قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: فَأَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ خَرَجَ، وَعُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُكَلِّمُ النَّاسَ، فَقَالَ: «اجْلِسْ»، فَأَبَى، فَقَالَ: «اجْلِسْ»، فَأَبَى، فَتَشَهَّدَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَمَالَ إِلَيْهِ النَّاسُ، وَتَرَكُوا عُمَرَ، فَقَالَ: " أَمَّا بَعْدُ، فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ مَاتَ، وَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللَّهَ، فَإِنَّ اللَّهَ حَيٌّ لَا يَمُوتُ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ} [آل عمران: 144] إِلَى {الشَّاكِرِينَ} [آل عمران: 144] " وَاللَّهِ لَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَكُونُوا يَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَهَا حَتَّى تَلَاهَا أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَتَلَقَّاهَا مِنْهُ النَّاسُ، فَمَا يُسْمَعُ بَشَرٌ إِلَّا يَتْلُوهَ
আবূ সালামা (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বলেছেন, (রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর খবর পেয়ে) আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) 'সুন্হ' -এ অবস্থিত তাঁর বাড়ি হতে ঘোড়ায় চড়ে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকজনদের সঙ্গে কোন কথা না বলে ‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ঘরে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি ‘হিবারাহ’ ইয়ামানী চাদরে আবৃত ছিলেন। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখমন্ডল উন্মুক্ত করে তাঁর উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, অতঃপর ক্রন্দন করতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর নবী ! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আল্লাহ্‌ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্র করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য অবধারিত ছিল তা তো আপনি কবূল করেছেন।

আবূ সালামা (রাহিঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে খবর দিয়েছিলেন যে, (তারপর) আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বাহিরে এলেন। তখন ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) লোকজনের সাথে বাক্যালাপ করছিলেন। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন। তিনি তা মানলেন না। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন, তিনি তা মানলেন না। তখন আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কালিমা-ই-শাহাদাতের দ্বারা (বক্তব্য) আরম্ভ করলেন। লোকেরা ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ছেড়ে তাঁর দিকে আকৃষ্ট হন। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন.....আম্‌মা বা'দু , তোমাদের মাঝে যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইবাদত করতে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যই মারা গেছেন। আর যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করতে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ চিরঞ্জীব, অমর। মহান আল্লাহ্‌ ইরশাদ করেনঃ وَمَا مُحَمَّدٌ الَّا رَسُوْلُ-------- اِلى الشَّاكِرِينَ (যার অর্থ) মুহাম্মাদ একজন রাসূল মাত্র আর কিছু নন। তার পূর্বেও অনেক রাসূল চলে গেছেন। অতএব যদি তিনি মারা যান অথবা নিহত হন তাহলে কি তোমরা পায়ের গোড়ালিতে ভর করে পেছনে ফিরে যাবে? আর যদি কেউ সেরূপ পেছনে ফিরেও যায়, তবে সে কখনও আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ অতি সত্বর কৃতজ্ঞদের পুরস্কার দিবেন-(আল-ইমরানঃ ১১৪)। আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর তিলওয়াত করার পূর্বে লোকদের জানাই ছিল না যে, আল্লাহ্‌ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেছেন। এখনই যেন লোকেরা আয়াতখানি তার কাছ থেকে পেলেন। প্রতিটি মানুষকেই তখন ঐ আয়াত তিলায়াত করতে শোনা গেল।

সহীহুল বুখারী (1242)