‌‌أسماء يوم القيامة
هذا اليومُ الرهيبُ الْمُفزِعُ الذي يَشِيبُ له الوليدُ وتَذهَلُ المُرضِعةُ عن مولودِها أخبرَ عنه اللهُ تعالى بأسماءٍ عدةٍ في القرآنِ الكريمِ، وكثرةُ الأسماءِ دلالةٌ على عِظَمِ المُسمَّى، وأشهرُ هذه الأسماءِ:
1 - يومُ القيامةِ: سُمِّيَ بذلك لطولِ قيامِ الخلْقِ فيه بين يدَيِ ربِّ العالمين. قال تعالى: {وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا} [مريم: 95].
2 - يومُ البعثِ: سُمِّيَ بذلك لبعثِ الموْتَى فيه من القبورِ، قال جل جلاله: {وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَالْإِيمَانَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِي كِتَابِ اللَّهِ إِلَى يَوْمِ الْبَعْثِ فَهَذَا يَوْمُ الْبَعْثِ وَلَكِنَّكُمْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [الروم: 56].
3 - يومُ الدينِ: أي يومُ الجزاءِ واستيفاءِ الحقوقِ. قال تعالى: {يَسْئَلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ الدِّينِ} [الذاريات: 12].
4 - يومُ الفصلِ: لأنَّ اللهَ تعالى يَفصلُ فيه بين أهل الجنة وأهل النار ويفصل في الحكم والقضاء بين عباده فيما كانوا فيه يختلفون، ويُظهر حال كل أحد كما هو فلا يبقى في حاله ريبة ولا شبهة فتنفصل الخيالات والشبهات وتبقى الحقائق والبينات(1).--------------------------------------------
(1) انظر التفسير الكبير ج 27/ ص 214.
কিয়ামত দিবসের নামসমূহ
এই ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক দিনটি, যার কারণে নবজাতক বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং স্তন্যদানকারী মা তার সন্তানকে ভুলে যাবে—মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এই দিনটির বেশ কিছু নাম উল্লেখ করেছেন। নামসমূহের আধিক্য নামধারী বস্তুর গুরুত্ব বা মহত্ত্বের প্রমাণ বহন করে। এই নামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো:
১ - কিয়ামত দিবস: এই দিনে রাব্বুল আলামীনের সামনে সৃষ্টির দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর কিয়ামত দিবসে তাদের প্রত্যেকেই তাঁর কাছে একাকী উপস্থিত হবে} [মারইয়াম: ৯৫]।
২ - পুনরুত্থান দিবস: এই দিনে কবর থেকে মৃতদের পুনরুত্থিত করা হবে বিধায় একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {যাদের জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছিল তারা বলবে, ‘তোমরা তো আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ। সুতরাং এটাই পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা জানতে না’} [আর-রূম: ৫৬]।
৩ - বিচার দিবস: অর্থাৎ প্রতিদান প্রদান এবং প্রাপ্য অধিকার আদায়ের দিন। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা জিজ্ঞাসা করে, বিচার দিবস কবে হবে?} [আয-যারিয়াত: ১২]।
৪ - ফয়সালার দিন: কেননা মহান আল্লাহ এই দিনে জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের মধ্যে পার্থক্য করে দেবেন এবং তাঁর বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, সে বিষয়ে ফয়সালা ও বিচার করবেন। প্রত্যেকের অবস্থা যেমন ছিল তেমনি প্রকাশ করে দেবেন, ফলে কারও অবস্থা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ বা সংশয় অবশিষ্ট থাকবে না। তখন সকল কল্পনা ও সন্দেহ দূর হয়ে যাবে এবং ধ্রুব সত্য ও সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ প্রকাশ পাবে(১)।--------------------------------------------
(১) দেখুন: আত-তাফসীরুল কাবীর, খণ্ড ২৭, পৃষ্ঠা ২১৪।

(খণ্ড: 1) (পৃষ্ঠা: 8)