إن الأصنام عاجزة عن نفع عابديها في الآخرة، فلن يجدوا يوم القيامة ما كانوا يتمنون من شفاعتها لهم، ولكن يجدوا منها العداء والتبرؤ، ويأمر الله نبيه محمدًا صلى الله عليه وسلم أن يتهكم بهم وبما ادعوه من شفاعتها لهم لأن ذلك محال غير واقع؛ إذ كيف يزعمون شفاعتها والله يخبر أنها لا تشفع؟ يقول تعالى: (وَيَقُولُونَ هَؤُلاء شُفَعَاؤُنَا عِندَ اللهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللهَ بِمَا لا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ)، والمعنى: (أتنبؤون الله بشفعاء لا يعلمهم في السماء والأرض وهو العالم بما فيهما المحيط علمه بكل شيء؟ إن عليكم إخلاص العبادة لله وحده وإفراده بالألوهية؛ لأنه لا يشفع أحد عنده إلا بإذنه تعالى، وهذا وارد في قوله تعالى: (وَلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ)، فبهذا الاستثناء نفى سبحانه الشفاعة عن الأصنام وأثبتها لمن عبد من دون الله من الموحدين كالمسيح وعزير والملائكة، إذا أراد الله ذلك، لأنهم ممن شهد بالحق ووحدانية الله تعالى).
وبما أن الأصنام لا تملك الشفاعة في الآخرة، فموقفها من عبادها سيكون موقف التبرؤ والعداء والتنكر لعبادتهم إياها، يقول تعالى: (وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَقُولُ أَأَنْتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِي هَؤُلَاءِ أَمْ هُمْ ضَلُّوا السَّبِيلَ (17) قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنْبَغِي لَنَا أَنْ نَتَّخِذَ مِنْ دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنْ مَتَّعْتَهُمْ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْمًا بُورًا (18) فَقَدْ كَذَّبُوكُمْ بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسْتَطِيعُونَ صَرْفًا وَلَا نَصْرًا).
পরকালে নিজ উপাসকদের কোনো উপকার করতে প্রতিমাগুলো সম্পূর্ণ অক্ষম। তারা তাদের নিকট থেকে যে সুপারিশের প্রত্যাশা করত, কিয়ামতের দিন তারা তা পাবে না; বরং তারা এগুলোর পক্ষ থেকে শত্রুতা ও সম্পর্কহীনতার সম্মুখীন হবে। আর আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাদের প্রতি এবং তাদের কৃত সুপারিশের দাবির প্রতি বিদ্রূপ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। কারণ, তা অসম্ভব এবং অবাস্তব। তারা কীভাবে সুপারিশের দাবি করে অথচ আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, এগুলো সুপারিশ করবে না? মহান আল্লাহ বলেন: “তারা বলে, ‘এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।’ আপনি বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহকে আসমানসমূহ ও জমিনের এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না?’ তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।” এর অর্থ হলো: “তোমরা কি আল্লাহকে এমন সুপারিশকারীদের কথা জানাচ্ছ যাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে তিনি আসমান ও জমিনে অবগত নন? অথচ তিনি এ দুটির মধ্যকার সব কিছু সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত এবং তাঁর জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। তোমাদের উচিত একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা এবং তাঁকে উলুহিয়্যাতে একক জ্ঞান করা; কারণ মহান আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। আর এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: “যাদেরকে তারা আল্লাহ ব্যতীত আহ্বান করে, তারা সুপারিশের মালিক হবে না; তবে যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা অবগত রয়েছে (তারা সুপারিশ করতে পারবে)।” এই ব্যতিক্রমের মাধ্যমে মহান আল্লাহ প্রতিমাগুলোর সুপারিশ করার ক্ষমতাকে নাকচ করেছেন এবং আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করা হয়েছে অথচ তারা তাওহীদপন্থী ছিলেন—যেমন ঈসা (আ.), উযাইর (আ.) এবং ফেরেশতামণ্ডলী—তাদের জন্য তা সাব্যস্ত করেছেন, যদি আল্লাহ তা চান। কেননা তারা সত্যের এবং মহান আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন)।
যেহেতু পরকালে প্রতিমাগুলোর সুপারিশ করার কোনো অধিকার নেই, তাই নিজ উপাসকদের প্রতি তাদের অবস্থান হবে সম্পর্কহীনতা, শত্রুতা এবং তাদের কৃত ইবাদতকে অস্বীকার করার মতো। মহান আল্লাহ বলেন: “যেদিন তিনি তাদেরকে এবং তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করত তাদের সবাইকে একত্র করবেন, তখন তিনি বলবেন, ‘তোমরাই কি আমার এই বান্দাদের পথভ্রষ্ট করেছিলে, নাকি তারা নিজেরাই পথ হারিয়েছিল?’ তারা বলবে, ‘আপনি পবিত্র! আপনার পরিবর্তে অন্য কাউকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করা আমাদের জন্য সমীচীন ছিল না; বরং আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদের ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলেন, পরিশেষে তারা উপদেশ ভুলে গিয়েছিল এবং তারা ছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।’ (আল্লাহ মুশরিকদের বলবেন), ‘তোমরা যা বলতে তারা তো তা অস্বীকার করল। সুতরাং এখন তোমরা শাস্তি রোধ করতে পারবে না এবং কোনো সাহায্যও পাবে না’।”

(খণ্ড: 2) (পৃষ্ঠা: 1432)