منهج ابن قدامة في الروضة:
1- يذكر مذهبه في المسألة ثم مذهب المخالفين وأدلتهم ثم أدلته ثم يناقش أدلتهم.
2- يبين المذهب الحنبلي في كل مسألة، ويقارن بينه وبين المذاهب الأخرى.
3- يناقش آراء المخالفين وأدلتهم بدقة، مبينا ثمرة الخلاف أحيانا.
4- يحرص على عدم التكرار عند تشابه بعض الموضوعات.
5- يستدل بالكتاب والسنة والإجماع والآثار والقياس وكلام العرب ولا يهتم بالأدلة العقلية إلا عند الضرورة.
6- لا يذكر أسماء الكتب التي ينقل عنها.
قيمة الكتاب العلمية: يتميز الكتاب بميزات عدة منها:
1- غزارة العلم وعذوبة اللفظ والاشتمال على المهم مع قوة في التعبير.
2- من أهم المصادر أصول الحنابلة، نقل عنه القرافي ت 684هـ، في نفائس الأصول شرح المحصول، وبدر الدين الزركشي ت 794هـ، في كتابه البحر المحيط، والفتوحي ت 972هـ، في كتابه شرح الكوكب المنير.
3- يخلو من الإغراق في خلاف العلماء في الحدود والتعريفات.
4-سليم من الكلام الذي لا يليق فيما يجب لله تعالى وما يستحيل عليه وغيرها من مسائل علم الكلام.
5- بعيد عن تجريح العلماء والمخالفين.
من المآخذ على الكتاب:
1- لم يشر إلى الغزالي والمستصفى، مع أن الروضة تعتبر اختصارًا له.
2- يتساهل أحيانا في عزو الآراء، مع شيء من عدم الدقة في النقل.
3- يستدل أحيانا بأحاديث موضوعة أو ضعيفة.
রওদ্বা গ্রন্থে ইবনে কুদামার মানহাজ (পদ্ধতি):
১- তিনি কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে প্রথমে নিজের মাযহাব উল্লেখ করেন, এরপর বিরোধীদের মাযহাব ও তাদের দলীলসমূহ বর্ণনা করেন, অতঃপর নিজের দলীলসমূহ পেশ করেন এবং পরিশেষে বিরোধীদের দলীলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন।
২- তিনি প্রতিটি মাসআলায় হাম্বলী মাযহাব স্পষ্ট করেন এবং এর সাথে অন্যান্য মাযহাবের তুলনা করেন।
৩- তিনি বিরোধীদের মতামত ও দলীলসমূহ সূক্ষ্মভাবে আলোচনা করেন এবং মাঝে মাঝে মতপার্থক্যের ফলাফল বর্ণনা করেন।
৪- কিছু বিষয়বস্তুর মধ্যে সাদৃশ্য থাকলে তিনি পুনরাবৃত্তি না করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকেন।
৫- তিনি কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা, আসার (সালাফদের বর্ণনা), কিয়াস এবং আরবদের বাচনভঙ্গি থেকে দলীল পেশ করেন এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া যৌক্তিক দলীলের প্রতি গুরুত্ব দেন না।
৬- তিনি যে সকল কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন সেগুলোর নাম উল্লেখ করেন না।
কিতাবটির ইলমি মর্যাদা: কিতাবটি বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য, যার মধ্যে রয়েছে:
১- ইলমের প্রাচুর্য, সাবলীল শব্দচয়ন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীর অন্তর্ভুক্তি এবং শক্তিশালী প্রকাশভঙ্গি।
২- এটি হাম্বলী উসূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আল-কারাফী (মৃত্যু ৬৮৪ হি.) তাঁর 'নাফায়িসুল উসূল শারহুল মাহসূলে', বদরুদ্দীন আজ-যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হি.) তাঁর 'আল-বাহরুল মুহীত' গ্রন্থে এবং আল-ফুতুহী (মৃত্যু ৯৭২ হি.) তাঁর 'শারহুল কাওকাবিল মুনীর' গ্রন্থে এ কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
৩- সংজ্ঞা ও সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আলেমদের দীর্ঘ মতপার্থক্যের গভীরে নিমজ্জিত হওয়া থেকে এ কিতাবটি মুক্ত।
৪- মহান আল্লাহর জন্য যা ওয়াজিব এবং যা অসম্ভব—এ জাতীয় বিষয় এবং ইলমে কালামের অন্যান্য অসংলগ্ন আলোচনা থেকে এটি নিরাপদ।
৫- আলেম ও বিরোধীদের প্রতি কটূক্তি করা থেকে এটি মুক্ত।
কিতাবটির কিছু সীমাবদ্ধতা:
১- তিনি ইমাম গাযালী এবং তাঁর 'আল-মুস্তাসফা' কিতাবের কথা উল্লেখ করেননি, যদিও 'রওদ্বা' কিতাবটিকে মূলত সেটিরই সংক্ষিপ্তসার হিসেবে গণ্য করা হয়।
২- মতামতের সূত্র উল্লেখে তিনি মাঝে মাঝে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে সামান্য নির্ভুলতার অভাব পরিলক্ষিত হয়।
৩- মাঝে মাঝে তিনি জাল অথবা দুর্বল হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।

(খণ্ড: 1) (পৃষ্ঠা: 195)