ولكن ببدرٍ سائلوا من لقيتمُ … من النَّاس والأنباءُ بالغيب
تنفع
وإنّا بأرض الخوف لو كان أهلها … سوانا لقد أجلوا بليلٍ فأقشعوا
إذا
جاء منّا راكبٌ كان قوله … أعدّوا لما يزجي ابن حربٍ ويجمع
فمهما يهمّ الناس مما
يكيدنا … فنحن له من سائر الناس أوسع
فلو غيرنا كانت جميعًا تكيده الـ … ــبريّة قد أعطوا يدًا وتوزّعوا
نجالد لا تبقى علينا قبيلةٌ …
من الناسٍ إلا أن يهابوا ويفظعوا
ولمّا ابتنوا بالعرض قالت سراتنا … علام
إذا لم نمنع العرض نزرع
وفينا رسول اللَّه نتبع أمره … إذا قال فينا القول لا
نتطلّع
تدلّى عليه الرّوح من عند ربّه … ينزّل من جوّ السماء ويرفع
نشاوره
فيما نريد وقصرنا … إذا ما اشتهى أنا نطيع ونسمع
وقال رسول اللَّه لمّا بدوا لنا
… ذروا عنكم هول المنيّات واطمعوا
وكونوا كمن يشري الحياة تقرّبًا … إلى ملكٍ يحيا لديه ويرجع
ولكن خذوا أسيافكم وتوكّلوا …
على اللَّه إنّ الأمر للَّه أجمع
فسرنا إليهم جهرةً في رحالهم … ضحيّا
علينا البيض لا نتخشّع
بملمومةٍ فيها السَّنَوَّر والقنا … إذا ضربوا أقدامها لا
تورّع
فجئنا إلى موجٍ من البحر وسطه … أحابيش منهم حاسرٌ ومقنّع
ثلاثة آلافٍ
ونحن نصيّةٌ … ثلاث مِئِينٍ إن كثرنا وأربع
نغاورهم تجري المنيّة بيننا … نشارعهم حوض المنايا ونشرع
تهادى قسيّ النّبع فينا وفيهم …
وما هو إلّا اليثربيّ المقطّع
ومنجوفةٌ حِرميّةٌ صاعديّةٌ … يذرُّ عليها
السّمّ ساعة تصنع
تصوب بأبدان الرّجال وتارةً … تمرّ بأعراض البصار تقعقع

وخيلٌ تراها بالفضاء كأنّها … جراد صبًا في قرّة يتريّع
فلمّا تلاقينا ودارت بنا
الرّحا … وليس لأمرٍ حمّه اللَّه مدفع
ضربناهمُ حتى تركنا سَراتهمٍ … كأنّهمُ بالقاع خُشْبٌ مُصَرَّع
كدُنْ غُدوةً حتى استفقنا عشيّةً … كأن ذكانا حرّ نارٍ تلفّع
وراحوا سراعًا موجعين كأنهم …
جهامٌ هراقت ماءه الريح مقلع
ورحنا وأخرانا بطاءٌ كأننا … أسودٌ على لحمٍ
ببيشة ظلّع
فنلنا ونال القوم منا وربما … فعلنا ولكن ما لدى اللَّه أوسع

ودارت رحانا واستدارت رحاهمُ … وقد جعلوا كُلٌّ من الشرّ يشبع
ونحن أناسٌ لا نرى
القتل سُبّةً … على كلّ من يحمي الذّمار ويمنع
কিন্তু বদর প্রান্তরে তোমাদের সাথে যাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল তাদের জিজ্ঞেস করো … কেননা মানুষের জন্য অদৃশ্যের সংবাদসমূহ (সত্য উন্মোচনে) ফলপ্রসূ হয়।
আমরা এমন এক
ভীতিসঙ্কুল ভূমিতে অবস্থান করছি, যেখানে আমাদের পরিবর্তে অন্য কেউ থাকলে … তারা রাতেই
পলায়ন করে বিলীন হয়ে যেত।
যখন আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অশ্বারোহী আগমন করে, তখন তার ঘোষণা হয় এই … ইবনে হারব (আবু সুফিয়ান) যা কিছু চালিত ও সমবেত করছে, তার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি গ্রহণ করো।

মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যাই সংকল্প করুক না কেন … সমগ্র মানবজাতির
মধ্যে আমরাই তার মোকাবিলায় অধিক প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী।
যদি আমরা ছাড়া অন্য সকল সৃষ্টির বিরুদ্ধেও এই ষড়যন্ত্র
হতো … তবে তারা বশ্যতা স্বীকার করত এবং ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ত।
আমরা এমনভাবে অসিযুদ্ধ
করি যে, কোনো গোত্রই আমাদের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারে না … বরং তারা কেবল ভীত ও আতঙ্কিতই
হতে থাকে।
যখন তারা ‘আরদ’ উপত্যকায় ছাউনি ফেলল, তখন আমাদের নেতৃস্থানীয়রা বললেন …
যদি আমরা এই ভূমি রক্ষা করতে না পারি, তবে কেনই বা চাষাবাদ করছি?
আমাদের মাঝে আল্লাহর রাসূল বিদ্যমান, যাঁর আদেশ
আমরা অনুসরণ করি … তিনি যখন আমাদের মাঝে কোনো কথা বলেন, তখন আমরা তার অন্যথা করার কথা
ভাবিও না।
তাঁর নিকট তাঁর রবের পক্ষ থেকে রূহ (জিবরাঈল) অবতীর্ণ হন … যিনি আকাশের
উচ্চদেশ থেকে অবতরণ করেন এবং পুনরায় আরোহণ করেন।
আমরা আমাদের লক্ষ্যসমূহ নিয়ে তাঁর সাথে পরামর্শ করি, তবে আমাদের
চূড়ান্ত সংকল্প হলো … তিনি যা পছন্দ করেন আমরা কেবল তা শ্রবণ করি ও আনুগত্য করি।

শত্রুবাহিনী যখন আমাদের দৃষ্টিগোচর হলো, তখন আল্লাহর রাসূল বললেন … তোমরা মৃত্যুভীতি
বর্জন করো এবং বিজয়ের আশা পোষণ করো।
তোমরা সেই ব্যক্তির ন্যায় হও, যে সেই মহান অধিপতির নৈকট্য লাভের তরে নিজের
জীবন সঁপে দেয় … যাঁর নিকট সে জীবিত থাকে এবং যাঁর কাছেই সে প্রত্যাবর্তন করবে।

বরং তোমরা তোমাদের তলোয়ার ধারণ করো এবং ভরসা করো … আল্লাহর ওপর, নিশ্চয়ই সকল বিষয়
সামগ্রিকভাবে আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণাধীন।
অতঃপর আমরা দিনের আলোয় প্রকাশ্যে তাদের শিবিরের দিকে যাত্রা করলাম … আমাদের মস্তকে ছিল উজ্জ্বল শিরস্ত্রাণ এবং আমরা বিন্দুমাত্র বিচলিত ছিলাম না।
এমন এক
সুসংবদ্ধ সেনাদল নিয়ে আমরা অগ্রসর হলাম, যাতে ছিল লৌহবর্ম ও বর্শা … শত্রু যখন তার
সম্মুখে আঘাত হানে, তখন তারা পিছু হটে না।
এরপর আমরা সমুদ্রের এক বিশাল তরঙ্গের ন্যায় শত্রুবাহিনীর সম্মুখীন
হলাম, যাদের মধ্যস্থলে ছিল … হাবশী মিত্রদল; তাদের কেউ ছিল শিরস্ত্রাণহীন আর কেউ ছিল
সর্মাবৃত।
তারা ছিল তিন হাজার সৈন্যের এক বাহিনী, আর আমরা ছিলাম এক নির্বাচিত ক্ষুদ্র দল
… সংখ্যায় মাত্র তিনশ কিংবা বড়জোর চারশ।
আমরা তাদের ওপর আক্রমণ চালালাম এমতাবস্থায় যে মৃত্যু আমাদের
মাঝে বিচরণ করছিল … আমরা মৃত্যুর জলাধারে একে অপরের সাথে অবগাহন করলাম।
আমাদের এবং
তাদের মাঝে শক্ত ধনুক থেকে তীর বিনিময় হতে লাগল … আর সেখানে ইয়াছরিবী ধারালো তলোয়ারের
আঘাত ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
আরও ছিল হিলমিয়া ও সাঈদীয়া গোত্রের সুতীক্ষ্ণ তীর …
নির্মাণের সময়ই যাতে বিষ মাখিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সেগুলো কখনো যোদ্ধাদের দেহে বিদ্ধ হচ্ছিল, আবার কখনো … প্রচণ্ড শব্দে চোখের পাশ দিয়ে বিদ্যুৎবেগে চলে যাচ্ছিল।
যুদ্ধক্ষেত্রে ঘোড়াগুলোকে
এমন দেখাচ্ছিল যেন … তীব্র শীতে পুবালি বাতাসের ঝাপটায় আসা পঙ্গপাল দলবেঁধে ধাবিত হচ্ছে।

যখন আমরা মুখোমুখি হলাম এবং যুদ্ধের চাকা আবর্তিত হলো … আর আল্লাহ যা অবধারিত
করেছেন তা প্রতিহত করার কোনো শক্তি নেই।
আমরা তাদের ওপর এমন আঘাত হানলাম যে, তাদের নেতৃস্থানীয়দের অবস্থা হলো
… যেন সমতলে পড়ে থাকা ভূপাতিত বিশালাকার কাষ্ঠখণ্ড।
সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আমরা
যুদ্ধের ময়দানে অবিচল ছিলাম … আমাদের তেজ ছিল যেন লেলিহান আগুনের উত্তাপ।
তারা
ব্যথিত ও পর্যুদস্ত হয়ে দ্রুত পলায়ন করল, যেন তারা … সেই মেঘমালা যার বারিধারা বাতাস
সরিয়ে নিয়ে গেছে এবং যা এখন রিক্ত।
আর আমরা যখন ফিরলাম, তখন আমাদের পশ্চাৎবর্তী দল ধীরলয়ে চলছিল—যেন আমরা … বিশা অরণ্যের সেই সিংহদল যারা শিকার করা মাংসের ওপর দম্ভভরে খুঁড়িয়ে চলে।
আমরা তাদের
ওপর বিজয় লাভ করেছি এবং তারাও আমাদের কিছু ক্ষতি করেছে … আমরা বীরত্ব প্রদর্শন করেছি
ঠিকই, তবে আল্লাহর নিকট যা আছে তা অধিকতর প্রশস্ত।
আমাদের এবং তাদের যুদ্ধের চাকা আবর্তিত হলো … আর প্রত্যেকেই যুদ্ধের ভয়াবহতায় পর্যুদস্ত হলো।
আমরা এমন এক জাতি যারা পবিত্র আমানত
রক্ষা ও প্রতিরক্ষার তরে … প্রাণ বিসর্জন দেওয়াকে কোনো কলঙ্ক মনে করি না।

(খণ্ড: 4) (পৃষ্ঠা: 234)