‌‌المبحث الثاني تقرير القرآن قبح الشرك بضرب الأمثال
وفيه تمهيد ومطالب
تمهيد:
سبق أن تكلمنا في المبحث السابق عن الأدلة التي نبه عليها القرآن الكريم في تقريره لقبح الشرك بالله وبطلانه، ونتحدث في هذا المبحث عن تقرير القرآن لقبح الشرك بضرب الأمثال.
والأمثال مفردها مثل، وهو الشيء الذي يضرب لشيء مثلاً فيجعل مثله أو هو ما يضرب به من الأمثال، وقد يكون المثل هو الصفة كما في قوله تعالى: (مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ): أي صفتها.
ولقد ضرب الله سبحانه وتعالى للناس في هذا القرآن من كل مثل؛ لأن ضرب الأمثال فيه فوائد كثيرة كالتذكير والوعظ والحث والزجر والتقرير وتقريب المراد للعقل وتصويره بصوره المحسوس وتشبيه الخفي بالجلي، فلضرب الأمثال واستحضا العلماء النظائر شأن ليس بالخفي في إبراز الخفيات والحقائق حتى يرى المتخيل في صورة المتحقق والمتوهم في معرض المتيقن، والغائب كأنه مشاهد.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উপমা প্রদানের মাধ্যমে শিরকের কুৎসিত রূপ সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনা
এতে একটি উপক্রমনিকা ও কয়েকটি আলোচনা রয়েছে
উপক্রমনিকা:
পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে আমরা আল্লাহর সাথে শিরক করার কুৎসিত রূপ ও এর অসারতা সাব্যস্তকরণে পবিত্র কুরআন যেসকল দলিলের প্রতি আলোকপাত করেছে তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই পরিচ্ছেদে আমরা উপমা প্রদানের মাধ্যমে শিরকের কুৎসিত রূপ সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনা নিয়ে আলোচনা করব।
‘আমসাল’ (উপমাসমূহ) শব্দটির একবচন হলো ‘মাছাল’। মাছাল হলো এমন কিছু যা অন্য কিছুর জন্য উপমা হিসেবে পেশ করা হয় যাতে তাকে তার সদৃশ করা যায়, অথবা যা দ্বারা উদাহরণ প্রদান করা হয়। কখনো কখনো মাছাল দ্বারা গুণ বা বৈশিষ্ট্যও বোঝানো হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “পরহেজগারদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের উপমা বা অবস্থা”, অর্থাৎ জান্নাতের বৈশিষ্ট্য।
মহান আল্লাহ এই কুরআনে মানুষের জন্য সব ধরণের উপমা পেশ করেছেন; কারণ উপমা প্রদানের মাধ্যমে অনেক উপকার সাধিত হয়, যেমন—স্মরণ করিয়ে দেওয়া, নসিহত প্রদান, উৎসাহিত করা, সতর্ক করা, বিষয়কে প্রতিষ্ঠিত করা, উদ্দেশ্যকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে নিকটবর্তী করা, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ছবির মাধ্যমে কোনো বিষয়কে মূর্ত করে তোলা এবং অস্পষ্ট বিষয়কে সুস্পষ্ট বিষয়ের সাথে তুলনা করা। গূঢ় রহস্য ও সত্যকে উদ্ভাসিত করার ক্ষেত্রে উপমা প্রদান এবং আলেমদের পক্ষ থেকে সদৃশ উদাহরণ উপস্থাপনের গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্ট; এর ফলে কাল্পনিক বিষয় বাস্তব রূপে প্রতিভাত হয়, সংশয়পূর্ণ বিষয় নিশ্চিতরূপে প্রকাশিত হয় এবং অনুপস্থিত বিষয় এমনভাবে সামনে চলে আসে যেন তা চাক্ষুষ দেখা যাচ্ছে।

(খণ্ড: 2) (পৃষ্ঠা: 1357)