1988 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ الْحَافِظُ، بِتُسْتَرَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ نَافِعٍ، [ص:327] عَنِ ابْنِ عُمَرَ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَدْعُو عَلَى أَقْوَامٍ فِي قُنُوتِهِ»، فَأَنْزَلَ اللَّهُ: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ} [آل عمران: 128] [5: 16]
رقم طبعة با وزير = (1985) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذَا الْخَبَرُ قَدْ يُوهِمُ مَنْ لَمْ يُمْعِنِ النَّظَرَ فِي مُتُونِ الْأَخْبَارِ، وَلَا يَفْقَهُ فِي صَحِيحِ الْآثَارِ، أَنَّ الْقُنُوتَ فِي الصَّلَوَاتِ مَنْسُوخٌ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ؛ لِأَنَّ خَبَرَ ابْنِ عُمَرَ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ، أَنَّ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَلْعَنُ فُلَانًا وَفُلَانًا فَأَنْزَلَ اللَّهُ {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} [آل عمران: 128] فِيهِ الْبَيَانُ الْوَاضِحُ لِمَنْ وَفَّقَهُ اللَّهُ لِلسَّدَادِ، وَهُدَاهُ لِسُلُوكِ الصَّوَابِ، أَنَّ اللَّعْنَ عَلَى الْكُفَّارِ وَالْمُنَافِقِينَ فِي الصَّلَاةِ غَيْرُ مَنْسُوخٍ، وَلَا الدُّعَاءَ لِلْمُسْلِمِينَ، وَالدَّلِيلُ عَلَى صِحَّةِ هَذَا قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي خَبَرِ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَمَا تَرَاهُمْ وَقَدْ قَدِمُوا؟ تُبَيِّنُ لَكَ هَذِهِ اللَّفْظَةُ أَنَّهُمْ لَوْلَا أَنَّهُمْ قَدِمُوا وَنَجَّاهُمُ اللَّهُ مِنْ أَيْدِي الْكُفَّارِ [ص:328] لِأَثْبَتَ الْقُنُوتَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَدَاوَمَ عَلَيْهِ، عَلَى أَنَّ فِي قَوْلِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ} [آل عمران: 128] لَيْسَ فِيهِ الْبَيَانُ بِأَنَّ اللَّعْنَ عَلَى الْكُفَّارِ أَيْضًا مَنْسُوخٌ، وَإِنَّمَا هَذِهِ آيَةٌ فِيهَا الْإِعْلَامُ بِأَنَّ الْقُنُوتَ عَلَى الْكُفَّارِ لَيْسَ مِمَّا يُغْنِيهِمْ عَمَّا قَضَى عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبُهُمْ يُرِيدُ: بِالْإِسْلَامِ يَتُوبُ عَلَيْهِمْ، أَوْ بِدَوَامِهِمْ عَلَى الشِّرْكِ يُعَذِّبُهُمْ، لَا أَنَّ الْقُنُوتَ مَنْسُوخٌ بِالْآيَةِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا»تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - خ (4069 و 4070). تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم.
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু সম্প্রদায়ের উপর কুনূত নাযেলাহ বা বদ দু‘আ করতেন। তারপর মহান আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন, لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ (বিষয়টিতে আপনার কোন অধিকার নেই, অথবা তিনি তাদের তাওবা কবূল করবেন অথবা তিনি তাদের শাস্তি দিবেন কেননা তারা জালিম। -সূরা আল ইমরান: ১২৮।)[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি হাদীসের মূল বক্তব্যে গভীর দৃষ্টিপাত করেনি এবং সহীহ হাদীসসমূহ অনুধাবন করেনি তাকে এই হাদীসটি কখনো কখনো এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো মানসূখ বা রহিত। অথচ ব্যাপারটি এমন নয়। কেননা আমাদের উল্লেখিত আব্দুল্লাহ বিন উমার উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীসে বলা হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওমুক, ওমুক ব্যক্তির উপর লা‘নত করেন, তখন মহান আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন, لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ (বিষয়টিতে আপনার কোন অধিকার নেই। -সূরা আল ইমরান: ১২৮।) যাকে মহান আল্লাহ সঠিক পথ চলার তাওফীক ও হেদায়েত দিয়েছেন, তার জন্য এখানে স্পষ্ট দলীল রয়েছে যে, কাফের ও মুনাফিকদের জন্য বদ দু‘আ আর মু‘মিন ব্যক্তিদের জন্য দু‘আ করার ব্যাপারটি মানসুখ বা রহিত হয়ে যায় নি। আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার বিশুদ্ধতার পক্ষে প্রমাণ করে আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তুমি কি দেখছো না যে, তারা চলে এসেছে?” এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, যদি সেসব মাযলূম মুসলিমরা যদি কাফেরদের থেকে মুক্তি পেয়ে মদীনায় না আসতো, তবে নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুনূতে নাযেলাহ পাঠ করা অব্যাহত রাখতেন। এছাড়াও মহান আল্লাহর বাণী, لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ (বিষয়টিতে আপনার কোন অধিকার নেই, অথবা তিনি তাদের তাওবা কবূল করবেন অথবা তিনি তাদের শাস্তি দিবেন কেননা তারা জালিম। -সূরা আল ইমরান: ১২৮।) এতে এটা বলা হয়নি যে, কাফেরদের প্রতি লা‘নত করা মানুসূখ বা রহিত করা হয়েছে। বস্তুত আয়াতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কাফেরদের উপর কুনূত পাঠ তাদেরকে আল্লাহর ফায়সালা থেকে রক্ষা করতে পারবে না অথবা তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন। উদ্দেশ্য হলো ইসলাম গ্রহণ করার কারণে হয়তো তাদের তাওবা কবূল করবেন অথবা শিরকের উপর তাদের অটল থাকার কারণে তাদেরকে শাস্তি দিবেন; এটা উদ্দেশ্য নয় যে, উল্লেখিত আয়াতের মাধ্যমে কুনূত পড়া রহিত করা হয়েছে।”







[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৪০২৭; মুসনাদ আহমাদ: ২/১০৪; নাসাঈ: ২/২০৩; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২৪২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৬২৩; সহীহ আল বুখারী: ৪০৬৯; সুনান বাইহাকী: ২/১৯৮; তাবারানী: ১৩১১৩; তিরমিযী: ৩০০৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ সুনান আন নাসাঈ: ১০৩৩)

সহীহ ইবনু হিব্বান (1988)