حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ خَرَجْنَا مِنْ قَوْمِنَا غِفَارٍ وَكَانُوا يُحِلُّونَ الشَّهْرَ الْحَرَامَ فَخَرَجْتُ أَنَا وَأَخِي أُنَيْسٌ وَأُمُّنَا فَنَزَلْنَا عَلَى خَالٍ لَنَا فَأَكْرَمَنَا خَالُنَا وَأَحْسَنَ إِلَيْنَا فَحَسَدَنَا قَوْمُهُ فَقَالُوا إِنَّكَ إِذَا خَرَجْتَ عَنْ أَهْلِكَ خَالَفَ إِلَيْهِمْ أُنَيْسٌ فَجَاءَ خَالُنَا فَنَثَا عَلَيْنَا الَّذِي قِيلَ لَهُ فَقُلْتُ لَهُ أَمَّا مَا مَضَى مِنْ مَعْرُوفِكَ فَقَدْ كَدَّرْتَهُ وَلاَ جِمَاعَ لَكَ فِيمَا بَعْدُ . فَقَرَّبْنَا صِرْمَتَنَا فَاحْتَمَلْنَا عَلَيْهَا وَتَغَطَّى خَالُنَا ثَوْبَهُ فَجَعَلَ يَبْكِي فَانْطَلَقْنَا حَتَّى نَزَلْنَا بِحَضْرَةِ مَكَّةَ فَنَافَرَ أُنَيْسٌ عَنْ صِرْمَتِنَا وَعَنْ مِثْلِهَا فَأَتَيَا الْكَاهِنَ فَخَيَّرَ أُنَيْسًا فَأَتَانَا أُنَيْسٌ بِصِرْمَتِنَا وَمِثْلِهَا مَعَهَا - قَالَ - وَقَدْ صَلَّيْتُ يَا ابْنَ أَخِي قَبْلَ أَنْ أَلْقَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثِ سِنِينَ . قُلْتُ لِمَنْ قَالَ لِلَّهِ . قُلْتُ فَأَيْنَ تَوَجَّهُ قَالَ أَتَوَجَّهُ حَيْثُ يُوَجِّهُنِي رَبِّي أُصَلِّي عِشَاءً حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ أُلْقِيتُ كَأَنِّي خِفَاءٌ حَتَّى تَعْلُوَنِي الشَّمْسُ . فَقَالَ أُنَيْسٌ إِنَّ لِي حَاجَةً بِمَكَّةَ فَاكْفِنِي . فَانْطَلَقَ أُنَيْسٌ حَتَّى أَتَى مَكَّةَ فَرَاثَ عَلَىَّ ثُمَّ جَاءَ فَقُلْتُ مَا صَنَعْتَ قَالَ لَقِيتُ رَجُلاً بِمَكَّةَ عَلَى دِينِكَ يَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَهُ . قُلْتُ فَمَا يَقُولُ النَّاسُ قَالَ يَقُولُونَ شَاعِرٌ كَاهِنٌ سَاحِرٌ . وَكَانَ أُنَيْسٌ أَحَدَ الشُّعَرَاءِ . قَالَ أُنَيْسٌ لَقَدْ سَمِعْتُ قَوْلَ الْكَهَنَةِ فَمَا هُوَ بِقَوْلِهِمْ وَلَقَدْ وَضَعْتُ قَوْلَهُ عَلَى أَقْرَاءِ الشِّعْرِ فَمَا يَلْتَئِمُ عَلَى لِسَانِ أَحَدٍ بَعْدِي أَنَّهُ شِعْرٌ وَاللَّهِ إِنَّهُ لَصَادِقٌ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ . قَالَ قُلْتُ فَاكْفِنِي حَتَّى أَذْهَبَ فَأَنْظُرَ . قَالَ فَأَتَيْتُ مَكَّةَ فَتَضَعَّفْتُ رَجُلاً مِنْهُمْ فَقُلْتُ أَيْنَ هَذَا الَّذِي تَدْعُونَهُ الصَّابِئَ فَأَشَارَ إِلَىَّ فَقَالَ الصَّابِئَ . فَمَالَ عَلَىَّ أَهْلُ الْوَادِي بِكُلِّ مَدَرَةٍ وَعَظْمٍ حَتَّى خَرَرْتُ مَغْشِيًّا عَلَىَّ - قَالَ - فَارْتَفَعْتُ حِينَ ارْتَفَعْتُ كَأَنِّي نُصُبٌ أَحْمَرُ - قَالَ - فَأَتَيْتُ زَمْزَمَ فَغَسَلْتُ عَنِّي الدِّمَاءَ وَشَرِبْتُ مِنْ مَائِهَا وَلَقَدْ لَبِثْتُ يَا ابْنَ أَخِي ثَلاَثِينَ بَيْنَ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ مَا كَانَ لِي طَعَامٌ إِلاَّ مَاءُ زَمْزَمَ فَسَمِنْتُ حَتَّى تَكَسَّرَتْ عُكَنُ بَطْنِي وَمَا وَجَدْتُ عَلَى كَبِدِي سُخْفَةَ جُوعٍ - قَالَ - فَبَيْنَا أَهْلُ مَكَّةَ فِي لَيْلَةٍ قَمْرَاءَ إِضْحِيَانَ إِذْ ضُرِبَ عَلَى أَسْمِخَتِهِمْ فَمَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ أَحَدٌ وَامْرَأَتَيْنِ مِنْهُمْ تَدْعُوَانِ إِسَافًا وَنَائِلَةَ - قَالَ - فَأَتَتَا عَلَىَّ فِي طَوَافِهِمَا فَقُلْتُ أَنْكِحَا أَحَدَهُمَا الأُخْرَى - قَالَ - فَمَا تَنَاهَتَا عَنْ قَوْلِهِمَا - قَالَ - فَأَتَتَا عَلَىَّ فَقُلْتُ هَنٌ مِثْلُ الْخَشَبَةِ غَيْرَ أَنِّي لاَ أَكْنِي . فَانْطَلَقَتَا تُوَلْوِلاَنِ وَتَقُولاَنِ لَوْ كَانَ هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ أَنْفَارِنَا . قَالَ فَاسْتَقْبَلَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَهُمَا هَابِطَانِ قَالَ " مَا لَكُمَا " . قَالَتَا الصَّابِئُ بَيْنَ الْكَعْبَةِ وَأَسْتَارِهَا قَالَ " مَا قَالَ لَكُمَا " . قَالَتَا إِنَّهُ قَالَ لَنَا كَلِمَةً تَمْلأُ الْفَمَ . وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى اسْتَلَمَ الْحَجَرَ وَطَافَ بِالْبَيْتِ هُوَ وَصَاحِبُهُ ثُمَّ صَلَّى فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ قَالَ أَبُو ذَرٍّ . فَكُنْتُ أَنَا أَوَّلُ مَنْ حَيَّاهُ بِتَحِيَّةِ الإِسْلاَمِ - قَالَ - فَقُلْتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " وَعَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " . ثُمَّ قَالَ " مَنْ أَنْتَ " . قَالَ قُلْتُ مِنْ غِفَارٍ - قَالَ - فَأَهْوَى بِيَدِهِ فَوَضَعَ أَصَابِعَهُ عَلَى جَبْهَتِهِ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي كَرِهَ أَنِ انْتَمَيْتُ إِلَى غِفَارٍ . فَذَهَبْتُ آخُذُ بِيَدِهِ فَقَدَعَنِي صَاحِبُهُ وَكَانَ أَعْلَمَ بِهِ مِنِّي ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ قَالَ " مَتَى كُنْتَ هَا هُنَا " . قَالَ قُلْتُ قَدْ كُنْتُ هَا هُنَا مُنْذُ ثَلاَثِينَ بَيْنَ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ قَالَ " فَمَنْ كَانَ يُطْعِمُكَ " . قَالَ قُلْتُ مَا كَانَ لِي طَعَامٌ إِلاَّ مَاءُ زَمْزَمَ . فَسَمِنْتُ حَتَّى تَكَسَّرَتْ عُكَنُ بَطْنِي وَمَا أَجِدُ عَلَى كَبِدِي سُخْفَةَ جُوعٍ قَالَ " إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ إِنَّهَا طَعَامُ طُعْمٍ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِي طَعَامِهِ اللَّيْلَةَ . فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَانْطَلَقْتُ مَعَهُمَا فَفَتَحَ أَبُو بَكْرٍ بَابًا فَجَعَلَ يَقْبِضُ لَنَا مِنْ زَبِيبِ الطَّائِفِ وَكَانَ ذَلِكَ أَوَّلَ طَعَامٍ أَكَلْتُهُ بِهَا ثُمَّ غَبَرْتُ مَا غَبَرْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّهُ قَدْ وُجِّهَتْ لِي أَرْضٌ ذَاتُ نَخْلٍ لاَ أُرَاهَا إِلاَّ يَثْرِبَ فَهَلْ أَنْتَ مُبَلِّغٌ عَنِّي قَوْمَكَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَنْفَعَهُمْ بِكَ وَيَأْجُرَكَ فِيهِمْ " . فَأَتَيْتُ أُنَيْسًا فَقَالَ مَا صَنَعْتَ قُلْتُ صَنَعْتُ أَنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ وَصَدَّقْتُ . قَالَ مَا بِي رَغْبَةٌ عَنْ دِينِكَ فَإِنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ وَصَدَّقْتُ . فَأَتَيْنَا أُمَّنَا فَقَالَتْ مَا بِي رَغْبَةٌ عَنْ دِينِكُمَا فَإِنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ وَصَدَّقْتُ . فَاحْتَمَلْنَا حَتَّى أَتَيْنَا قَوْمَنَا غِفَارًا فَأَسْلَمَ نِصْفُهُمْ وَكَانَ يَؤُمُّهُمْ إِيمَاءُ بْنُ رَحَضَةَ الْغِفَارِيُّ وَكَانَ سَيِّدَهُمْ . وَقَالَ نِصْفُهُمْ إِذَا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ أَسْلَمْنَا . فَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَأَسْلَمَ نِصْفُهُمُ الْبَاقِي وَجَاءَتْ أَسْلَمُ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِخْوَتُنَا نُسْلِمُ عَلَى الَّذِي أَسْلَمُوا عَلَيْهِ . فَأَسْلَمُوا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " غِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ " .
৬২৫৩-(১৩২/২৪৭৩) হাদ্দাব ইবনু খালিদ আবাদী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের গিফার সম্প্রদায় হতে বের হলাম। তারা হারাম মাসগুলোকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করত। আমি আমার ভাই উনায়স এবং আমাদের মা সহ বের হলাম এবং আমরা আমাদের এক মামার নিকট গেলাম। মামা আমাদের অনেক সসম্মানে গ্রহণ করলেন এবং আমাদের সঙ্গে ভদ্রতাসূচক আচরণ করলেন। এতে তার সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা আমাদের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হল। তারা বলল, তুমি যখন তোমার পরিবার হতে দূরে থাকো তখন উনায়স তোমার অনুপস্থিতিতে তাদের নিকট আসা-যাওয়া করে। তারপর আমাদের মামা আসলেন এবং তাকে যা বলা হয়েছে তিনি তা আমাদের কাছে বলে দিলেন।
তখন আমি বললাম, আপনি আমাদের সঙ্গে অতীতে যে সদ্ব্যবহার করেছেন তাকে নিঃশেষ করে দিলেন। তারপর আপনার সাথে আমাদের এক থাকার কোন সুযোগ নেই। অতঃপর আমরা আমাদের উটগুলোকে সন্নিকটে আনলাম এবং তাদের উপর আরোহিত হলাম। তখন আমাদের মামা তার বস্ত্র দ্বারা নিজেকে আবৃত করে কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা রওনা হয়ে মক্কার নিকটবর্তী অবতরণ করলাম। উনায়স আমাদের পশুগুলো এবং সে পরিমাণ পশুর মাঝে বাজি ধরল। এরপর তারা উভয়ে এক গণকের নিকট গেল। গণক উনায়সকে শ্রেষ্ঠ বলে রায় দিল। তারপর উনায়স আমাদের উটগুলো এবং তার সমসংখ্যক উট নিয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাবর্তন করল।
আবূ যর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দেখা করার তিন বছর আগে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছি। আমি (রাবী) বললাম, কার জন্যে? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্যে। আমি (রাবী) বললাম, কোন দিকে মুখ ফিরাতেন? তিনি বললেন, আমার মহান আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে মুখ ফিরাতাম। আমি ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতে করতে রাতের শেষাংশে ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়তাম, যতক্ষণ না সূর্যের কিরল এসে আমার উপর পড়ত।
তারপর উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, মক্কায় আমার একটু দরকার আছে। সুতরাং আপনি আমার সংসার দেখাশুনা করবেন। তারপর উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) চলে গেল এবং মাক্কায় পৌছলো এবং সে দেরীতে আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কী করলে? সে বলল, আমি মাক্কায় কতিপয় জনৈক লোকের দেখা পেয়েছি, যিনি আপনার দীনের উপর অবিচল। তিনি মনে করেন যে, আল্লাহ তাকে (রসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন। আমি আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললাম, ব্যক্তিরা তার ব্যাপারে কী বলে? সে বলল, তারা তাকে কবি, জ্যোতিষী ও যাদুকর বলে। উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নিজেও একজন কবি ছিল। উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলল, আমি বহু গণকের কথা শুনেছি; কিন্তু সে লোকের কথা গণকের মতো নয়। আমি তার বাক্যকে কবিদের রচনার সাথে মিলিয়ে দেখেছি; কিন্তু কোন কবির ভাষার সঙ্গে তার কোন সামঞ্জস্য নেই। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং ওরা মিথ্যাবাদী।
তিনি বললেন, আমি বললাম, তুমি আমার সংসার খোঁজ-খবর রাখবে এবং আমি গিয়ে একটু দেখে নেই। তিনি বললেন, আমি মাক্কায় আসলাম এবং তাদের এক জীর্ণ লোককে উদ্দেশ্য করে বললাম, সে লোক কোথায়, যাকে তোমরা সাবী (বিধর্মী) বলে ডাক? সে আমার দিকে ইঙ্গিত করল এবং বলল, এ-ই সাবী। এরপর মক্কা পর্বতের ব্যক্তিরা ঢেলা ও হাড়সহ আমার উপর চড়াও হলো, এমনকি আমি অজ্ঞান হয়ে লুটে পড়লাম। তিনি বললেন, যখন আমি উঠলাম তখন লাল মূর্তির (অর্থাৎ- রক্তের ঢল) অবস্থায় উঠলাম। তিনি বলেন, তারপর আমি যমযম কূপের নিকট এসে আমার রক্ত ধুয়ে নিলাম। তারপর তার পানি পান করলাম। হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমি সেখানে ত্রিশ রাত-দিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় যমযমের পানি ব্যতীত আমার নিকট কোন খাবার ছিল না। এরপর আমি এমন মোটা হয়ে গেলাম যে, আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়ে গেল। আমি আমার অন্তরে ক্ষুধার যাতনা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, ইতোমধ্যে মাক্কাবাসীরা যখন এক উজ্জ্বল গভীর রাতে ঘুমিয়ে পড়ল, তখন কেউ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছিল না। সে সময় তাদের মধ্য থেকে দু'জন মহিলা ইসাফা* ও নায়িলাকে ডাকছিল।
তিনি বললেন, তারা তাওয়াফ করতে করতে আমার নিকট এসে উপস্থিত হল। আমি বললাম, তাদের একজনকে অপরজনের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ কর। তিনি বললেন, তবুও তারা তাদের কথা হতে বিচ্ছিন্ন হলো না। তিনি বলেন, তারা আবার আমার সামনে দিয়ে আসলো। আমি অধৈর্য হয়ে বললাম, গুপ্তাঙ্গ কাষ্ঠের ন্যায়। এখানে আমি ইশারা ইঙ্গিত না করে স্পষ্টভাবেই বললাম। এতে তারা অভিসম্পাত করতে করতে ফিরে চলল আর বলতে লাগল, যদি এখানে আমাদের লোকদের মাঝে কেউ থাকত (তাহলে এ দুষ্টকে উপযুক্ত শাস্তি দিত) পথিমধ্যে উভয় নারীর সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর দেখা হলো। তখন তারা উভয়ে উঁচুভূমি থেকে নীচে নামছিলেন। তিনি তাদের দু'জনকেই প্রশ্ন করলেন, কী হয়েছে তোমাদের? তারা বলল, কাবাহ ও তার পর্দার মধ্যস্থলে এক বিধর্মী আছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, সে তোমাদের কী বলেছে? তারা বলল, সে এমন কথা বলেছে যাতে মুখ ভরে যায় (মুখে বলা ঠিক না)।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তার সাথীসহ হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ'র তাওয়াফ করে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। যখন তিনি তার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় শেষ করলেন তখন আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমিই প্রথম লোক, যে তাকে ইসলামী শার'ঈ নিয়মে সালাম জানিয়ে বললাম, আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্লাহ! (আপনার প্রতি সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক)। উত্তরে তিনি বললেন, ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ্ (তোমার প্রতিও শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)। অতঃপর তিনি জানতে চাইলেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। তিনি বললেন, তারপর তিনি তার হাত ঝুকালেন এবং তার হাতের আঙ্গুলগুলো কপালে রাখলেন। আমি ধারণা করলাম, গিফার সম্প্রদায়ের প্রতি আমার সম্পর্ককে তিনি পছন্দ করছেন না। তারপর আমি তার হাত ধরতে চাইলাম। তার সাথী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি তাকে আমার তুলনায় বহু বেশী ভাল জানতেন।
অতঃপর তিনি মাথা তুলে দেখলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কতদিন যাবৎ এখানে অবস্থান করছ? আমি বললাম, আমি এখানে ত্রিশটি রাত্রদিন যাবৎ আছি। তিনি বললেন, তোমাকে কে খাদ্য দিত? আমি বললাম, যমযম কূপের পানি ব্যতীত আমার জন্য অন্য কোন খাদ্য ছিল না। এ পানি পান করেই আমি স্থূলদেহী হয়ে গেছি, এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়েছে এবং আমি কক্ষনো ক্ষুধার কোন দুর্বলতা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, এ পানি অতিশয় বারাকাতময় ও প্রাচুর্যময় এবং তা অন্যান্য খাবারের মতো তা পেট পূর্ণ করে দেয়।
তারপর আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! তাকে আজ রাতের খাবার খাওয়ানোর জন্য আমাকে অনুমতি দিন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রওনা হলেন এবং আমিও তাদের সঙ্গে চললাম। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একটি দরজা খুললেন এবং আমাদের জন্য তিনি মুষ্টি ভরে তায়িফের কিশমিশ খেতে দিলেন। এটাই ছিল আমার প্রথম খাদ্য যা সেখানে আমি খেলাম। সেখানে যতক্ষণ থাকার তা থাকলাম। তারপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, আমাকে খেজুর সমৃদ্ধ একটি দেশের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমার ধারণা সেটি ইয়াসরির (মাদীনার পুরনো নাম) ব্যতীত অন্য কোন জায়গা নয়। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি আমার পক্ষ থেকে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট আমার আহ্বান পৌছিয়ে দিবে? হয়ত তোমার ওয়াসীলায় আল্লাহ তাদের কল্যাণ দান করবেন এবং এদের হিদায়াতের জন্য তোমাকে পুরস্কৃত করবেন।
তারপর আমি উনায়সের নিকট প্রত্যাবর্তন করলাম। সে বলল, আপনি কী করেছেন? আমি বললাম, আমি অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছি। সে (উনায়স) বলল, আপনার দীন সম্পর্কে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবুল করেছি এবং ঈমান এনেছি। তারপর আমরা দু'জনে মায়ের নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তোমাদের দীনের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবূল করলাম এবং ঈমান আনলাম। তারপর আমরা আরোহিত হয়ে আমাদের গিফার সম্প্রদায়ের নিকট আসলাম। তাদের অর্ধেক লোক ইসলাম কবুল করল এবং ঈমা ইবনু রাহাযাহ্ গিফারী তাদের ইমামাত করেন।
তিনি ছিলেন তাদের নেতা। তাদের বাকী অর্ধেক বলল, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আসবেন তখন আমরা ইসলাম কবুল করব। তারপরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে আসলেন এবং তাদের (গিফার সম্প্রদায়ের) অবশিষ্ট অর্ধেক ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষিত হলো। এরপর আসলাম সম্প্রদায়ের লোকেরা আসলো। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের ভাইয়েরা (মিত্ররা) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমরাও তাদের ন্যায় ইসলাম গ্রহণ করলাম। এভাবে তারাও ইসলামে দীক্ষিত হলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ গিফার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তা'আলা মাফ করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তা'আলা নিরাপত্তা প্রদান করুন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৫, ইসলামিক সেন্টার ৬১৭৮)
তখন আমি বললাম, আপনি আমাদের সঙ্গে অতীতে যে সদ্ব্যবহার করেছেন তাকে নিঃশেষ করে দিলেন। তারপর আপনার সাথে আমাদের এক থাকার কোন সুযোগ নেই। অতঃপর আমরা আমাদের উটগুলোকে সন্নিকটে আনলাম এবং তাদের উপর আরোহিত হলাম। তখন আমাদের মামা তার বস্ত্র দ্বারা নিজেকে আবৃত করে কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা রওনা হয়ে মক্কার নিকটবর্তী অবতরণ করলাম। উনায়স আমাদের পশুগুলো এবং সে পরিমাণ পশুর মাঝে বাজি ধরল। এরপর তারা উভয়ে এক গণকের নিকট গেল। গণক উনায়সকে শ্রেষ্ঠ বলে রায় দিল। তারপর উনায়স আমাদের উটগুলো এবং তার সমসংখ্যক উট নিয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাবর্তন করল।
আবূ যর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দেখা করার তিন বছর আগে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছি। আমি (রাবী) বললাম, কার জন্যে? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্যে। আমি (রাবী) বললাম, কোন দিকে মুখ ফিরাতেন? তিনি বললেন, আমার মহান আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে মুখ ফিরাতাম। আমি ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতে করতে রাতের শেষাংশে ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়তাম, যতক্ষণ না সূর্যের কিরল এসে আমার উপর পড়ত।
তারপর উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, মক্কায় আমার একটু দরকার আছে। সুতরাং আপনি আমার সংসার দেখাশুনা করবেন। তারপর উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) চলে গেল এবং মাক্কায় পৌছলো এবং সে দেরীতে আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কী করলে? সে বলল, আমি মাক্কায় কতিপয় জনৈক লোকের দেখা পেয়েছি, যিনি আপনার দীনের উপর অবিচল। তিনি মনে করেন যে, আল্লাহ তাকে (রসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন। আমি আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললাম, ব্যক্তিরা তার ব্যাপারে কী বলে? সে বলল, তারা তাকে কবি, জ্যোতিষী ও যাদুকর বলে। উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নিজেও একজন কবি ছিল। উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলল, আমি বহু গণকের কথা শুনেছি; কিন্তু সে লোকের কথা গণকের মতো নয়। আমি তার বাক্যকে কবিদের রচনার সাথে মিলিয়ে দেখেছি; কিন্তু কোন কবির ভাষার সঙ্গে তার কোন সামঞ্জস্য নেই। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং ওরা মিথ্যাবাদী।
তিনি বললেন, আমি বললাম, তুমি আমার সংসার খোঁজ-খবর রাখবে এবং আমি গিয়ে একটু দেখে নেই। তিনি বললেন, আমি মাক্কায় আসলাম এবং তাদের এক জীর্ণ লোককে উদ্দেশ্য করে বললাম, সে লোক কোথায়, যাকে তোমরা সাবী (বিধর্মী) বলে ডাক? সে আমার দিকে ইঙ্গিত করল এবং বলল, এ-ই সাবী। এরপর মক্কা পর্বতের ব্যক্তিরা ঢেলা ও হাড়সহ আমার উপর চড়াও হলো, এমনকি আমি অজ্ঞান হয়ে লুটে পড়লাম। তিনি বললেন, যখন আমি উঠলাম তখন লাল মূর্তির (অর্থাৎ- রক্তের ঢল) অবস্থায় উঠলাম। তিনি বলেন, তারপর আমি যমযম কূপের নিকট এসে আমার রক্ত ধুয়ে নিলাম। তারপর তার পানি পান করলাম। হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমি সেখানে ত্রিশ রাত-দিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় যমযমের পানি ব্যতীত আমার নিকট কোন খাবার ছিল না। এরপর আমি এমন মোটা হয়ে গেলাম যে, আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়ে গেল। আমি আমার অন্তরে ক্ষুধার যাতনা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, ইতোমধ্যে মাক্কাবাসীরা যখন এক উজ্জ্বল গভীর রাতে ঘুমিয়ে পড়ল, তখন কেউ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছিল না। সে সময় তাদের মধ্য থেকে দু'জন মহিলা ইসাফা* ও নায়িলাকে ডাকছিল।
তিনি বললেন, তারা তাওয়াফ করতে করতে আমার নিকট এসে উপস্থিত হল। আমি বললাম, তাদের একজনকে অপরজনের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ কর। তিনি বললেন, তবুও তারা তাদের কথা হতে বিচ্ছিন্ন হলো না। তিনি বলেন, তারা আবার আমার সামনে দিয়ে আসলো। আমি অধৈর্য হয়ে বললাম, গুপ্তাঙ্গ কাষ্ঠের ন্যায়। এখানে আমি ইশারা ইঙ্গিত না করে স্পষ্টভাবেই বললাম। এতে তারা অভিসম্পাত করতে করতে ফিরে চলল আর বলতে লাগল, যদি এখানে আমাদের লোকদের মাঝে কেউ থাকত (তাহলে এ দুষ্টকে উপযুক্ত শাস্তি দিত) পথিমধ্যে উভয় নারীর সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর দেখা হলো। তখন তারা উভয়ে উঁচুভূমি থেকে নীচে নামছিলেন। তিনি তাদের দু'জনকেই প্রশ্ন করলেন, কী হয়েছে তোমাদের? তারা বলল, কাবাহ ও তার পর্দার মধ্যস্থলে এক বিধর্মী আছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, সে তোমাদের কী বলেছে? তারা বলল, সে এমন কথা বলেছে যাতে মুখ ভরে যায় (মুখে বলা ঠিক না)।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তার সাথীসহ হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ'র তাওয়াফ করে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। যখন তিনি তার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় শেষ করলেন তখন আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমিই প্রথম লোক, যে তাকে ইসলামী শার'ঈ নিয়মে সালাম জানিয়ে বললাম, আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্লাহ! (আপনার প্রতি সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক)। উত্তরে তিনি বললেন, ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ্ (তোমার প্রতিও শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)। অতঃপর তিনি জানতে চাইলেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। তিনি বললেন, তারপর তিনি তার হাত ঝুকালেন এবং তার হাতের আঙ্গুলগুলো কপালে রাখলেন। আমি ধারণা করলাম, গিফার সম্প্রদায়ের প্রতি আমার সম্পর্ককে তিনি পছন্দ করছেন না। তারপর আমি তার হাত ধরতে চাইলাম। তার সাথী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি তাকে আমার তুলনায় বহু বেশী ভাল জানতেন।
অতঃপর তিনি মাথা তুলে দেখলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কতদিন যাবৎ এখানে অবস্থান করছ? আমি বললাম, আমি এখানে ত্রিশটি রাত্রদিন যাবৎ আছি। তিনি বললেন, তোমাকে কে খাদ্য দিত? আমি বললাম, যমযম কূপের পানি ব্যতীত আমার জন্য অন্য কোন খাদ্য ছিল না। এ পানি পান করেই আমি স্থূলদেহী হয়ে গেছি, এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়েছে এবং আমি কক্ষনো ক্ষুধার কোন দুর্বলতা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, এ পানি অতিশয় বারাকাতময় ও প্রাচুর্যময় এবং তা অন্যান্য খাবারের মতো তা পেট পূর্ণ করে দেয়।
তারপর আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! তাকে আজ রাতের খাবার খাওয়ানোর জন্য আমাকে অনুমতি দিন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রওনা হলেন এবং আমিও তাদের সঙ্গে চললাম। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একটি দরজা খুললেন এবং আমাদের জন্য তিনি মুষ্টি ভরে তায়িফের কিশমিশ খেতে দিলেন। এটাই ছিল আমার প্রথম খাদ্য যা সেখানে আমি খেলাম। সেখানে যতক্ষণ থাকার তা থাকলাম। তারপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, আমাকে খেজুর সমৃদ্ধ একটি দেশের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমার ধারণা সেটি ইয়াসরির (মাদীনার পুরনো নাম) ব্যতীত অন্য কোন জায়গা নয়। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি আমার পক্ষ থেকে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট আমার আহ্বান পৌছিয়ে দিবে? হয়ত তোমার ওয়াসীলায় আল্লাহ তাদের কল্যাণ দান করবেন এবং এদের হিদায়াতের জন্য তোমাকে পুরস্কৃত করবেন।
তারপর আমি উনায়সের নিকট প্রত্যাবর্তন করলাম। সে বলল, আপনি কী করেছেন? আমি বললাম, আমি অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছি। সে (উনায়স) বলল, আপনার দীন সম্পর্কে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবুল করেছি এবং ঈমান এনেছি। তারপর আমরা দু'জনে মায়ের নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তোমাদের দীনের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবূল করলাম এবং ঈমান আনলাম। তারপর আমরা আরোহিত হয়ে আমাদের গিফার সম্প্রদায়ের নিকট আসলাম। তাদের অর্ধেক লোক ইসলাম কবুল করল এবং ঈমা ইবনু রাহাযাহ্ গিফারী তাদের ইমামাত করেন।
তিনি ছিলেন তাদের নেতা। তাদের বাকী অর্ধেক বলল, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আসবেন তখন আমরা ইসলাম কবুল করব। তারপরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে আসলেন এবং তাদের (গিফার সম্প্রদায়ের) অবশিষ্ট অর্ধেক ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষিত হলো। এরপর আসলাম সম্প্রদায়ের লোকেরা আসলো। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের ভাইয়েরা (মিত্ররা) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমরাও তাদের ন্যায় ইসলাম গ্রহণ করলাম। এভাবে তারাও ইসলামে দীক্ষিত হলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ গিফার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তা'আলা মাফ করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তা'আলা নিরাপত্তা প্রদান করুন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৫, ইসলামিক সেন্টার ৬১৭৮)
Haddab ibn Khalid al-Azdi narrated to us, Sulayman ibn al-Mughirah narrated to us, Humayd ibn Hilal informed us, from Abdullah ibn al-Samit, who said: Abu Dharr said: We set out from our people, Ghifar, and they used to consider the sacred month permissible. I, my brother Unays, and our mother set out, and we stayed with an uncle of ours. Our uncle honored us and treated us well, but his people became envious of us and said: "When you leave your family, Unays goes to them." Our uncle came and told us what had been said to him. I said to him: "As for the kindness you have shown in the past, you have spoiled it, and there is no further association with you." So we brought our herd of camels near, loaded them, and departed. Our uncle covered himself with his garment and began to weep. We went on until we camped in the vicinity of Mecca. Then Unays competed with our herd against an equal one, and they went to a soothsayer, who favored Unays. Unays came back with our herd and an equal one with it.
He said: And I had prayed, O son of my brother, three years before I met the Messenger of Allah, peace and blessings be upon him. I said: To whom? He said: To Allah. I said: And in which direction did you turn? He said: I turn wherever my Lord directs me, praying at nightfall until, at the end of the night, I would be thrown down as if I were a cloak until the sun rose over me. Then Unays said: I have a need in Mecca, so spare me. Unays went until he reached Mecca, then he was delayed, then he came back. I said: What did you do? He said: I met a man in Mecca who follows your religion, claiming that Allah sent him. I said: And what do the people say? He said: They say he is a poet, a soothsayer, a sorcerer. And Unays was one of the poets. Unays said: I have heard the speech of soothsayers, and it is not their speech. I have placed his words upon the meters of poetry, and it does not fit on the tongue of anyone after me that it is poetry. By Allah, he is truthful, and they are liars.
He said: I said: Then spare me until I go and see. He said: So I came to Mecca and I sought out a weak man among them. I said: Where is this one you call the Sabian? He pointed to me and said: The Sabian. Then the people of the valley fell upon me with every clod of earth and bone until I fell unconscious. He said: Then I rose when I rose as if I were a red idol. He said: Then I came to Zamzam and washed the blood from myself and drank from its water. And indeed, O son of my brother, I remained thirty nights and days with no food but the water of Zamzam, and I grew fat until the folds of my belly split, and I found no hunger pangs on my liver.
He said: While the people of Mecca were in a bright moonlit night, their heads were struck with drowsiness, and no one was circumambulating the House except two women of theirs who were calling upon Isaf and Na'ilah. He said: They passed by me in their circumambulation, and I said: Marry one of you to the other. He said: They did not stop their words. He said: They passed by me again, and I said: A piece of wood like a stick, except I do not use a euphemism. They went off wailing and saying: If only one of our men were here. He said: The Messenger of Allah, peace and blessings be upon him, and Abu Bakr met them as they were descending. He said: What is the matter with you two? They said: The Sabian is between the Kaaba and its curtains. He said: What did he say to you? They said: He said to us a word that fills the mouth.
And the Messenger of Allah, peace and blessings be upon him, came until he touched the Black Stone and circumambulated the House, he and his companion, then he prayed. When he finished his prayer, Abu Dharr said: I was the first to greet him with the greeting of Islam. He said: I said: Peace be upon you, O Messenger of Allah. He said: And upon you be peace and the mercy of Allah. Then he said: Who are you? He said: I said: From Ghifar. He said: He reached with his hand and placed his fingers on his forehead. I said to myself: He disliked that I attributed myself to Ghifar. I went to take his hand, but his companion restrained me, and he knew him better than I. Then he raised his head and said: When were you here? He said: I said: I have been here for thirty nights and days. He said: And who was feeding you? He said: I said: I had no food but the water of Zamzam, and I grew fat until the folds of my belly split, and I find no hunger pangs on my liver. He said: It is blessed, it is food that satisfies. Then Abu Bakr said: O Messenger of Allah, permit me to host him tonight. So the Messenger of Allah, peace and blessings be upon him, and Abu Bakr went, and I went with them. Abu Bakr opened a door and began to give us raisins from Ta'if,
Sign in to report a translation.
He said: And I had prayed, O son of my brother, three years before I met the Messenger of Allah, peace and blessings be upon him. I said: To whom? He said: To Allah. I said: And in which direction did you turn? He said: I turn wherever my Lord directs me, praying at nightfall until, at the end of the night, I would be thrown down as if I were a cloak until the sun rose over me. Then Unays said: I have a need in Mecca, so spare me. Unays went until he reached Mecca, then he was delayed, then he came back. I said: What did you do? He said: I met a man in Mecca who follows your religion, claiming that Allah sent him. I said: And what do the people say? He said: They say he is a poet, a soothsayer, a sorcerer. And Unays was one of the poets. Unays said: I have heard the speech of soothsayers, and it is not their speech. I have placed his words upon the meters of poetry, and it does not fit on the tongue of anyone after me that it is poetry. By Allah, he is truthful, and they are liars.
He said: I said: Then spare me until I go and see. He said: So I came to Mecca and I sought out a weak man among them. I said: Where is this one you call the Sabian? He pointed to me and said: The Sabian. Then the people of the valley fell upon me with every clod of earth and bone until I fell unconscious. He said: Then I rose when I rose as if I were a red idol. He said: Then I came to Zamzam and washed the blood from myself and drank from its water. And indeed, O son of my brother, I remained thirty nights and days with no food but the water of Zamzam, and I grew fat until the folds of my belly split, and I found no hunger pangs on my liver.
He said: While the people of Mecca were in a bright moonlit night, their heads were struck with drowsiness, and no one was circumambulating the House except two women of theirs who were calling upon Isaf and Na'ilah. He said: They passed by me in their circumambulation, and I said: Marry one of you to the other. He said: They did not stop their words. He said: They passed by me again, and I said: A piece of wood like a stick, except I do not use a euphemism. They went off wailing and saying: If only one of our men were here. He said: The Messenger of Allah, peace and blessings be upon him, and Abu Bakr met them as they were descending. He said: What is the matter with you two? They said: The Sabian is between the Kaaba and its curtains. He said: What did he say to you? They said: He said to us a word that fills the mouth.
And the Messenger of Allah, peace and blessings be upon him, came until he touched the Black Stone and circumambulated the House, he and his companion, then he prayed. When he finished his prayer, Abu Dharr said: I was the first to greet him with the greeting of Islam. He said: I said: Peace be upon you, O Messenger of Allah. He said: And upon you be peace and the mercy of Allah. Then he said: Who are you? He said: I said: From Ghifar. He said: He reached with his hand and placed his fingers on his forehead. I said to myself: He disliked that I attributed myself to Ghifar. I went to take his hand, but his companion restrained me, and he knew him better than I. Then he raised his head and said: When were you here? He said: I said: I have been here for thirty nights and days. He said: And who was feeding you? He said: I said: I had no food but the water of Zamzam, and I grew fat until the folds of my belly split, and I find no hunger pangs on my liver. He said: It is blessed, it is food that satisfies. Then Abu Bakr said: O Messenger of Allah, permit me to host him tonight. So the Messenger of Allah, peace and blessings be upon him, and Abu Bakr went, and I went with them. Abu Bakr opened a door and began to give us raisins from Ta'if,
সহীহ মুসলিম (6253)