فالمقصود الآثار التي قصدها النبي صلى الله عليه وسلم فأوقع فيها العبادة بقصد منه، فصارت متابعته في فعله وقصده هي عين السُّنَّة، أما عموم ما وطئه وقام عليه بدون تقصد منه للعبادة فلا تجوز متابعته في ذلك كما سيأتي تقريره(1).
ثم إن تبرك عتبان بصلاة النبي صلى الله عليه وسلم له في بيته، وتحديد مكان لمسجده ومصلاه هو من خصوصياته صلى الله عليه وسلم، فلا يجوز أن يؤتى بصالح أو عالم أو زاهد فيتبرك بصلاته كما فعل عتبان مع النبي صلى الله عليه وسلم، بل هو من أعظم ذرائع الشرك، وأكبر وسائل الفتنة.
وقد بيَّن سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز في تعليقه على قول الحافظ ابن حجر من الفتح بوجوب إجابة من دعي من الصالحين ليتبرك به، فقال: "هذا فيه نظر، والصواب أن مثل هذا خاص بالنبي صلى الله عليه وسلم لما جعل الله فيه من البركة، وغيره لا يقاس عليه، لما بينهما من الفرق؛ ولأن فتح هذا الباب قد يفضي إلى الغلو والشرك، كما قد وقع من بعض الناس. نسأل الله العافية"(2).
سابعًا: لقد جعل الله البركة فيمن شاء من خلقه؛ إذ هي خلقه وملكه وفعله وصفته، فبارك فيمن شاء من الأعيان والذوات والأشخاص، وعليه يكون التماس البركة من تلك الذوات والأعيان مبنيًا على أصول ومقدمات:
الأولى: إثبات كون الذات المعينة مباركة، بدليل شرعي من الكتاب أو السُّنَّة.
الثانية: اعتقاد أن مصدر البركة ومنشأها هو الله تبارك وتعالى، وليس في مقدور أحد إنشاء البركة في نفسه أو في غيره.--------------------------------------------
(1) سيأتي التفصيل في هذه المسألة في قاعدة خاصة (ص 704).
(2) فتح الباري شرح صحيح البخاري (1/ 522).
উদ্দেশ্য হলো সেই সকল নিদর্শন বা চিহ্ন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লক্ষ্য করেছেন এবং সেখানে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইবাদত সম্পাদন করেছেন, ফলে তাঁর কাজ ও উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করাই হলো সুন্নাহর মূল নির্যাস। আর তিনি ইবাদতের উদ্দেশ্য ব্যতীত সাধারণভাবে যেসকল স্থানে পদার্পণ করেছেন বা দাঁড়িয়েছেন, সেগুলোতে তাঁর অনুসরণ করা জায়েজ নয়, যেমনটি সামনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে(১).
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উতবানের ঘরে সালাত আদায়ের মাধ্যমে তাঁর যে বরকত লাভ এবং তাঁর সালাত আদায়ের স্থান ও মাসজিদ নির্দিষ্ট করা ছিল মূলত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে উতবান যেভাবে করেছিলেন, সেভাবে কোনো নেককার ব্যক্তি, আলেম বা জাহিদকে নিয়ে এসে তাঁর সালাতের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা জায়েজ নয়; বরং এটি শিরকের অন্যতম বড় মাধ্যম এবং ফিতনার সবচেয়ে বড় উপায়।
শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহ.) হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.)-এর 'ফাতহুল বারী'র বক্তব্যের ওপর তাঁর টীকায়—যেখানে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে কোনো নেককার ব্যক্তিকে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব বলা হয়েছে—তা স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেন: "এই বক্তব্যের ব্যাপারে আপত্তি আছে। সঠিক বিষয় হলো এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে খাস বা সুনির্দিষ্ট, কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর মাঝে যে বরকত নিহিত রেখেছেন তা অন্য কারো ক্ষেত্রে নয় এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্যের কারণে অন্য কাউকে তাঁর ওপর কিয়াস বা তুলনা করা যাবে না। তাছাড়া এই পথ উন্মুক্ত করা অতিরঞ্জন ও শিরকের দিকে ধাবিত করতে পারে, যা ইতিপূর্বে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘটেছে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি"(২).
সপ্তম: আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা বরকত দান করেছেন; যেহেতু বরকত তাঁরই সৃষ্টি, তাঁরই মালিকানাধীন এবং তাঁরই কাজ ও গুণ। তিনি বস্তু, সত্তা এবং ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বরকতময় করেছেন। সেই হিসেবে ঐ সকল সত্তা ও বস্তু থেকে বরকত অন্বেষণের বিষয়টি কিছু মূলনীতি ও ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে:
প্রথমত: কুরআন বা সুন্নাহর শরয়ী দলিলের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সত্তার বরকতময় হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হতে হবে।
দ্বিতীয়ত: এই বিশ্বাস রাখা যে বরকতের উৎস ও তা দানকারী একমাত্র আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা। নিজের মধ্যে বা অন্য কারো মধ্যে বরকত সৃষ্টি করার ক্ষমতা কোনো মানুষের নেই।--------------------------------------------
(১) এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা একটি বিশেষ মূলনীতিতে আসবে (পৃষ্ঠা ৭০৪)।
(২) ফাতহুল বারী শারহু সহীহ আল-বুখারী (১/ ৫২২)।

(খণ্ড: 1) (পৃষ্ঠা: 268)