ثانيا: أسد الغابة في معرفة الصحابة لابن الأثير
المصنف: ابن الأثير، عز الدين أبو الحسن علي بن محمد الجزري ت 630هـ، علامة محدث أديب نسابة، ولد بجزيرة ابن عمر، ونشأ بها هو وأخواه: مجد الدين، والوزير ضياء الدين، ثم تحول بهم أبوهم إلى الموصل، فبرعوا وسادوا، كان ابن الأثير علامة إخباريا أديبا متفننا رئيسا محتشما، وكان منزله مأوى لطلبة العلم.
الكتاب: خمسة أجزاء،/ خمسة مجلدات1: يترجم هذا الكتاب لأربعة وخمسين وخمسمائة وألف اسم، ومادة هذا الكتاب من مصدرين أساسيين هما:
أ- الكتب التي هي غاية ما انتهى إليه الجمع في الصحابة في عهده وهي:
1- كتاب محمد بن إسحاق بن مندة ت 311هـ.
2- معرفة الصحابة لأبي نعيم أحمد بن عبد الله الأصبهاني ت 430هـ.
3- تتمة معرفة الصحابة لمحمد بن عمر الأصبهاني المديني ت 581هـ.
4- الاستيعاب في معرفة الأصحاب لابن عبد البر ت 463هـ.
ب- ما زاده المؤلف نفسه من أسماء.
عني المؤلف بترتيب كتابه على الأحرف ترتيبا أدق من كتاب الاستيعاب، فوصف كتابه بأنه حافل عظيم، انتقد كتابه في أنه تبع من قلبه فخلط من ليس صحابيا بهم، وأغفل كثيرا من التنبيه على كثير من الأوهام الواقعة في كتبهم، جرد الذهبي أسماء الصحابة الذين وردت أسماؤهم في أسد الغابة في كتاب مستقل وسماه: تجريد أسماء الصحابة، وهو الكتاب المبحوث تاليا.--------------------------------------------
1 منهج النقد في علوم الحديث: العتر: 128، تجريد أسماء الصحابة: الذهبي: 1/ب.
দ্বিতীয়ত: ইবনুল আসিরের ‘উসদুল গাবাহ ফি মা‘রিফাতিস সাহাবাহ’
গ্রন্থকার: ইবনুল আসির, ইযযুদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-জাযারি (মৃ. ৬৩০ হিজরি), তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা পণ্ডিত, হাদিসবিশারদ, সাহিত্যিক এবং বংশলতিকা বিশেষজ্ঞ। তিনি জাযিরাতু ইবনে উমারে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তিনি ও তাঁর দুই ভাই—মাজদুদ্দিন এবং উজির যিয়াউদ্দীন লালিত-পালিত হন। অতঃপর তাঁদের পিতা তাঁদের নিয়ে মোসেলে স্থানান্তরিত হন, সেখানে তাঁরা জ্ঞান-গরিমায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এবং নেতৃত্ব লাভ করেন। ইবনুল আসির ছিলেন একজন বিদগ্ধ ঐতিহাসিক, বহুমুখী প্রতিভাধর সাহিত্যিক এবং একজন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর গৃহ ছিল জ্ঞানান্বেষীদের আশ্রয়স্থল।
গ্রন্থটি: পাঁচ খণ্ড / পাঁচ ভলিউম। এই গ্রন্থে এক হাজার পাঁচশত চুয়ান্নটি নামের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে এবং এই গ্রন্থের উপাদানসমূহ দুটি মৌলিক উৎস থেকে সংগৃহীত, সেগুলো হলো:
ক- ওই সকল গ্রন্থ যা তাঁর যুগ পর্যন্ত সাহাবীগণের জীবনী সংকলনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে গণ্য ছিল, আর সেগুলো হলো:
১- মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মান্দাহ (মৃ. ৩১১ হি.)-এর গ্রন্থ।
২- আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসফাহানি (মৃ. ৪৩০ হি.)-এর ‘মা‘রিফাতুস সাহাবাহ’।
৩- মুহাম্মদ বিন উমর আল-আসফাহানি আল-মাদিনি (মৃ. ৫৮১ হি.)-এর ‘তাতিন্মাতু মা‘রিফাতিস সাহাবাহ’।
৪- ইবনে আব্দুল বার (মৃ. ৪৬৩ হি.)-এর ‘আল-ইসতিআব ফি মা‘রিফাতিল আসহাব’।
খ- যে সকল নাম লেখক নিজে সংযোজন করেছেন।
গ্রন্থকার তাঁর গ্রন্থটিকে বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে ‘আল-ইসতিআব’ গ্রন্থের চেয়ে অধিক নিখুঁত বিন্যাসপদ্ধতি অনুসরণে যত্নবান ছিলেন। তিনি তাঁর গ্রন্থটিকে একটি সমৃদ্ধ ও মহান সংকলন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর গ্রন্থের ওপর এই সমালোচনা করা হয়েছে যে, তিনি তাঁর পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করতে গিয়ে এমন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছেন যারা সাহাবী ছিলেন না। তদুপরি তিনি তাঁদের গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান অনেক ভুল-ভ্রান্তির বিষয়ে সতর্ক করতে অবহেলা করেছেন। ইমাম যাহাবি ‘উসদুল গাবাহ’ গ্রন্থে উল্লিখিত সাহাবীগণের নামসমূহ নিয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ সংকলন করেন এবং এর নাম দেন ‘তাজরিদ আসমাইস সাহাবাহ’, যা পরবর্তী অনুচ্ছেদে আলোচিত হবে।--------------------------------------------
১. মানহাজুন নাকদ ফি উলূমিল হাদিস: ইতর: ১২৮; তাজরিদ আসমাইস সাহাবাহ: যাহাবি: ১/খ।

(খণ্ড: 1) (পৃষ্ঠা: 154)