‌‌المبحث الرابع
الآثار الوثنية والجاهلية
عاش المسلمون قرونًا طويلة لا يرفعون رأسًا لأمور الجاهلية، ولا يعيرون لآثارها اهتمامًا، ولا يكترثون لها، وإن ذكروها فإنما يتحدثون عنها لأجل بيان ما كانوا عليه من الضلال، وكيف هداهم الله جل جلاله، وأنعم عليهم بالإسلام.
فكان الناس في إسلامهم، والآثار تحت أرضهم، لا يثير الحديث التاريخي عنهم شيئًا من الانتماء أو التعصب أو الحماس(1).
حتى غزا الكفار بعض بلاد المسلمين تحت اسم الاستعمار، وانتقلت أفكارهم وعقائدهم، واتجهت أطماعهم إلى بلاد المسلمين؛ للتنقيب عن كنوز الأرض بزعمهم، وإحياء الآثار الجاهلية؛ بدعوى معرفة التاريخ القديم، وما يخبئه الماضي من أخبار مجهولة(2).
كما قال المستشرق كويلرينج: إننا في كل بلد إسلامي دخلناه نبشنا الأرض؛ لنستخرج حضارات ما قبل الإسلام، ولسنا نطمع بطبيعة الحال أن يرتد المسلم إلى ما قبل الإسلام، ولكن يكفينا تذبذبه بين الإسلام وبين تلك الحضارات(3).
ولم تتوانى الحملات الآثارية عن ذلك، فأرسلوا بعثات متوالية؛ لبدء التنقيب في أراضي المسلمين، وإحياء الآثار الوثنية والجاهلية القديمة، حيث يزودون كل بلد الانتماء المناسب لأرضه؛ لذبذبة الولاء للإسلام، وتفكيك وحدة المسلمين، وإشعال النعرات القومية والوطنية، فتكون العراق بابلية،--------------------------------------------
(1) يُنظر: دور أهل الذمة في إقصاء الشريعة الإسلامية، لماجد المضيان (345).
(2) يُنظر: الاتجاهات الوطنية في الأدب المعاصر (131).
(3) الشرق الأدنى ومجتمعه وثقافته، لكويلر ينج، نقلاً من واقعنا المعاصر (188).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
মূর্তিপূজক ও জাহেলি নিদর্শনসমূহ
মুসলিমরা দীর্ঘ শতাব্দী ধরে এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করেছেন যে, তারা জাহেলিয়াতের বিষয়াবলির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি, এর নিদর্শনসমূহের প্রতি কোনো গুরুত্বারোপ করেননি এবং এগুলোর কোনো পরোয়া করতেন না। আর যদি তারা এগুলোর কথা উল্লেখ করতেন, তবে তা কেবল তারা অতীতে যে ভ্রষ্টতার ওপর ছিল তা বর্ণনা করার জন্য এবং মহান আল্লাহ কীভাবে তাদের হেদায়েত দান করেছেন ও ইসলামের নেয়ামত দিয়ে তাদের ধন্য করেছেন তা প্রকাশ করার জন্যই করতেন।
ফলে মানুষ তাদের ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো তাদের মাটির নিচেই পড়ে ছিল। তাদের সম্পর্কে ঐতিহাসিক আলোচনা কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা, গোঁড়ামি বা আবেগের উদ্রেক করত না(১)।
অবশেষে কাফেররা উপনিবেশবাদের নামে কিছু মুসলিম দেশ আক্রমণ করল এবং তাদের চিন্তাধারা ও আকিদা-বিশ্বাস সেখানে স্থানান্তরিত হলো। তাদের লোভাতুর দৃষ্টি মুসলিম দেশগুলোর দিকে নিবদ্ধ হলো; তাদের দাবি অনুযায়ী মাটির লুক্কায়িত ধনভাণ্ডার অনুসন্ধান এবং প্রাচীন ইতিহাস ও অতীতের অজানা সংবাদ জানার অজুহাতে জাহেলি নিদর্শনসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে(২)।
যেমনটি প্রাচ্যবিদ কুইলার ইয়ং বলেছেন: আমরা যে মুসলিম দেশেই প্রবেশ করেছি, সেখানেই মাটি খনন করেছি; যেন প্রাক-ইসলামী সভ্যতাগুলোকে বের করে আনা যায়। আমরা স্বাভাবিকভাবেই এই আশা করি না যে, একজন মুসলিম প্রাক-ইসলামী যুগে ফিরে যাবে; বরং আমাদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে ইসলাম এবং ওই সকল সভ্যতার মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত ও দোদুল্যমান হয়ে পড়ুক(৩)।
প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানগুলো এ কাজে কোনো ত্রুটি করেনি। তারা মুসলিমদের ভূমিতে খননকার্য শুরু করতে এবং প্রাচীন পৌত্তলিক ও জাহেলি নিদর্শনসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য একের পর এক প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেছে। এর মাধ্যমে তারা প্রতিটি দেশকে তার ভূমির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পরিচয় দান করে; যেন ইসলামের প্রতি আনুগত্যে দ্বিধা সৃষ্টি করা যায়, মুসলিমদের ঐক্য খণ্ডিত করা যায় এবং জাতীয়তাবাদী ও দেশীয় গোঁড়ামির আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া যায়। ফলে ইরাক হয়ে যায় ব্যাবিলনীয়...--------------------------------------------
(১) দ্রষ্টব্য: দাওর আহলিজ জিম্মাহ ফি ইকসা-ইশ শারিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, মাজিদ আল-মুদইয়ান (৩৪৫)।
(২) দ্রষ্টব্য: আল-ইত্তিজাহাত আল-ওয়াতানিয়্যাহ ফিল আদাব আল-মুআসির (১৩১)।
(৩) আশ-শারকুল আদনা ওয়া মুজতামাউহু ওয়া সাকাফাতুহু, কুইলার ইয়ং, ‘ওয়াকিউনা আল-মুআসির’ (১৮৮) থেকে উদ্ধৃত।

(খণ্ড: 1) (পৃষ্ঠা: 250)