ثم قسموه إلى أقل من الجزء، فجعلوا الجزء حزبين والحزب أربعة أرباع، في كل ربع ثُمُنان، فصار الجزء ثمانية أثمان، كما هو الحال في المصاحف المشرقية اليوم.
فالقسمة التي بين أيدينا في المصحف لا تذهب إلى تقسيم السور، بل هي تقسمه إلى أجزاء قد تنتهي في وسط سورة أو في خاتمة سورة، والملاحظ أنه لم يُعتمد في هذه التقسيمات على علم الوقف والابتداء، لذا قد تقع نهاية الثمن أو الحزب أو الجزء على موطن ناقص من جهة الوقف، فلا يكون وقفاً تامّاً، ولست أدري علام اعتمد من قسَّم هذا التقسيم؟!
وهي محكية قديماً، قد نقلها أبو عمرو الداني (ت444هـ) في كتابه «البيان في عدِّ آي القرآن» على خلافٍ في بعض المواطن، ولم يذكر هو ولا غيره سبب اختيار المواطن، وإنما الظاهر من هذه القسمة أنهم أرادوها لمن يختم في شهر، فإنه يقرأ كل يوم جزءاً حتى يختمه في ثلاثين يوماً.
وبعض التقسيمات للمصحف جعلته على سبعة وعشرين قسماً ليكون ختمه في رمضان في ليلة السابع والعشرين، وقد ذكر هذا التقسيم جماعة؛ منهم: الداني (ت444هـ) في كتابه «البيان في عد آي القرآن» (1)، وتلميذه أبو داود سليمان بن نجاح (ت496هـ) في كتابه «مختصر التبيين لهجاء التنْزيل» (2)، والسخاوي (ت643هـ) في «جمال القراء» (3)، وهذه التقسيمات ـ كما ترى ـ اجتهادية، وهناك تقسيمات أخرى محكية في كتب العلماء يمكن الرجوع إليها.
تنبيهات:
الأول: إن عدد صفحات الجزء في مصحف المدينة النبوية عشرون صفحة، فلو قسَّم المسلم هذه العشرين على عدد الصلوات الخمس، لكان--------------------------------------------
(1) البيان في عد آي القرآن (ص102).
(2) ينظر على سبيل المثال: (2:596) من مختصر التبيين لهجاء التنْزيل.
(3) جمال القراء وكمال الإقراء (1:138).
এরপর তারা একে পারার (الجزء) চাইতেও ক্ষুদ্রতর ভাগে বিভক্ত করেছেন। তারা এক পারাকে (الجزء) দুই হিজবে (حزبين) এবং এক হিজবকে চার রুবু‘ বা চতুর্থাংশে (أربعة أرباع) বিভক্ত করেছেন। প্রতিটি রুবু‘-তে রয়েছে দুই সুমুন (ثمنان), ফলে এক পারা আট সুমুনে (ثمانية أثمان) পরিণত হয়েছে, যেমনটি বর্তমানের মাশরিকি বা প্রাচ্যদেশীয় মাসহাফগুলোতে দেখা যায়।
আমাদের সামনে মাসহাফে যে বিভাজন বিদ্যমান, তা সূরার বিভাজনকে অনুসরণ করে না; বরং এটি কুরআনকে এমন সব অংশে (أجزاء) বিভক্ত করে যা কখনও সূরার মাঝখানে আবার কখনও সূরার শেষে গিয়ে শেষ হয়। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই বিভাজনগুলোর ক্ষেত্রে ওয়াকফ ও ইবতিদা বা থামা ও শুরু করার জ্ঞান (علم الوقف والابتداء) এর ওপর নির্ভর করা হয়নি। এ কারণে অনেক সময় সুমুন (ثمن), হিজব (حزب) কিংবা পারার (جزء) সমাপ্তি এমন এক অপূর্ণ স্থানে ঘটে যা থামার উপযোগী নয়, ফলে সেখানে ওয়াকফে তাম (وقف تام) বা পূর্ণ বিরতি হয় না। আমি জানি না এই বিভাজন যারা করেছেন তারা কিসের ওপর ভিত্তি করে এটি করেছেন?!
এই বিভাজনটি প্রাচীনকাল থেকেই বর্ণিত। আবু আমর আদ-দানি (মৃত্যু: ৪৪৪ হিজরি) তাঁর 'আল-বায়ান ফি আদ্দি আইয়িল কুরআন' গ্রন্থে কিছু স্থানে মতভেদসহ এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বা অন্য কেউ এই স্থানগুলো নির্বাচনের কারণ উল্লেখ করেননি। তবে এই বিভাজন থেকে বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, তারা এটি তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন যারা মাসে একবার খতম করতে চান; যাতে তারা প্রতিদিন এক পারা (جزء) করে পাঠ করে ত্রিশ দিনে তা খতম করতে পারেন।
মাসহাফের কোনো কোনো বিভাজনে একে সাতাশটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে যাতে রমজানের সাতাশতম রাতে খতম করা যায়। একদল আলেম এই বিভাজনের কথা উল্লেখ করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আদ-দানি (মৃত্যু: ৪৪৪ হিজরি) তাঁর 'আল-বায়ান ফি আদ্দি আইয়িল কুরআন' (১) গ্রন্থে, তাঁর ছাত্র আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে নাজাহ (মৃত্যু: ৪৯৬ হিজরি) তাঁর 'মুকতাসারুত তাবয়িন লি-হিজায়িত তানজিল' (২) গ্রন্থে এবং সাখাভি (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরি) তাঁর 'জামালুল কুররা' (৩) গ্রন্থে। এই বিভাজনগুলো—যেমনটি দেখছেন—ইজতিহাদি (اجتهادية) বা গবেষণালব্ধ। উলামায়ে কেরামের কিতাবসমূহে বর্ণিত আরও বিভিন্ন বিভাজন রয়েছে যার প্রতি রুজু (الرجوع) বা প্রত্যাবর্তন করা যেতে পারে।
সতর্কবার্তা:
প্রথমত: মদিনা মুনাওয়ারার মাসহাফে এক পারার (الجزء) পৃষ্ঠা সংখ্যা হলো বিশটি। যদি একজন মুসলিম এই বিশ পৃষ্ঠাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সংখ্যার ওপর ভাগ করে নেন, তবে তা হবে...--------------------------------------------
(১) আল-বায়ান ফি আদ্দি আইয়িল কুরআন (পৃ. ১০২)।
(২) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: মুকতাসারুত তাবয়িন লি-হিজায়িত তানজিল-এর (২:৫৯৬)।
(৩) জামালুল কুররা ওয়া কামালুল ইকরা (১:১৩৮)।

(খণ্ড: 1) (পৃষ্ঠা: 249)