دليلا على إثبات الرؤية لا على نفيها، لكنه دليل على إثبات الرؤية مع عدم الإحاطة".
ضرب المصنف هنا عدة أمثلة على أن جميع ما وصف الله به نفسه من النفي لا بد أن يكون متضمنًا لإثبات مدح.
المثال الأول:
قوله تعالى: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} إلى قوله: {وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا} [البقرة الآية: 255].
فنفي السِنة والنوم يتضمن كمال الحياة والقيام، فهو مبيِّن لكمال أنه الحي القيوم، وكذلك قوله: {وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا} [البقرة الآية: 255 [أي: لا يكرثه ولا يثقله، وذلك مستلزم لكمال قدرته وتمامها، بخلاف المخلوق القادر إذا كان يقدر على الشيء بنوع كلفة ومشقة، فإن هذا نقص في قدرته، وعيب في قوته.
المثال الثاني:
قوله تعالى: {لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَوَاتِ وَلَا فِي الأَرْضِ} [سبأ الآية: 3 [فإنّ نَفْي العزوب مستلزم لعلمه بكل ذرة في السموات والأرض.
المثال الثالث:
قوله تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُّغُوبٍ} [ق: 38]، فإنّ نَفْي مس اللغوب الذي هو التعب والإعياء دل على كمال القدرة، ونهاية القوة.
بخلاف المخلوق الذي يلحقه من النصب والكلال ما يلحقه.
المثال الرابع:
قوله تعالى: {لَا تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ} [الأنعام الآية: 103]، إنما نفى الإدراك الذي هو
এটি (আল্লাহকে) দেখার প্রমাণের দলিল, অস্বীকার করার নয়, বরং এটি পূর্ণ পরিবেষ্টন না করে দেখার প্রমাণের দলিল।
গ্রন্থকার এখানে বেশ কিছু উদাহরণ পেশ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যে সমস্ত নেতিবাচক গুণের বর্ণনা দিয়েছেন, তা অবশ্যই কোনো না কোনো প্রশংসামূলক গুণের সাব্যস্তকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
প্রথম উদাহরণ:
আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না} থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আর এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না} [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫]।
সুতরাং তন্দ্রা ও নিদ্রাকে অস্বীকার করা তাঁর জীবন ও সর্বসত্তার ধারক হওয়ার পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতএব, এটি তাঁর চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক হওয়ার পূর্ণতার পরিচায়ক। অনুরূপভাবে তাঁর বাণী: {আর এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না} [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫], অর্থাৎ: এটি তাঁকে কোনো বিপাকে ফেলে না এবং তাঁর জন্য কষ্টকর হয় না। আর এটি তাঁর ক্ষমতার পরিপূর্ণতা ও পূর্ণাঙ্গতার পরিচায়ক। ক্ষমতাধর সৃষ্টির বিষয়টি এর বিপরীত; সে যখন কোনো কাজ বিশেষ কষ্ট ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়, তখন সেটি তার সক্ষমতার ঘাটতি এবং তার শক্তির ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়।
দ্বিতীয় উদাহরণ:
আল্লাহ তাআলার বাণী: {আসমানসমূহে এবং জমিনে অণু পরিমাণ কিছুও তাঁর অগোচরে থাকে না} [সূরা সাবা, আয়াত: ৩]। অগোচরে থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করা আসমান ও জমিনের প্রতিটি অণু সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের পূর্ণতাকে আবশ্যক করে।
তৃতীয় উদাহরণ:
আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর অবশ্যই আমি আসমানসমূহ, জমিন এবং এ দুটির মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি} [সূরা কাফ, আয়াত: ৩৮]। ক্লান্তি ও শ্রান্তি স্পর্শ করার বিষয়টিকে অস্বীকার করা তাঁর ক্ষমতার পূর্ণতা এবং শক্তির চরম সীমার প্রমাণ দেয়।
সৃষ্টির অবস্থা এর বিপরীত, যাকে ক্লান্তি ও অবসাদ আচ্ছন্ন করে ফেলে।
চতুর্থ উদাহরণ:
আল্লাহ তাআলার বাণী: {দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না} [সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১০৩]। এখানে মূলত আয়ত্ত করাকে অস্বীকার করা হয়েছে যা হচ্ছে—

(খণ্ড: 1) (পৃষ্ঠা: 560)