتى وإن أحيوا أثر ما اندثر منها فليس للاستقاء منها فضل، ولا ميزة عن بقية الآبار(3).
فتحديد البقاع الأثرية المرتبطة بالنبي صلى الله عليه وسلم تجد عناية خاصة من قِبل بعض المعنيين بالآثار، لما يرون من أنها تحتفظ بتاريخ عريق وأحداث ارتبطت بالماضي.
كما أشار بعض المؤرخين في كتبهم إلى أماكن السيرة النبوية بمكة والمدينة، وما بينهما، برسم خرائط تُحدّد فيها المواقع التي مرّ عليها النبي صلى الله عليه وسلم؛ سعيًا منهم لإحيائها وتهيئتها للزيارة وتتبع حدودها على أرض الواقع، ومن ثم تحصل المبادرة بالتطبيق والتنفيذ إحياءً لها وتذليلاً للوصول إليها؛ لأسباب عاطفية يتخللها حسن نية وإرادة الخير، أو لأسباب اقتصادية ترفع من مستوى الدخل المادي، مع عدم تقدير الجانب العقدي والمنهج السلفي المتعلق بإحياء تلك الآثار.--------------------------------------------
(1) يُنظر: اقتضاء الصراط المستقيم (1/ 268)، مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية (26/ 144)، رحلة الصديق إلى البيت العتيق، لمحمد صديق القنوجي (13)، معجم المعالم الأثرية في المدينة المنورة (233 - 253 - 257 - 259 - 264 - 266).
(2) يُنظر: معجم المعالم الأثرية في المدينة المنورة (673 - 676)، المسائل العقدية المتعلقة بمكة المكرمة (286).
(3) يُنظر: معجم المعالم الأثرية في المدينة المنورة (150 - 167 - 175 - 178 - 217).
হজ বা ইবাদতের কোনো আমলের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এগুলো নিছক ভৌগোলিক নিদর্শন মাত্র(১)।
৩. বাসস্থান, স্থানসমূহ এবং পথসমূহ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘটনাক্রমে যেসকল পথ দিয়ে চলেছেন, অথবা যেসব স্থানে বসেছেন, অথবা দৈবক্রমে সামান্য সময়ের জন্য অবস্থান করেছেন, শরিয়তে সেগুলোর কোনো বিশেষত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সেগুলো যিয়ারত করার মধ্যে কোনো সওয়াব নেই এবং অন্যান্য স্থানের তুলনায় সেগুলোর কোনো বিশেষ মর্যাদা নেই। এই স্থানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা বা শরয়ি যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়া জায়েজ নয়; এগুলো অন্যান্য সাধারণ স্থানের মতোই(২)।
৪. কূয়া ও ঝর্ণাসমূহ: ইতিপূর্বে উল্লিখিত কূয়াগুলোর বিবরণ হাদিস ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় প্রমাণিত হয়েছে; তবে 'বিরে গারস' ছাড়া বাকিগুলোর ক্ষেত্রে এটি প্রমাণিত হলেও শরিয়তে সেগুলোর কোনো বিশেষত্ব নেই। এমনকি যদি সেগুলোর বিলুপ্তপ্রায় কোনো চিহ্ন পুনরুজ্জীবিত করাও হয়, তবে সেখান থেকে পানি সংগ্রহের কোনো বিশেষ ফজিলত নেই এবং অন্যান্য কূয়া থেকে এগুলোর কোনো পার্থক্য নেই(৩)।
সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক স্থানগুলো চিহ্নিত করার বিষয়টি প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি অংশের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে। কারণ তারা মনে করেন যে, এই স্থানগুলো প্রাচীন ইতিহাস এবং অতীতের সাথে জড়িত ঘটনাবলিকে ধারণ করে আছে।
একইভাবে কিছু ইতিহাসবিদ তাদের গ্রন্থে মক্কা, মদিনা এবং এর মধ্যবর্তী স্থানে সিরাত সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর মানচিত্র অঙ্কন করে সেগুলোকে চিহ্নিত করেছেন; তাদের উদ্দেশ্য হলো এগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা, যিয়ারতের জন্য প্রস্তুত করা এবং বাস্তবে এগুলোর সীমানা খুঁজে বের করা। এরপর আবেগপ্রসূত হয়ে সদ্ব্যবহার ও মঙ্গলের আশায় অথবা আর্থিক আয় বৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক কারণে সেগুলো সংস্কার ও যাতায়াত সহজ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে এই প্রাচীন নিদর্শনগুলো পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আকিদাগত দিক এবং সালাফদের অনুসৃত পদ্ধতির প্রতি লক্ষ্য রাখা হয় না।--------------------------------------------
(১) দ্রষ্টব্য: ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (১/ ২৬৮), মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (২৬/ ১৪৪), রিহলাতুস সিদ্দিক ইলাল বাইতিল আতিক - মুহাম্মদ সিদ্দিক কান্নুজি (১৩), মুজামুল মাআলিম আল-আছারিইয়াহ ফিল মাদিনাতিল মুনাওয়ারা (২৩৩ - ২৫৩ - ২৫৭ - ২৫৯ - ২৬৪ - ২৬৬)।
(২) দ্রষ্টব্য: মুজামুল মাআলিম আল-আছারিইয়াহ ফিল মাদিনাতিল মুনাওয়ারা (৬৭৩ - ৬৭৬), আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকাহ বি মাক্কাতাল মুকাররামাহ (২৮৬)।
(৩) দ্রষ্টব্য: মুজামুল মাআলিম আল-আছারিইয়াহ ফিল মাদিনাতিল মুনাওয়ারা (১৫০ - ১৬৭ - ১৭৫ - ১৭৮ - ২১৭)।

(খণ্ড: 1) (পৃষ্ঠা: 102)