يكن للعرب قبل الإسلام بها عهد.
ثانيًا- إن إجماع المسلمين قد انعقد على إضافة الإعجاز إلى القرآن، قبل خلاف المخالفين، فهذا دال على إجماعهم على أن الإعجاز نابع من ذات القرآن لا من أمر خارج عنه.
ثالثًا - أنه خابت محاولات بعض الأدعياء لمعارضة القرآن، كالذي فعله مسيلمة الكذاب وسُجَاح(1). وإذا كان كلامهم الذي أتوا به عُرَّةً في جبينهم أبد الدهر وخزيًا لهم؛ فإنه ينفي الصَّرْفَةِ، لأنها تعني أنهم صرفت هممهم عن معارضة القرآن! وفي الواقع أن محاولة المعارضة قد حصلت!! فلو كان ثمة صرفة لما أظهر هؤلاء من الكلام ما زعموا أنه معارض للقرآن.
رابعًا - أنهم يوردون علينا استدلالًا على الصَّرْفَةِ: أن العرب بلغاء فصحاء، وكان بعضهم يتقن نظم كلمتين بديعتين في جملة كلامية تبلغان طبقة من البلاغة جد عالية فلو أن الواحد منهم ضم ما جادت به القريحة ثانيًا إلى الأول وهكذا .. يتكامل له بعد حين، قدر سورة من القرآن.
والجواب: أن من قدر على الكلام البليغ العالي ليس لازمًا أن يقدر على معارضة أبلغ كلام على الإطلاق .. فإن الأمر يحتاج إلى ملكة في هذا المستوى العالي قادرة على السبك المبدع والتنسيق الفائق بحيث تبلغ المستوى القرآني، وهذا ما يتجاوز وسع المخلوقات. ثم إن التلفيق بين جمل متناثرة، جادة بها القرائح في موضوعات ودواعي مختلفة؛ لا يقدم أسلوبًا أدبيًا متماسكًا محكمًا يرضى عنه الأدباء، فكيف يسوغ الزعم بأنه معارض للقرآن!؟.
خامسًا: وإذا كان القول بالصَّرْفَةِ قد عزي للنَّظام من المعتزلة، فليس من شك أن من أبلغ الردود لمذهب الصَّرْفَةِ ما ورد على لسان علم من مشاهير المعتزلة. وهو جواب القاضي عبد الجبار لمن زعم: أن الله قد منع العرب من هذا القدر من الفصاحة والبلاغة حين أنزل القرآن؛ قال:
"فقد كان يجب أن يكون قدر القرآن في الفصاحة قدر ما جرت به العادة من قبل، وإنما منعوا من مثله في المستقبل، ولو كان كذلك لم يكن المعجز هو القرآن، لكونه مساويًا لكلامهم، ولتمكنهم من قبل من فعل مثله في قدر الفصاحة. وإنما كان يكون المعجز ما حدث منهم من المنع. فكان التحدي يجب أن يقع بذلك المنع لا بالقرآن، حتى لو لم ينزل الله تعالى القرآن، ولم يظهر أصلًا، وجعل دليل نبوته امتناع الكلام عليهم على الوجه الذي اعتادوه، لكان وجه الإعجاز لا يختلف. وهذا مما نعلم بطلانه باضطرار، لأنه صلى الله عليه وسلم تحدى بالقرآن وجعله العمدة في هذا--------------------------------------------
(1) -سُجَاح بنت الحارث بن سويد بن عقفان امرأة نجدية من بني تميم. ادعت النبوة في الردة وتبعها قوم ثم صالحت مسيلمة وتزوجته ثم بعد قتله عادت إلى الإسلام فأسلمت وعاشت إلى خلافة معاوية ذكر ذلك صاحب التاريخ المظفري: (8/ 198). ويُنظر: الإصابة في تمييز الصحابة: رقم: (11361) (ص: 102).
ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবদের এ বিষয়ে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।
দ্বিতীয়ত— ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরোধিতার পূর্বেই কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز)-এর বিষয়ে মুসলিমদের ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি একথার প্রমাণ বহন করে যে, কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) স্বয়ং কুরআনের সত্তাগত বৈশিষ্ট্য থেকেই উৎসারিত, বাহ্যিক কোনো বিষয় থেকে নয়।
তৃতীয়ত— কুরআনকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য কতিপয় ভণ্ড দাবিদারদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, যেমনটি করেছিল মুসাইলামা চরম মিথ্যাবাদী (الكذاب) এবং সুজাহ(1)। তাদের উপস্থাপিত বাক্যগুলো যদি চিরকালের জন্য তাদের ললাটে কলঙ্কতিলক এবং লাঞ্ছনার কারণ হয়ে থাকে, তবে তা উপলদ্ধি থেকে বিমুখ করা (الصرفة)-এর মতবাদকে নাকচ করে দেয়। কেননা বিমুখ করা বলতে বোঝায় যে, কুরআনকে চ্যালেঞ্জ করার ইচ্ছা থেকেই তাদের নিবৃত্ত করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে চ্যালেঞ্জ করার প্রচেষ্টা সংঘটিত হয়েছিল! যদি সেখানে বিমুখ করার মতো কিছু থাকত, তবে তারা কুরআনের সমকক্ষ (معارض) হিসেবে দাবিকৃত সেই সব বাক্য প্রকাশ করতে পারত না।
চতুর্থত— তারা উপলদ্ধি থেকে বিমুখ করা (الصرفة)-এর পক্ষে এই দলিল পেশ করেন যে: আরবরা ছিল অত্যন্ত অলঙ্কারবিদ (بلغاء) ও প্রাঞ্জলভাষী (فصحاء)। তাদের কেউ কেউ সাধারণ বক্তব্যের মধ্যে দুটি চমৎকার শব্দ অত্যন্ত নিপুণভাবে ব্যবহার করতেন যা অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) উচ্চশিখরে পৌঁছাত। যদি তাদের কেউ এভাবে নিজের প্রতিভা থেকে নিঃসৃত দ্বিতীয় বাক্যটি প্রথমটির সাথে যুক্ত করত এবং এভাবে ধারাবাহিকভাবে চলত, তবে কিছুকাল পরেই তার পক্ষে কুরআনের একটি সূরার সমপরিমাণ কিছু তৈরি করা সম্ভব হতো।
এর উত্তর হলো: যিনি উচ্চাঙ্গের অলঙ্কারপূর্ণ ভাষায় কথা বলতে সক্ষম, তার জন্য এটি আবশ্যক নয় যে তিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কারপূর্ণ বাণীর মোকাবিলা (معارضة) করতে সক্ষম হবেন। কারণ, এই উচ্চতর স্তরে এমন এক প্রতিভার প্রয়োজন যা সৃজনশীল গাঁথুনি এবং অসাধারণ সুসামঞ্জস্য বজায় রেখে কুরআনের মানে পৌঁছাতে পারে; আর এটি সৃষ্টিজীবের সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে। অধিকন্তু, বিভিন্ন বিষয়ের প্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসা বিচ্ছিন্ন কিছু বাক্যকে তালি দিয়ে জোড়া লাগালে তা এমন কোনো সুসংহত ও সুদৃঢ় সাহিত্যশৈলী উপহার দেয় না যা সাহিত্যিকদের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়; এমতাবস্থায় সেটিকে কুরআনের সমকক্ষ (معارض) দাবি করা কীভাবে যুক্তিযুক্ত হতে পারে?
পঞ্চমত: যদি উপলদ্ধি থেকে বিমুখ করা (الصرفة)-এর মতবাদটি মুতাযিলা সম্প্রদায়ের নাজ্জামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়ে থাকে, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই মতবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খণ্ডনকারী ছিলেন মুতাযিলাদেরই একজন প্রখ্যাত ইমাম। এটি হলো কাজী আব্দুল জব্বারের সেই উত্তর, যিনি দাবি করেছিলেন যে: আল্লাহ তাআলা কুরআন নাজিলের সময় আরবদের এই পর্যায়ের প্রাঞ্জলতা (فصاحة) ও অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) থেকে বিমুখ করে দিয়েছিলেন; তিনি বলেন:
"তবে তো উচিত ছিল যে, প্রাঞ্জলতার (فصاحة) দিক থেকে কুরআনের মান অতটুকুই হওয়া যতটুকু আগে থেকেই আরবে প্রচলিত ছিল, আর কেবল ভবিষ্যতে তারা যেন এর মতো কিছু আনতে না পারে সে ব্যাপারে তাদের বাধা প্রদান (المنع) করা হবে। যদি বিষয়টি এমনই হতো, তবে কুরআন আর অলৌকিক (معجز) থাকত না; কারণ তখন তা মানুষের বাণীর সমপর্যায়ের হয়ে যেত এবং মানুষও এর আগে সমমানের প্রাঞ্জলতা (فصاحة) সম্পন্ন বাক্য তৈরি করতে সক্ষম ছিল। এমতাবস্থায় অলৌকিক (معجز) হতো সেই বাধা প্রদান (المنع) যা তাদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। সেক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটি সেই বাধা প্রদানের মাধ্যমে হওয়া উচিত ছিল, কুরআনের মাধ্যমে নয়। এমনকি যদি আল্লাহ তাআলা কুরআন নাজিল নাও করতেন এবং তা মোটেও প্রকাশিত না হতো, আর কেবল তাদের অভ্যস্ত ভাষারীতি থেকে তাদের নিবৃত্ত রাখাকেই নবুয়তের দলিল বানাতেন, তবুও অলৌকিকত্বের (إعجاز) ধরণ ভিন্ন হতো না। আর এটি এমন একটি বিষয় যার অসারতা আমরা অকাট্যভাবে জানি; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং একেই এ বিষয়ে মূল ভিত্তি সাব্যস্ত করেছিলেন।--------------------------------------------
(1) -সুজাহ বিনতে হারিস বিন সুওয়াইদ বিন আকফান। তিনি বনু তামিম গোত্রের একজন নজদি নারী ছিলেন। স্বধর্মত্যাগ (الردة)-এর যুগে তিনি নবুয়তের দাবি করেন এবং একদল লোক তার অনুসারী হয়। পরবর্তীতে তিনি মুসাইলামার সাথে সন্ধি করেন এবং তাকে বিয়ে করেন। মুসাইলামা নিহত হওয়ার পর তিনি পুনরায় ইসলামে ফিরে আসেন এবং উত্তমরূপে ইসলাম পালন করেন। তিনি মুয়াবিয়ার খিলাফত (خلافة) কাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তারিখুল মুজাফফরি গ্রন্থে (৮/১৯৮) এটি উল্লেখ করা হয়েছে। আরও দেখুন: আল-ইসাবাহ ফি তাময়িজিল সাহাবাহ, নম্বর: (১১৩৬১), (পৃ: ১০২)।

(খণ্ড: 60) (পৃষ্ঠা: 115)