2984 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ آدَمَ، ثنا مُؤَمَّلٌ، ثنا إِسْرَائِيلُ، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَجِيلَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَنَّ ثَلاثَةَ نَفَرٍ، انْطَلَقُوا فِي سَفَرٍ، فَآوَاهُمُ اللَّيْلُ إِلَى غَارٍ، فَوَقَعَتْ صَخْرَةٌ عَلَى بَابِ الْغَارِ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ : لَسْتُمْ عَلَى الطَّرِيقِ، وَقَدْ بُلِيتُمْ بِأَمْرٍ عَظِيمٍ، لا يُمْكِنُكُمْ فِيهِ إِلا أَنْ تَدْعُوا الَّذِي أَبْلاكُمْ بِهِ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا، فَلْيَنْظُرْ كُلُّ رَجُلٍ مِنْكُمْ، أَفْضَلَ عَمَلٍ عَمِلَهُ، فَلْيَذْكُرْهُ، ثُمَّ لِيَدْعُ اللَّهَ، فَقَالَ أَحَدُهُمْ : اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ أَنَّهُ كَانَتْ لِي بِنْتُ عَمٍّ، لَمْ يَكُنْ فِي الأَرْضِ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْهَا، فَأَرَدْتُهَا عَلَى نَفْسِهَا، وَجَعَلْتُ لَهَا مِائَةَ دِينَارٍ، فَلَمَّا جَلَسْتُ مِنْهَا مَجْلِسَ الرَّجُلِ مِنَ امْرَأَتِهِ اسْتَقْبَلَتْهَا رِعْدَةٌ، وَقَالَتْ : إِنِّي وَاللَّهِ، مَا عَمِلْتُ خَطِيئَةً قَطُّ، وَمَا حَمَلَنِي عَلَيْهِ إِلا الْجَهْدُ، فَقُمْتُ، وَقُلْتُ : هِيَ لَكِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ، أَنِّي إِنَّمَا قُمْتُ عَنْهَا، الْتِمَاسَ مَرْضَاتِكَ، وَمَخَافَةَ سَخَطِكَ، فَافْرُجْ عَنَّا هَذَا الْحَجَرَ، فَانْصَدَعَ الْحَجَرُ حَتَّى رَأَوُا الضَّوْءَ، وَقَالَ الآخَرُ : اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّهُ كَانَ لِي أَبَوَانِ، وَكَانَتْ لِي غَنَمٌ، فَكُنْتُ أَرْعَى قَرِيبًا، وَأَنِّي تَبَاعَدْتُ، فَجِئْتُ ذَاتَ لَيْلَةٍ وَقَدِ احْتُبِسْتُ، فَحَلَبْتُ إِنَاءً مِنْ لَبَنٍ، وَأَتَيْتُ أَبَوَيَّ، فَوَجَدْتُهُمَا نَائِمَيْنِ، فَكَرِهْتُ أَنْ أُوقِظَهُمَا مِنْ نَوْمِهِمَا، فَبَاتَ الإِنَاءُ عَلَى يَدَيَّ، حَتَّى اسْتَيْقَظَا مَتَى اسْتَيْقَظَا، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي إِنَّمَا فَعَلْتُ ذَلِكَ الْتِمَاسَ مَرْضَاتِكَ، وَمَخَافَةَ سَخَطِكَ، فَافْرُجْ عَنَّا الْحَجَرَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : فَانْقَضَّ الْحَجَرُ حَتَّى رَأَوُا الضَّوْءَ، وَرَجَوْا، وَقَالَ الآخَرُ : اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي اسْتَأْجَرْتُ رِجَالا بِأَجْرٍ مَعْلُومٍ، وَكَانَ فِيهِمْ رَجُلٌ يَعْمَلُ عَمَلَ رَجُلَيْنِ، فَلَمَّا أَعْطَيْتُهُمْ أُجُورَهُمْ، قَالَ أَعْطِنِي عَمَلَ رَجُلَيْنِ، فَقُلْتُ : إِنَّمَا لَكَ عَمَلُ رَجُلٍ، فَأَبَى، وَتَرَكَهُ عِنْدِي، وَذَهَبَ، فَلَمْ أَزَلْ أَعْمَلُ لَهُ فِيهِ، حَتَّى اجْتَمَعَ سِتُّونَ، مِنْ بَيْنِ ثَوْرٍ، وَبَقَرَةٍ، وَعَبْدٍ، وَأَمَةٍ، فَجَاءَ بَعْدَ حِينٍ، فَقَالَ : يَا عَبْدَ اللَّهِ ! أَمَا تُعْطِينِي أَجْرِي ؟ قُلْتُ : وَمَنْ أَنْتَ ؟ قَالَ : أَنَا الَّذِي عَمِلْتُ مَعَكَ عَمَلَ رَجُلَيْنِ، فَلَمْ تُعْطِنِي إِلا عَمَلَ رَجُلٍ وَاحِدٍ، فَتَرَكْتَهُ، فَقُلْتُ : هَذِهِ سِتُّونَ، مِنْ بَيْنِ ثَوْرٍ، وَبَقَرَةٍ، وَعَبْدٍ، وَأَمَةٍ، فَقَالَ : حَبَسْتَنِي مَا حَبَسْتَنِي، وَتَسْخَرُ بِي ! قُلْتُ : هُوَ لَكَ، فَخُذْهُ، فَأَخَذَهُ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي إِنَّمَا فَعَلْتُ ذَلِكَ، الْتِمَاسَ مَرْضَاتِكَ، وَمَخَافَةَ سَخَطِكَ، فَافْرُجْ عَنَّا هَذَا الْحَجَرَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : فَزَالَ الْحَجَرُ، وَانْطَلَقُوا يَمْشُونَ ` . وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ آدَمَ، ثنا مُؤَمَّلٌ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ بِنَحْوِهِ، إِلا أَنَّهُ قَالَ الأَوَّلُ : إِنَّهُ كَانَتْ لِي بِنْتُ عَمٍّ، مِنْ أَجْمَلِ النِّسَاءِ، وَكَانَتْ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَيَّ، فَخَطَبْتُهَا إِلَى أَبِيهَا، وَأَبَى أَنْ يُزَوِّجَنِيهَا، فَخَرَجْتُ عَلَى وَجْهِي، وَمَاتَ أَبُوهَا، فَرَجَعَتْ، وَاحْتَاجَتْ، فَأَرَسْلَتْ إِلَيَّ تَشْكُو الْحَاجَةَ، فَقُلْتُ : لا إِلا أَنْ تُعْطِيَنِي نَفْسَكِ، فَفَعَلْتُ ذَلِكَ مِرَارًا، فَاشْتَدَّتْ حَاجَتُهَا، فَأَرَسَلَتْ إِلَيَّ فِي الثَّالِثَةِ، أَوِ الرَّابِعَةِ، فَأَطْمَعَتْنِي فِي نَفْسِهَا، فَأَتَيْتُهَا، فَلَمَّا قَعَدْتُ مِنْهَا مَقْعَدَ الرَّجُلِ مِنَ امْرَأَتِهِ، أَخَذَتْهَا رِعْدَةٌ، فَقَالَتْ : أَنْشُدُكَ اللَّهَ أَنْ تَفُضَّ الْخَاتَمَ بِغَيْرِ حَقِّهِ، فَإِنِّي وَاللَّهِ، مَا عَمِلْتُ هَذَا الْعَمَلَ قَطُّ، فَرَدَدْتُ عَلَيْهَا نَفْسَهَا، وَأَعْطَيْتُهَا خَيْرًا . قَالَ الْبَزَّارُ : لا نَعْلَمُ أَسْنَدَهُ بِهَذَا الثَّانِي إِلا مُؤَمَّلٌ، وَرَوَاهُ أَبُو سَعْدٍ سَعِيدُ بْنُ الْمَرْزُبَانِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنِ النُّعْمَانِ، مَرْفُوعًا . حَدَّثَنَاهُ عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ الْمُؤَمَّلِيُّ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَسَنِ أَبُو مَسْعُودٍ الزَّجَّاجُ، ثنا أَبُو سَعْدٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنِ النُّعْمَانِ، قُلْتُ، فَرَفَعَهُ . قَالَ : وَلا نَعْلَمُ رَوَاهُ عَنْ أَبِي سَعْدٍ، إِلا أَبُو مَسْعُودٍ، وَكَانَ ثِقَةً، وَلَمْ يُسْنِدْهُ غَيْرُهُ بِهَذَا الإِسْنَادِ *
নু’মান ইবনু বাশীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:



তিন ব্যক্তি কোনো এক সফরে রওয়ানা হলো। পথিমধ্যে রাত্রি নেমে এলে তারা একটি গুহায় আশ্রয় নিল। এমন সময় গুহার দরজার উপর একটি বিরাট পাথর পতিত হলো এবং মুখ বন্ধ করে দিল।



তখন তাদের মধ্যে একজন অন্যজনকে বলল: তোমরা তো (মুক্তির) কোনো পথে নেই। তোমরা এক কঠিন বিপদে পতিত হয়েছ। এই বিপদে যিনি তোমাদেরকে ফেলেছেন, তাঁকে ডাকা ব্যতীত তোমাদের আর কোনো উপায় নেই। অতএব তোমাদের প্রত্যেকে তার করা সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমলটি দেখ এবং তা উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে দু’আ করো।



তাদের একজন বলল: ইয়া আল্লাহ! আপনি জানেন, আমার এক চাচাতো বোন ছিল, এই পৃথিবীতে আমার কাছে তার চেয়ে প্রিয় আর কেউ ছিল না। আমি তাকে প্রলুব্ধ করতে চাইলাম এবং তাকে একশ’ দিনার দিলাম। (অন্য বর্ণনায় আছে, সে ছিল সব নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী। আমি তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু সে প্রত্যাখ্যান করে। পরে তার বাবা মারা গেলে সে অভাবগ্রস্ত হয়ে আমার কাছে আসে। আমি তাকে তার অভাব দূর করার বিনিময়ে আমার সাথে মিলিত হতে বলি)।



যখন আমি তার সাথে এমনভাবে বসলাম যেমন একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে বসে, তখন সে কাঁপতে শুরু করলো এবং বলল: আল্লাহর কসম! আমি এর আগে কখনো কোনো পাপ করিনি। কেবল অভাবই আমাকে এই কাজ করতে বাধ্য করেছে।



তখন আমি উঠে গেলাম এবং বললাম: (দিনারগুলো) তোমারই থাক।



ইয়া আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে, আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং আপনার ক্রোধের ভয়ে তার থেকে বিরত হয়েছিলাম, তবে আমাদের থেকে এই পাথরটি সরিয়ে দিন।



ফলে পাথরটি একটু সরে গেল, এমনকি তারা আলো দেখতে পেল।



অন্যজন বলল: ইয়া আল্লাহ! আপনি জানেন, আমার পিতামাতা ছিলেন এবং আমার কিছু ছাগল ছিল। আমি কাছেই চরাতাম। একদিন আমি দূরে চলে গেলাম এবং (ফেরত আসতে) রাত হয়ে গেল। আমি এক পাত্র দুধ দোহন করে আমার পিতামাতার কাছে এসে দেখি, তারা ঘুমিয়ে আছেন। আমি তাদের ঘুম থেকে জাগানো অপছন্দ করলাম। পাত্রটি আমার হাতেই রইল, যতক্ষণ না তারা যখন জাগ্রত হওয়ার, তখন জাগ্রত হলেন।



ইয়া আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে, আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং আপনার ক্রোধের ভয়ে এই কাজটি করেছিলাম, তবে আমাদের থেকে পাথরটি সরিয়ে দিন।



রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তখন পাথরটি আরও সরে গেল, এমনকি তারা আলো দেখতে পেল এবং আশান্বিত হলো।



তৃতীয় ব্যক্তি বলল: ইয়া আল্লাহ! আপনি জানেন, আমি কিছু লোককে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমিক নিযুক্ত করেছিলাম। তাদের মধ্যে একজন ছিল যে, দুজন লোকের কাজ করত। যখন আমি তাদের মজুরি দিলাম, তখন সে বলল: আমাকে দুইজনের মজুরি দাও। আমি বললাম: তুমি কেবল একজনের কাজই করেছ (সুতরাং তোমার একজনের মজুরিই প্রাপ্য)। সে তা নিতে অস্বীকৃতি জানাল এবং আমার কাছে রেখে চলে গেল। আমি তার জন্য সেই টাকা খাটাতে লাগলাম, যতক্ষণ না তা ষাটটি পশুতে পরিণত হলো—যার মধ্যে ষাঁড়, গরু, ক্রীতদাস এবং দাসী ছিল।



কিছুকাল পর সে ফিরে এসে বলল: হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি আমাকে আমার মজুরি দেবে না? আমি বললাম: তুমি কে? সে বলল: আমি সেই ব্যক্তি, যে তোমার সাথে দুইজনের কাজ করেছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে শুধু একজনের মজুরি দিতে চেয়েছিলে, তাই আমি তা রেখে চলে গিয়েছিলাম। আমি বললাম: এই যে ষাটটি—যার মধ্যে ষাঁড়, গরু, ক্রীতদাস এবং দাসী রয়েছে। সে বলল: তুমি আমাকে এতদিন আটকে রেখে আমার সাথে উপহাস করছ? আমি বললাম: এটা তোমারই, নিয়ে যাও। সে তা নিয়ে গেল।



ইয়া আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে, আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং আপনার ক্রোধের ভয়ে এই কাজটি করেছিলাম, তবে আমাদের থেকে এই পাথরটি সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে দিন।



রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তখন পাথরটি সম্পূর্ণরূপে সরে গেল, আর তারা হেঁটে চলে গেল।

কাশুফুল আসতার (2984)