رِوَايَةٍ (إِذَا أَصْبَحَ أَحَدُكُمْ يَوْمًا صَائِمًا فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَجْهَلْ فَإِنِ امْرُؤٌ شَاتَمَهُ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ إِنِّي صَائِمٌ) قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم فِيمَا إِذَا دُعِيَ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ مَحْمُولٌ عَلَى أَنَّهُ يَقُولُ لَهُ اعْتِذَارًا لَهُ وَإِعْلَامًا بِحَالِهِ فَإِنْ سَمَحَ لَهُ وَلَمْ يُطَالِبْهُ بِالْحُضُورِ سَقَطَ عنه الحضور وان لَمْ يَسْمَحْ وَطَالَبَهُ بِالْحُضُورِ لَزِمَهُ الْحُضُورُ وَلَيْسَ الصَّوْمُ عُذْرًا فِي إِجَابَةِ الدَّعْوَةِ وَلَكِنْ إِذَا حَضَرَ لَا يَلْزَمُهُ الْأَكْلُ وَيَكُونُ الصَّوْمُ عُذْرًا فِي تَرْكِ الْأَكْلِ بِخِلَافِ الْمُفْطِرِ فَإِنَّهُ يَلْزَمُهُ الْأَكْلُ عَلَى أَصَحِّ الْوَجْهَيْنِ عِنْدَنَا كَمَا سَيَأْتِي وَاضِحًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي بَابِهِ وَالْفَرْقُ بَيْنَ الصَّائِمِ وَالْمُفْطِرِ مَنْصُوصٌ عَلَيْهِ فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ كَمَا هُوَ مَعْرُوفٌ فِي مَوْضِعِهِ وَأَمَّا الْأَفْضَلُ لِلصَّائِمِ فَقَالَ أَصْحَابُنَا إِنْ كَانَ يَشُقُّ عَلَى صَاحِبِ الطَّعَامِ صَوْمُهُ اسْتُحِبَّ لَهُ الْفِطْرُ وَإِلَّا فَلَا هَذَا إِذَا كَانَ صَوْمَ تَطَوُّعٍ فَإِنْ كَانَ صَوْمًا وَاجِبًا حَرُمَ الْفِطْرُ وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِإِظْهَارِ نَوَافِلِ الْعِبَادَةِ مِنَ الصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ وَغَيْرِهِمَا إِذَا دَعَتْ إِلَيْهِ حَاجَةٌ وَالْمُسْتَحَبُّ إِخْفَاؤُهَا إِذَا لَمْ تَكُنْ حَاجَةٌ وَفِيهِ الْإِشَارَةُ إِلَى حُسْنِ الْمُعَاشَرَةِ وَإِصْلَاحِ ذَاتِ الْبَيْنِ وَتَأْلِيفِ الْقُلُوبِ وَحُسْنِ الِاعْتِذَارِ عند سببه وأما الحديث الثاني ففيه نَهْيُ الصَّائِمِ عَنِ الرَّفَثِ وَهُوَ السُّخْفُ وَفَاحِشُ الْكَلَامِ يُقَالُ رَفَثَ بِفَتْحِ الْفَاءِ يَرْفُثُ بِضَمِّهَا وكسرها ورفث بِكَسْرِهَا يَرْفَثُ بِفَتْحِهَا رَفْثًا بِسُكُونِ الْفَاءِ فِي الْمَصْدَرِ وَرَفَثًا بِفَتْحِهَا فِي الِاسْمِ وَيُقَالُ أَرْفَثَ رُبَاعِيٌّ حَكَاهُ الْقَاضِي وَالْجَهْلُ قَرِيبٌ مِنَ الرَّفَثِ وَهُوَ خِلَافُ الْحِكْمَةِ وَخِلَافُ الصَّوَابِ مِنَ الْقَوْلِ وَالْفِعْلِ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم (فَإِنِ امْرُؤٌ شَاتَمَهُ أَوْ قَاتَلَهُ) مَعْنَاهُ شَتَمَهُ مُتَعَرِّضًا لِمُشَاتَمَتِهِ وَمَعْنَى قَاتَلَهُ نَازَعَهُ وَدَافَعَهُ وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم (فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ إِنِّي صَائِمٌ) هَكَذَا هُوَ مَرَّتَيْنِ وَاخْتَلَفُوا فِي مَعْنَاهُ فَقِيلَ يَقُولُهُ بِلِسَانِهِ جَهْرًا يَسْمَعُهُ الشَّاتِمُ وَالْمُقَاتِلُ فَيَنْزَجِرَ غَالِبًا وَقِيلَ لَا يَقُولُهُ بِلِسَانِهِ بَلْ يُحَدِّثُ بِهِ نَفْسَهُ لِيَمْنَعَهَا مِنْ مُشَاتَمَتِهِ وَمُقَاتَلَتِهِ وَمُقَابَلَتِهِ وَيَحْرِصُ صَوْمَهُ عَنِ الْمُكَدِّرَاتِ وَلَوْ جَمَعَ بَيْنَ الْأَمْرَيْنِ كَانَ حَسَنًا وَاعْلَمْ أَنَّ نَهْيَ الصائم عن
একটি বর্ণনায় রয়েছে: "যখন তোমাদের মধ্যে কেউ কোনোদিন রোজা অবস্থায় সকাল করে, সে যেন কোনো অশ্লীল কথা না বলে এবং মূর্খের মতো আচরণ না করে। যদি কোনো ব্যক্তি তাকে গালমন্দ করে কিংবা তার সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, তবে সে যেন বলে—আমি রোজা রেখেছি, আমি রোজা রেখেছি।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী—যখন রোজাদার ব্যক্তিকে আমন্ত্রন জানানো হয় তখন সে যেন বলে "আমি রোজা রেখেছি"—এর অর্থ হলো, সে আমন্ত্রনকারীর নিকট ওজর পেশ করতে এবং নিজের অবস্থা সম্পর্কে তাকে অবহিত করতে এটি বলবে। এমতাবস্থায় যদি আমন্ত্রনকারী তাকে অনুমতি প্রদান করেন এবং উপস্থিত হওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি না করেন, তবে তার ওপর উপস্থিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যাবে। আর যদি তিনি অনুমতি না দেন এবং উপস্থিত হওয়ার দাবি জানান, তবে তাকে উপস্থিত হতে হবে। কেননা দাওয়াতের ডাকে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে রোজা কোনো গ্রহণযোগ্য ওজর নয়। তবে যখন সে উপস্থিত হবে, তখন তার জন্য আহার করা আবশ্যক নয়; বরং আহার ত্যাগের ক্ষেত্রে রোজা একটি ওজর হিসেবে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি রোজাদার নয়, আমাদের মাযহাবের অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী তার জন্য আহার করা আবশ্যক, যা ইনশাআল্লাহ সামনে তার নিজ অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে আলোচিত হবে।

রোজাদার ও বেরোজাদারের মধ্যকার এই পার্থক্য সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি তার নিজ স্থানে সুপরিচিত। আর রোজাদারের জন্য কোনটি অধিক উত্তম—এ বিষয়ে আমাদের আলেমগণ বলেছেন: যদি রোজা অব্যাহত রাখলে মেজবানের কষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে রোজা ভেঙে ফেলা তার জন্য মুস্তাহাব, অন্যথায় নয়। এটি কেবল নফল রোজার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; তবে যদি রোজাটি ওয়াজিব বা ফরজ হয়, তবে তা ভেঙে ফেলা হারাম।

এই হাদিসে এও প্রমাণিত হয় যে, যদি কোনো বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে নফল ইবাদত যেমন রোজা, নামাজ ইত্যাদি প্রকাশ করাতে কোনো বাধা নেই। তবে প্রয়োজন না থাকলে তা গোপন রাখাই মুস্তাহাব। এতে আরও ইঙ্গিত রয়েছে সুন্দর সামাজিক সদাচার, পারস্পরিক বিবাদ মীমাংসা, মানুষের হৃদয়ে সম্প্রীতি সৃষ্টি এবং কোনো অপারগতার কারণে সুন্দরভাবে ওজর পেশ করার প্রতি।

দ্বিতীয় হাদিসের ক্ষেত্রে বলা যায়, এতে রোজাদারকে 'রাফাস' তথা অশ্লীলতা ও অসার কথা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। 'রাফাস' বলতে মূলত মূর্খতা ও কুরুচিপূর্ণ কথা বোঝায়। ভাষাগতভাবে বলা হয়, 'রাফাসা' (ফা বর্ণে জবর) এর বর্তমান কাল 'ইয়ারফুসু' (ফা বর্ণে পেশ বা জের যোগে) হয়। আবার 'রাফিসা' (ফা বর্ণে জের) হলে তার বর্তমান কাল 'ইয়ারফাসু' (ফা বর্ণে জবর) হয়। এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল হলো 'রাফসান' (ফা বর্ণে সাকিন) এবং বিশেষ্য হিসেবে 'রাফাসান' (ফা বর্ণে জবর)। কাজী আইয়াজ থেকে এর চার বর্ণবিশিষ্ট রূপ 'আরফাসা' বর্ণিত হয়েছে। আর 'জাহল' বা মূর্খতা হলো 'রাফাস'-এর কাছাকাছি একটি বিষয়, যা প্রজ্ঞার পরিপন্থী এবং কথা ও কাজে সঠিক পথের বিচ্যুতি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী "যদি কোনো ব্যক্তি তাকে গালমন্দ করে কিংবা তার সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়"—এর অর্থ হলো, কেউ তাকে গালি দিয়ে বিতণ্ডায় উস্কানি দেয়। আর ঝগড়া বা লড়াই করার অর্থ হলো বিবাদ ও বিসংবাদে লিপ্ত হওয়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী "তবে সে যেন বলে—আমি রোজা রেখেছি, আমি রোজা রেখেছি"—এ কথাটি এভাবে দুবার এসেছে। এর অন্তর্নিহিত অর্থ সম্পর্কে আলেমগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কারো মতে, সে এটি মুখে উচ্চস্বরে বলবে যাতে গালমন্দকারী বা বিবাদকারী শুনতে পায় এবং সাধারণত এতে সে নিরুৎসাহিত হয়। আবার কারো মতে, সে এটি মুখে বলবে না বরং মনে মনে নিজেকে বলবে, যাতে সে গালিগালাজ, ঝগড়া বা পাল্টা প্রতিশোধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারে এবং নিজের রোজাকে কলুষতা থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে যদি কেউ উভয় পদ্ধতি অনুসরণ করে, তবে তা অতি উত্তম। জেনে রাখুন, রোজাদারের জন্য যে নিষেধ...

(খণ্ড: 8) (পৃষ্ঠা: 28)