للتعرف على نوع الثقافة السائدة في المجتمع الجاهلي في ظل الرواية والشفوية، وبيان التحول الذي طرأ مع دخول العرب في الإسلام مما أثر في تقدم العلوم وكذلك في تغيير المفاهيم وتطور الفكر البشري، وكيف أدى حرص المسلمين على جمع أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم خشية اختلاطها بآيات القرآن الكريم إلى ظهور التدوين في بدايات خجولة تطورت فيما بعد بحكم توسع الدولة ونمو الفكر العربي، والتمازج الذي حصل بين العرب والأمم الأخرى بما لديها من فكر حضاري متقدم أدى إلى نشوء الحركة العلمية في القرنين الأول والثاني للهجرة النبوية الشريفة وقيام حركات فكرية أغنى التنافس بينها العقل والفكر العربيين، معرجين على حركة الترجمة والتعريب التي برزت بقوة في العصر العباسي الذهبي الذي يصح أن نطلق عليه اسم عصر النضوج العقلي عند العرب، ومن ثم وضع المعاجم والموسوعات في كل علم وفن مما اقتضى وضع مؤلفات معجمية بأسماء الكتب والفنون تسهيلا على الباحثين وطلاب الحقيقة بالرجوع إلى المصادر والمراجع بدأ من «الفهرست» لابن النديم المتوفى (380 هـ /990 م) مرورا بعدد كبير من كتب الفهارس وصولا إلى كتابنا هذا «السر المصون» الذي شكل مدماكا ولو صغيرا في الصرح الشاهق الذي بناه أسلافنا في هذا المضمار. كما أنه لا بد من الإشارة إلى الدور الذي تؤدّيه كتب التراجم وبيان نوع العلاقة الحميمة التي تربط الكتاب بصاحبه، لا سيما وأن كتابنا هذا له أهميته في حقل التراجم من حيث ابراز دور الرجال الذين أثروا المكتبة العربية، وأغنوها بعصارة أفكارهم.
وقد رأيت أن أتوسع في الترجمة لكل مؤلف بكثرة الإحالات، إذ تعرف قيمة الكتاب من خلال التعرف إلى صانعه وذلك بعرض نتاجه الفكري وأقوال النقاد فيه وفي ذلك فائدة كبيرة أهمها: إنه يصبح باعثا حثيثا لذوي الهمم على التأسي بجهود السابقين والسير على الدرب الذي عبّدوه خدمة للفكر وطلبا لحسن الذكر وهو ما هدفنا إليه في هذا الكتاب بوفرة الإحالات.
وهنا أذكر قول ابن البناء(1) «ليت الخطيب البغدادي ذكرني في تأريخه ولو في الكذابين»(2). وقد قال الإمام النووي(3): «إن معرفة الإنسان بأحوال العلماء رفعة وزين وإن جهل طلبة العلم وأهله بهم لوصمة وشين»(4).--------------------------------------------
(1) هو الحسن بن أحمد بن عبد الله البناء البغدادي فقيه حنبلي محدث له كثير من التصانيف وفاته (471 هـ /1078 م). الزركلي، الاعلام،2/ 180.
(2) السخاوي، الاعلان بالتوبيخ، ص 14.
(3) هو يحيى بن شرف النووي امام في الفقه الشافعي، له كثير من التصانيف، مولده ووفاته في (نوا) بحوران (631 - 885 هـ /1412 - 1480 م). وعاش بدمشق الزركلي، م. س،8/ 149.
(4) ابن الصلاح، طبقات الفقهاء الشافعية،1/ 74.
وقد رأيت أن أتوسع في الترجمة لكل مؤلف بكثرة الإحالات، إذ تعرف قيمة الكتاب من خلال التعرف إلى صانعه وذلك بعرض نتاجه الفكري وأقوال النقاد فيه وفي ذلك فائدة كبيرة أهمها: إنه يصبح باعثا حثيثا لذوي الهمم على التأسي بجهود السابقين والسير على الدرب الذي عبّدوه خدمة للفكر وطلبا لحسن الذكر وهو ما هدفنا إليه في هذا الكتاب بوفرة الإحالات.
وهنا أذكر قول ابن البناء(1) «ليت الخطيب البغدادي ذكرني في تأريخه ولو في الكذابين»(2). وقد قال الإمام النووي(3): «إن معرفة الإنسان بأحوال العلماء رفعة وزين وإن جهل طلبة العلم وأهله بهم لوصمة وشين»(4).--------------------------------------------
(1) هو الحسن بن أحمد بن عبد الله البناء البغدادي فقيه حنبلي محدث له كثير من التصانيف وفاته (471 هـ /1078 م). الزركلي، الاعلام،2/ 180.
(2) السخاوي، الاعلان بالتوبيخ، ص 14.
(3) هو يحيى بن شرف النووي امام في الفقه الشافعي، له كثير من التصانيف، مولده ووفاته في (نوا) بحوران (631 - 885 هـ /1412 - 1480 م). وعاش بدمشق الزركلي، م. س،8/ 149.
(4) ابن الصلاح، طبقات الفقهاء الشافعية،1/ 74.
জাহেলি সমাজের মৌখিক ঐতিহ্য ও বর্ণনানির্ভর সংস্কৃতির স্বরূপ উপলব্ধি করার জন্য, এবং আরবরা ইসলামে প্রবেশের ফলে যে রূপান্তর ঘটেছে তা বর্ণনা করার জন্য, যা বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং একইসাথে ধারণার পরিবর্তন ও মানবচিন্তার বিকাশে প্রভাব ফেলেছিল; এবং কীভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসগুলো পবিত্র কুরআনের আয়াতের সাথে মিশে যাওয়ার আশঙ্কায় সেগুলো সংগ্রহ করার ব্যাপারে মুসলিমদের গভীর আগ্রহ তদুয়িন বা লিপিবদ্ধকরণের সূচনা করেছিল, যা প্রথমে সংকুচিতভাবে শুরু হলেও পরবর্তীকালে রাষ্ট্রের বিস্তার ও আরবীয় চিন্তাধারার বিকাশের ফলে বিকশিত হয়; এবং অন্যান্য উন্নত সভ্যতার অধিকারী জাতিসমূহের সাথে আরবদের সংমিশ্রণের ফলে হিজরি প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে যে বৈজ্ঞানিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল এবং এমন সব বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার উদ্ভব ঘটেছিল যাদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা আরবীয় মেধা ও চিন্তাকে সমৃদ্ধ করেছিল; পাশাপাশি অনুবাদ ও আরবীকরণ আন্দোলনের প্রসঙ্গও এখানে উঠে এসেছে, যা আব্বাসীয় স্বর্ণযুগে প্রবলভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, যাকে আরবদের বৌদ্ধিক পরিপক্কতার যুগ বলা যথার্থ। যার ফলশ্রুতিতে প্রতিটি বিজ্ঞান ও কলায় অভিধান ও বিশ্বকোষ সংকলিত হয়, যা গবেষক ও সত্যের সন্ধানীদের জন্য উৎস ও তথ্যসূত্র খুঁজে পাওয়া সহজ করতে বই ও শাস্ত্রের নাম সংবলিত গ্রন্থসূচি বা ক্যাটালগ রচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। যার সূচনা হয়েছিল ৩৮০ হিজরি/৯৯০ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করা ইবনুন নাদীমের ‘আল-ফিহরিস্ত’ থেকে, এবং অসংখ্য গ্রন্থসূচির ধারাবাহিকতায় আমাদের এই গ্রন্থ ‘আস-সিররুল মাসুন’ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা আমাদের পূর্বসূরিদের তৈরি করা এই বিশাল ইমারতে একটি ক্ষুদ্র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। জীবনীগ্রন্থসমূহ যে ভূমিকা পালন করে এবং লেখকের সাথে তার বইয়ের যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, সে দিকে ইঙ্গিত করাও আবশ্যক। বিশেষ করে জীবনী সাহিত্যের ক্ষেত্রে আমাদের এই বইটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য, কারণ এটি সেইসব ব্যক্তিদের অবদান তুলে ধরে যারা তাদের চিন্তা ও মেধা দিয়ে আরবীয় গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করেছেন।
আমি প্রতিটি লেখকের জীবনীর ক্ষেত্রে অধিক পরিমাণে তথ্যসূত্র উল্লেখ করে বিস্তারিত আলোচনা করা সমীচীন মনে করেছি; কেননা একজন লেখকের কাজ ও তার সম্পর্কে সমালোচকদের মন্তব্য পর্যালোচনার মাধ্যমেই বইয়ের মান উপলব্ধি করা যায়। এতে একটি বড় উপকারিতা রয়েছে: এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের জন্য পূর্বসূরিদের প্রচেষ্টাকে অনুসরণ করার এবং জ্ঞানের সেবা ও সুখ্যাতি অর্জনের জন্য তাদের প্রদর্শিত পথে চলার এক বলিষ্ঠ অনুপ্রেরণা হবে; আর প্রচুর তথ্যসূত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এই গ্রন্থটিতে সেই লক্ষ্যই নির্ধারণ করেছি।
এখানে আমি ইবনুল বান্নার(১) সেই উক্তিটি স্মরণ করছি: «আফসোস! খতিব আল-বাগদাদি যদি তার ইতিহাসে (তারিখে বাগদাদ) আমার নাম উল্লেখ করতেন, এমনকি মিথ্যুকদের তালিকায় হলেও!»(২)। ইমাম নববী(৩) বলেছেন: «আলেমদের অবস্থা সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান থাকা এক প্রকার মর্যাদা ও সৌন্দর্য, আর জ্ঞানপিপাসু ও জ্ঞানীদের পক্ষ থেকে আলেমদের সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা একটি কলঙ্ক ও দোষের বিষয়»(৪)।--------------------------------------------
(১) তিনি হলেন হাসান বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বান্না আল-বাগদাদি, একজন হাম্বলি ফকিহ ও মুহাদ্দিস। তার অনেকগুলো রচনা রয়েছে। মৃত্যু (৪৭১ হি. / ১০৭৮ খ্রি.)। আয-যিরিকলি, আল-আলাম, ২/ ১৮০।
(২) আস-সাখাভি, আল-ই’লান বিত-তাওবিখ, পৃ. ১৪।
(৩) তিনি হলেন ইয়াহইয়া বিন শরাফ আন-নববী, শাফেয়ি ফিকহশাস্ত্রের ইমাম। তার অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে। হাওরানের ‘নাওয়া’ গ্রামে তার জন্ম ও মৃত্যু (৬৩১ - ৬৭৬ হি. / ১২৩৩ - ১২৭৭ খ্রি.)। তিনি দামেস্কে বসবাস করতেন। আয-যিরিকলি, প্রাগুক্ত, ৮/ ১৪৯।
(৪) ইবনুস সালাহ, তাবাকাতুল ফুকাহাশ শাফেয়িয়্যাহ, ১/ ৭৪।
আমি প্রতিটি লেখকের জীবনীর ক্ষেত্রে অধিক পরিমাণে তথ্যসূত্র উল্লেখ করে বিস্তারিত আলোচনা করা সমীচীন মনে করেছি; কেননা একজন লেখকের কাজ ও তার সম্পর্কে সমালোচকদের মন্তব্য পর্যালোচনার মাধ্যমেই বইয়ের মান উপলব্ধি করা যায়। এতে একটি বড় উপকারিতা রয়েছে: এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের জন্য পূর্বসূরিদের প্রচেষ্টাকে অনুসরণ করার এবং জ্ঞানের সেবা ও সুখ্যাতি অর্জনের জন্য তাদের প্রদর্শিত পথে চলার এক বলিষ্ঠ অনুপ্রেরণা হবে; আর প্রচুর তথ্যসূত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এই গ্রন্থটিতে সেই লক্ষ্যই নির্ধারণ করেছি।
এখানে আমি ইবনুল বান্নার(১) সেই উক্তিটি স্মরণ করছি: «আফসোস! খতিব আল-বাগদাদি যদি তার ইতিহাসে (তারিখে বাগদাদ) আমার নাম উল্লেখ করতেন, এমনকি মিথ্যুকদের তালিকায় হলেও!»(২)। ইমাম নববী(৩) বলেছেন: «আলেমদের অবস্থা সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান থাকা এক প্রকার মর্যাদা ও সৌন্দর্য, আর জ্ঞানপিপাসু ও জ্ঞানীদের পক্ষ থেকে আলেমদের সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা একটি কলঙ্ক ও দোষের বিষয়»(৪)।--------------------------------------------
(১) তিনি হলেন হাসান বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বান্না আল-বাগদাদি, একজন হাম্বলি ফকিহ ও মুহাদ্দিস। তার অনেকগুলো রচনা রয়েছে। মৃত্যু (৪৭১ হি. / ১০৭৮ খ্রি.)। আয-যিরিকলি, আল-আলাম, ২/ ১৮০।
(২) আস-সাখাভি, আল-ই’লান বিত-তাওবিখ, পৃ. ১৪।
(৩) তিনি হলেন ইয়াহইয়া বিন শরাফ আন-নববী, শাফেয়ি ফিকহশাস্ত্রের ইমাম। তার অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে। হাওরানের ‘নাওয়া’ গ্রামে তার জন্ম ও মৃত্যু (৬৩১ - ৬৭৬ হি. / ১২৩৩ - ১২৭৭ খ্রি.)। তিনি দামেস্কে বসবাস করতেন। আয-যিরিকলি, প্রাগুক্ত, ৮/ ১৪৯।
(৪) ইবনুস সালাহ, তাবাকাতুল ফুকাহাশ শাফেয়িয়্যাহ, ১/ ৭৪।
(খণ্ড: 1) (পৃষ্ঠা: 8)