Arabic source text

সুনান আত-তিরমিযী

সুনান আত-তিরমিযী

Show
Leave blank for the whole book.
Print / save PDF
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، أَخْبَرَنَا مَيْمُونٌ أَبُو حَمْزَةَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، مَوْلَى طَلْحَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غُلاَمًا لَنَا يُقَالُ لَهُ أَفْلَحُ إِذَا سَجَدَ نَفَخَ فَقَالَ ‏ "‏ يَا أَفْلَحُ تَرِّبْ وَجْهَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ وَكَرِهَ عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ النَّفْخَ فِي الصَّلاَةِ وَقَالَ إِنْ نَفَخَ لَمْ يَقْطَعْ صَلاَتَهُ ‏.‏ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ وَبِهِ نَأْخُذُ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ هَذَا الْحَدِيثَ وَقَالَ مَوْلًى لَنَا يُقَالُ لَهُ رَبَاحٌ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيفتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسن، مشکوۃ المصابیح (1002) قال الامام الترمذی: ’’إسنادہ لیس بذاک و، میمون أبو حمزۃ قد ضعفہ بعض أھل العلم‘‘، قلت: میمون الأعور توبع وأبو صالح، مولٰی طلحۃ: حسن الحدیث، صحح لہ الحاکم (1/ 271) والذہبیتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف لضعف ميمون الأعور، وهو في "مسند أحمد" (٢٦٥٧٢) و (٢٦٧٤٤)، و"صحيح ابن حبان" (١٩١٣). وانظر تتمة الكلام عليه في "المسند"
উম্মু সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আফলাহ নামের যুবককে দেখলেন, সে যখন সিজদায় যায় তখন ফুঁ দিয়ে ধুলা সরায়। তিনি বললেনঃ হে আফলাহ! তোমার চেহারায় ধুলা বালি লাগাও।



যঈফ, তালীকুর রাগীব (১/১৯৩), মিশকাত (১০০২), যঈফাহ (৫৪৮৫)।



আহমাদ ইবনু মানী বলেন, আব্বাদ ইবনু আওয়াম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নামাযের মধ্যে ফুঁ দেয়া মাকরূহ মনে করতেন। তিনি বলেছেন, এরূপ করলে নামায অবশ্য নষ্ট হবে না। আহমাদ ইবনু মানী বলেনঃ আমি এই অভিমত সমর্থন করি। অপর এক বর্ণনায় এ যুবকের নাম ‘রাবাহ’ বলে উল্লেখ আছে।

সুনান আত-তিরমিযী (381)

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مَيْمُونٍ أَبِي حَمْزَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَقَالَ غُلاَمٌ لَنَا يُقَالُ لَهُ رَبَاحٌ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أُمِّ سَلَمَةَ إِسْنَادُهُ لَيْسَ بِذَاكَ ‏.‏ وَمَيْمُونٌ أَبُو حَمْزَةَ قَدْ ضَعَّفَهُ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ ‏.‏ وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي النَّفْخِ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنْ نَفَخَ فِي الصَّلاَةِ اسْتَقْبَلَ الصَّلاَةَ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُكْرَهُ النَّفْخُ فِي الصَّلاَةِ وَإِنْ نَفَخَ فِي صَلاَتِهِ لَمْ تَفْسُدْ صَلاَتُهُ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسنتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: ضعيف، وانظر ما قبله
আহমাদ ইবনু আবদা আয-যাব্বী হতে বর্ণিত, আহমাদ ইবনু আবদা আয-যাব্বী হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি মাইমূন হতে….. উক্ত সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনায় গোলামের নাম রাবাহ উল্লেখিত হয়েছে।







আবূ ঈসা বলেনঃ উম্মু সালামার হাদীসের সনদ তেমন একটা সুবিধাজনক নয়। মাইমুন-আবূ হামাযাকে কিছু বিশেষজ্ঞ দুর্বল বলেছেন। নামাযের মধ্যে ফুঁ দেয়া প্রসঙ্গে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল আছে। একদল বলেছেন, নামাযের মধ্যে ফুঁ দিলে আবার নামায আদায় করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণ এ মত ব্যক্ত করেছেন। অপরদল বলেছেন, এটা মাকরূহ, তবে এতে নামায নষ্ট হবে না। আহমাদ ও ইসহাক এ কথা বলেছেন।



-

সুনান আত-তিরমিযী (382)

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ مُخْتَصِرًا ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الاِخْتِصَارَ فِي الصَّلاَةِ ‏.‏ وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ أَنْ يَمْشِيَ الرَّجُلُ مُخْتَصِرًا ‏.‏ وَالاِخْتِصَارُ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ يَدَهُ عَلَى خَاصِرَتِهِ فِي الصَّلاَةِ أَوْ يَضَعَ يَدَيْهِ جَمِيعًا عَلَى خَاصِرَتَيْهِ ‏.‏ وَيُرْوَى أَنَّ إِبْلِيسَ إِذَا مَشَى مَشَى مُخْتَصِرًا ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيحتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه البخاري (١٢١٩) و (١٢٢٠)، ومسلم (٥٤٥)، وأبو داود (٩٤٧)، والنسائي ٢/ ١٢٧، وهو في "مسند أحمد" (٧١٧٥)، و"صحيح ابن حبان" (٢٢٨٥)
আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে কোন ব্যক্তিকে কোমরে হাত রেখে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।



সহীহ্‌। সিফাতুস সালাত-(৬৯), সহীহ্‌ আবূ দাঊদ-(৮৭৩), রাওয-(১১৫২), ইরওয়া-(৩৭৪), বুখারী ও মুসলিম।



এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরায়রার হাদীসটি হাসান সহীহ্‌। একদল বিশেষজ্ঞ কোমরে হাত দিয়ে নামাযে দাঁড়ানো মাকরূহ বলেছেন। অপর একদল বিদ্বান কোমরে হাত রেখে হাঁটা মাকরূহ বলেছেন। নামাযের মধ্যে এক হাত অথবা দুই হাত কোমরে রাখাকে ইখতিসার বলে। বর্ণিত আছে, ইবলীস পথ চলার সময় কোমরে হাত রেখে চলে।

সুনান আত-তিরমিযী (383)

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، أَنَّهُ مَرَّ بِالْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ وَهُوَ يُصَلِّي وَقَدْ عَقَصَ ضَفِرَتَهُ فِي قَفَاهُ فَحَلَّهَا فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ الْحَسَنُ مُغْضَبًا فَقَالَ أَقْبِلْ عَلَى صَلاَتِكَ وَلاَ تَغْضَبْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ ذَلِكَ كِفْلُ الشَّيْطَانِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي رَافِعٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ وَهُوَ مَعْقُوصٌ شَعْرُهُ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَعِمْرَانُ بْنُ مُوسَى هُوَ الْقُرَشِيُّ الْمَكِّيُّ وَهُوَ أَخُو أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسنتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ حسنتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح لغيره، وأخرجه أبو داود (٦٤٦)، وهو في "مسند أحمد" (٢٣٨٥٦) و (٢٣٨٧٨)، و"صحيح ابن حبان" (٢٢٧٩)، وانظر تمام التعليق عليه في "المسند" ورواه ابن ماجه (١٠٤٢)، وفي سنده أبو سعد رجل من أهل المدينة، فقال المزي في "التحفة": هو شرحبيل بن سعد، وقال الحافظ في "النكت الظراف": في جزمه بأنه شرحبيل بن سعد نظر، وشرحبيل بن سعد ضعيف. وفي باب النهي عن الصلاة وهو عاقص شعره: عن علي أخرجه أحمد (١٢٤٤)، وإسناده ضعيف. وعن ابن عباس، أخرجه مسلم (٤٩٢)، وهو عند أحمد (٢٧٦٧). وقوله: "عقص" أي: لوى شعره، وأدخل أطرافه في أصوله. وقوله: "ضفرته" أي: المضفور من الشعر، وأصل الضفر: الفتل، والضفير والضفائر هي العقائص المضفورة، قاله الخطابي
আবূ রাফি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি হাসান ইবনু ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি নামায আদায় করছিলেন। তাঁর চুল ঘাড়ের নিকট বাঁধা ছিল। তিনি (আবূ রাফি) তা খুলে দিলেন। এতে হাসান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাগান্বিত হয়ে তাঁর দিকে তাকালেন। তিনি (আবূ রাফি) বললেন, নামাযে মনোনিবেশ কর, রাগ কর না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, এটা (নামাযে চুল বাঁধা) শাইতানের অংশ।



হাসান। সহীহ্‌ আবূ দাঊদ-(৬৫৩)।



এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামা ও ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ রাফির হাদীসটি হাসান। বিদ্বানগন এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁরা ঘাড়ের নিকট চুল বাঁধা রেখে নামায আদায় করা মাকরূহ বলেছেন।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ইমরান ইবনু মূসা মক্কাবাসী কুরাইশ, তিনি আইয়ুব ইবনু মূসার ভাই।

সুনান আত-তিরমিযী (384)

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعِ ابْنِ الْعَمْيَاءِ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الصَّلاَةُ مَثْنَى مَثْنَى تَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَخَشَّعُ وَتَضَرَّعُ وَتَمَسْكَنُ وَتَذَرَّعُ وَتُقْنِعُ يَدَيْكَ يَقُولُ تَرْفَعُهُمَا إِلَى رَبِّكَ مُسْتَقْبِلاً بِبُطُونِهِمَا وَجْهَكَ وَتَقُولُ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهُوَ كَذَا وَكَذَا ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ غَيْرُ ابْنِ الْمُبَارَكِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ ‏"‏ مَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهِيَ خِدَاجٌ ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ رَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ فَأَخْطَأَ فِي مَوَاضِعَ فَقَالَ عَنْ أَنَسِ بْنِ أَبِي أَنَسٍ وَهُوَ عِمْرَانُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ وَقَالَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ وَإِنَّمَا هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعِ ابْنِ الْعَمْيَاءِ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ ‏.‏ وَقَالَ شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنِ الْمُطَّلِبِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا هُوَ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ وَحَدِيثُ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ يَعْنِي أَصَحَّ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيفتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، عبد اللہ بن نافع بن العمیاء ضعفہ، البخاري والجمہور وضعفہ راجح وقال ابن حجر: مجہول (تقریب: 3658)، (انوار الصحیفہ ص 199)تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف لجهالة عبد الله بن نافع بن العمياء، وأخرجه النسائي في "الكبرى" (٦١٥) و (١٤٤٠)، وهو في "مسند أحمد" (١٧٩٩) و (١٧٥٢٥)، و"شرح مشكل الآثار" للطحاوي (١٠٩٤) و (١٠٩٥) و (١٠٩٦). وانظر ما بعده
ফযল ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নামায দুই দুই রাক’আত; প্রতি দুই রাক’আত পর তাশাহ্‌হুদ পাঠ করতে হবে; নামাযী কে বিনয়ী হতে হবে, মিনতির সাথে প্রার্থনা করতে হবে; কপর্দকহীন হতে হবে। কোন কিছুকে ওয়াসীলা করে চাইতে হবে। এ অবস্থায় তোমার প্রতিপালকের দরবারে নিজের দু’হাত তুলবে, হাতের তালু তোমার চেহারার দিকে থাকবে, তারপর বলবে, হে প্রভু, হে প্রতিপালক। যে ব্যক্তি এমনটি না করবে তার নামায এরূপ এবং এরূপ হবে।



যঈফ, ইবনু মাজাহ(১৩২৫)।







আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনুল মুবারাক ছাড়া অন্যান্য রাবীগণ হাদীসের শেষের অংশ এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ যে ব্যক্তি এরূপ (বিনয়-নম্রতা অবলম্বন) করল না তার নামায পূর্ণাঙ্গ হল না।

আবূ ঈসা বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী কে বলতে শুনেছি, শুবা এ হাদীসটি আবদে রব্বিহি ইবনু সাঈদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি কয়েকটি জায়াগায় ভুল করেছেন। তিনি বলেছেন, আনাস ইবনু আবী আনাস হতে প্রকৃতপক্ষে তা হবে ইমরান ইবনু আবী আনাস, তিনি বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস হতে প্রকৃতপক্ষে তা হবে আব্দুল্লাহ ইবনুল নাফি হতে তিনি রাবীয়া ইবনুল হারিস হতে। শুবা বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস হতে তিনি মুত্তালিব হতে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে। প্রকৃতপক্ষে তা হবে রাবীয়া ইবনুল হারিস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব হতে, তিনি ফাযল ইবনুল আব্বাস হতে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেছেন, শুবার বর্ণিত হাদীসের চেয়ে লাইসের বর্ণনাটি বেশি সহীহ।

সুনান আত-তিরমিযী (385)

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ خَرَجَ عَامِدًا إِلَى الْمَسْجِدِ فَلاَ يُشَبِّكَنَّ بَيْنَ أَصَابِعِهِ فَإِنَّهُ فِي صَلاَةٍ ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ مِثْلَ حَدِيثِ اللَّيْثِ ‏.‏ وَرَوَى شَرِيكٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ وَحَدِيثُ شَرِيكٍ غَيْرُ مَحْفُوظٍ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيحتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسن، مشکوۃ المصابیح (994)تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث حسن، وهذا إسناد ضعيف لإبهام الراوي عن كعب بن عجرة، لكن تابعه عبد الرحمن بن أبي ليلى عند الطحاوي في "شرح مشكل الآثار" (٥٥٧٠)، وابن حبان (٢١٥٠)، والبيهقي ٣/ ٢٣٠ - ٢٣١ بإسناد حسن، وأخرجه أبو داود (٥٦٢)، وابن ماجه (٩٦٧)، وهو في "مسند أحمد" (١٨١٠٣)، و"صحيح ابن حبان" (٢٠٣٦). ولفظ ابن ماجه: أن رسول الله ﷺ رأى رجلًا قد شبك أصابعه في الصلاة، ففرج رسول الله ﷺ بين أصابعه. وفي الباب عن أبي سعيد الخدري، عند أحمد (١١٣٨٥)، وإسناده ضعيف. وقد وردت أحاديث صحيحة دالة على جواز التشبيك مطلقًا، كحديث أبي موسى أخرجه البخاري (٤٨١)، وحديث أبي هريرة عنده أيضًا (٤٨٢)، وحديث عبد الله بن عمرو أخرجه أحمد (٦٥٠٨). ولا تعارض بين أحاديث الجواز وأحاديث النهي، فحيث كان التشبيك على وجه العبث، فهو منهي عنه، وإلا فهو جائز. وانظر "فتح الباري" ١/ ٥٦٥ - ٥٦٧
কা’ব ইবনু উযরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ ভালভাবে ওযূ করে নামায আদায়ের নিয়্যাতে মসজিদের দিকে যেতে থাকে তখন সে যেন নিজের হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ না করায়। কেননা সে তখন নামাযের মধ্যেই আছে।



সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(৯৭৬)।







আবূ ‘ঈসা বলেনঃ কা’ব ইবনু উযরার হাদীসটি একাধিক সূত্রে ইবনু ‘আজলান হতে লাইসের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। শারীক তাঁর সনদ পরস্পরায় এ হাদীসটি আবূ হুরায়রার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁর বর্ণনাসূত্রটি সঠিকভাবে রক্ষিত হয়নি।

সুনান আত-তিরমিযী (386)

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قِيلَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ قَالَ ‏ "‏ طُولُ الْقُنُوتِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُبْشِيٍّ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيحتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیحتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه مسلم (٧٥٦)، وابن ماجه (١٤٢١)، وهو في "مسند أحمد" (١٤٢٣٣) و (١٤٣٦٨) و (١٥٢١٠)، و"صحيح ابن حبان" (١٧٥٨). القنوت هنا، المراد به: القيام، ويدل على ذلك تصريح أبي داود في حديث عبد الله بن حبشي (١٣٢٥) و (١٤٤٩): أن النبي ﷺ سئل أي الأعمال أفضل؟ قال: طول القيام
জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, কোন্‌ ধরনের নামায উত্তম? তিনি বললেনঃ যে নামাযে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানো হয়।



সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(১৪২১), মুসলিম।



এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু হুবশী ও আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহর হাদীসটি হাসান সহীহ্‌। উল্লেখিত হাদীসটি জাবিরের নিকট হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

সুনান আত-তিরমিযী (387)

حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ، رَجَاءٌ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي الْوَلِيدُ بْنُ هِشَامٍ الْمُعَيْطِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي مَعْدَانُ بْنُ طَلْحَةَ الْيَعْمَرِيُّ، قَالَ لَقِيتُ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَهُ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهِ وَيُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ فَسَكَتَ عَنِّي مَلِيًّا ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَىَّ فَقَالَ عَلَيْكَ بِالسُّجُودِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْجُدُ لِلَّهِ سَجْدَةً إِلاَّ رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً ‏"‏ ‏.‏تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح مسلمتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه مسلم (٤٨٨)، وابن ماجه (١٤٢٣)، والنسائي ٢/ ٢٢٨، وهو في "مسند أحمد" (٢٢٣٧١) و (٢٢٣٧٧)، و"صحيح ابن حبان" (١٧٣٥)
মা’দান ইবনু আবূ তালহা আল-ইয়ামারী (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আযাদকৃত দাস সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে দেখা করলাম। আমি তাঁকে বললাম, আমাকে এমন একটি কাজের কথা বলে দিন যার বিনিময়ে আল্লাহ তা’আলা আমাকে উপকৃত করবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমার প্রশ্নে তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি অবশ্যই বেশি বেশি সাজদাহ্‌ করবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যে কোন বান্দাহ আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর জন্য একটি সাজদাহ্‌ করে, আল্লাহ তা’আলা তার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেন।



সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(১৪২৩), মুসলিম।



-

সুনান আত-তিরমিযী (388)

قَالَ مَعْدَانُ بْنُ طَلْحَةَ فَلَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَسَأَلْتُهُ عَمَّا سَأَلْتُ عَنْهُ ثَوْبَانَ فَقَالَ عَلَيْكَ بِالسُّجُودِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْجُدُ لِلَّهِ سَجْدَةً إِلاَّ رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مَعْدَانُ بْنُ طَلْحَةَ الْيَعْمَرِيُّ وَيُقَالُ ابْنُ أَبِي طَلْحَةَ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي أُمَامَةَ وَأَبِي فَاطِمَةَ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ثَوْبَانَ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ فِي كَثْرَةِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا الْبَابِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ طُولُ الْقِيامِ فِي الصَّلاَةِ أَفْضَلُ مِنْ كَثْرَةِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ كَثْرَةُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ أَفْضَلُ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ قَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا حَدِيثَانِ وَلَمْ يَقْضِ فِيهِ بِشَيْءٍ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ أَمَّا فِي النَّهَارِ فَكَثْرَةُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَأَمَّا بِاللَّيْلِ فَطُولُ الْقِيَامِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ لَهُ جُزْءٌ بِاللَّيْلِ يَأْتِي عَلَيْهِ فَكَثْرَةُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ فِي هَذَا أَحَبُّ إِلَىَّ لأَنَّهُ يَأْتِي عَلَى جُزْئِهِ وَقَدْ رَبِحَ كَثْرَةَ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا قَالَ إِسْحَاقُ هَذَا لأَنَّهُ كَذَا وُصِفَ صَلاَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ وَوُصِفَ طُولُ الْقِيَامِ وَأَمَّا بِالنَّهَارِ فَلَمْ يُوصَفْ مِنْ صَلاَتِهِ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ مَا وُصِفَ بِاللَّيْلِ ‏.‏تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: سلف تخريجه في الذي قبله
মা’দান হতে বর্ণিত, অতঃপর আমি আবূ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে দেখা করে তাঁকেও সাওবানের নিকট যে প্রশ্ন করেছিলাম তাই করলাম। তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই সাজদাহ্‌ করতে থাক। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যে কোন ব্যক্তিই আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাঁকে একটি সাজদাহ্‌ করে, আল্লাহ তা’আলা তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেন।



সহীহ্‌। দেখুন পূর্বের হাদীস।



মা’দান ইবনু ইয়া’মারীকে ইবনু আবী তালহাও বলা হয়।

এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরায়রা, আবূ উমামা ও আবূ ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ অধিক রুকু সাজদাহ্‌ সম্পর্কিত সাওবান ও আবূ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস দুটো হাসান সহীহ্‌। হাদীসে বর্ণিত বিষয়ে বিদ্বানগণের মতের অমিল রয়েছে।

একদল আলিম বলেছেন, নামাযে দীর্ঘ কিয়াম করা বেশি রুকু সাজদাহ্‌ করা হতেও উত্তম। অপর দল বলেছেন, দীর্ঘ কিয়ামের তুলনায় বেশি রুকু-সাজদাহ্‌ করা উত্তম। ইমাম আহমাদ বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস দুটি হতে উভয় মতেরই সমর্থন পাওয়া যায়, তাতে কোন সমাধান নাই। ইসহাক বলেন, দিনের বেলা বেশি রুকু-সাজদাহ্‌ এবং রাতের বেলা দীর্ঘ কিয়াম করা উত্তম। হ্যাঁ যদি কোন ব্যক্তি রাতের কিয়ামের জন্য সময় নির্দিষ্ট করে নেয় তবে বেশি রুকূ সাজদাহ্‌ করাই উত্তম। কেননা সে তার নির্দিষ্ট সময়ও পূর্ণ করবে আর বেশি রুকূ সাজদাহ্‌’রও সাওয়াব পাবে এবং কল্যানের মধ্যে থাকবে।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ইমাম ইসহাকের এ মতের সমর্থনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আমল বিদ্যমান রয়েছে। তিনি রাতে দীর্ঘ কিয়াম করতেন এবং দিনে বেশি রুকু-সাজদাহ্‌ করতেন (অনেক রাক’আত নামায আদায় করতেন)। তিনি দিনের নামাযে রাতের নামাযের মতো দীর্ঘ কিয়াম করতেন না।

সুনান আত-তিরমিযী (389)

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، هُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ ضَمْضَمِ بْنِ جَوْسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَتْلِ الأَسْوَدَيْنِ فِي الصَّلاَةِ الْحَيَّةُ وَالْعَقْرَبُ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي رَافِعٍ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏ وَكَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ قَتْلَ الْحَيَّةِ وَالْعَقْرَبِ فِي الصَّلاَةِ ‏.‏ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ إِنَّ فِي الصَّلاَةِ لَشُغْلاً ‏.‏ وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ ‏.‏تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح، مشکوۃ المصابیح (1004)تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه أبو داود (٩٢١)، وابن ماجه (١٢٤٥)، والنسائي في "المجتبى" ٣/ ١٠، وهو في "مسند أحمد" (٧١٧٨)، و"صحيح ابن حبان" (٢٣٥١)
আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাযে থাকা অবস্থায়ও দুটি কালো প্রাণী অর্থাৎ সাপ এবং বিছা হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন।



সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(১২৪৫)।



এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘আব্বাস ও আবূ রাফি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরায়রার হাদীসটি হাসান সহীহ্‌। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একদল সাহাবা ও অন্যান্যরা এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও একইরকম কথা বলেছেন। কিছু বিদ্বান নামাযে থাকা অবস্থায় সাপ-বিছা মারা মাকরূহ বলেছেন। ইবরাহীম বলেছেন, নামাযের মধ্যে একটা ব্যস্ততা রয়েছে। (তিরমিযী বলেন) প্রথম কথাটাই বেশি সহীহ্‌।

সুনান আত-তিরমিযী (390)

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ الأَسَدِيِّ، حَلِيفِ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ فِي صَلاَةِ الظُّهْرِ وَعَلَيْهِ جُلُوسٌ فَلَمَّا أَتَمَّ صَلاَتَهُ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ سَجْدَةٍ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ وَسَجَدَهُمَا النَّاسُ مَعَهُ مَكَانَ مَا نَسِيَ مِنَ الْجُلُوسِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ ‏.‏



حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، وَأَبُو دَاوُدَ قَالاَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَالسَّائِبَ الْقَارِئَ، كَانَا يَسْجُدَانِ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ قَبْلَ التَّسْلِيمِ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ بُحَيْنَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ يَرَى سُجُودَ السَّهْوِ كُلِّهِ قَبْلَ السَّلاَمِ وَيَقُولُ هَذَا النَّاسِخُ لِغَيْرِهِ مِنَ الأَحَادِيثِ وَيَذْكُرُ أَنَّ آخِرَ فِعْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَ عَلَى هَذَا ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ إِذَا قَامَ الرَّجُلُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ فَإِنَّهُ يَسْجُدُ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ قَبْلَ السَّلاَمِ عَلَى حَدِيثِ ابْنِ بُحَيْنَةَ ‏.‏ وَعَبْدُ اللَّهِ ابْنُ بُحَيْنَةَ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَالِكٍ وَهُوَ ابْنُ بُحَيْنَةَ مَالِكٌ أَبُوهُ وَبُحَيْنَةُ أُمُّهُ ‏.‏ هَكَذَا أَخْبَرَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمَدِينِيِّ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي سَجْدَتَىِ السَّهْوِ مَتَى يَسْجُدُهُمَا الرَّجُلُ قَبْلَ السَّلاَمِ أَوْ بَعْدَهُ فَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَسْجُدَهُمَا بَعْدَ السَّلاَمِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ يَسْجُدُهُمَا قَبْلَ السَّلاَمِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِثْلِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَرَبِيعَةَ وَغَيْرِهِمَا وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا كَانَتْ زِيَادَةً فِي الصَّلاَةِ فَبَعْدَ السَّلاَمِ وَإِذَا كَانَ نُقْصَانًا فَقَبْلَ السَّلاَمِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَجْدَتَىِ السَّهْوِ فَيُسْتَعْمَلُ كُلٌّ عَلَى جِهَتِهِ يَرَى إِذَا قَامَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ عَلَى حَدِيثِ ابْنِ بُحَيْنَةَ فَإِنَّهُ يَسْجُدُهُمَا قَبْلَ السَّلاَمِ وَإِذَا صَلَّى الظُّهْرَ خَمْسًا فَإِنَّهُ يَسْجُدُهُمَا بَعْدَ السَّلاَمِ وَإِذَا سَلَّمَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَإِنَّهُ يَسْجُدُهُمَا بَعْدَ السَّلاَمِ وَكُلٌّ يُسْتَعْمَلُ عَلَى جِهَتِهِ ‏.‏ وَكُلُّ سَهْوٍ لَيْسَ فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذِكْرٌ فَإِنَّ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ قَبْلَ السَّلاَمِ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ نَحْوَ قَوْلِ أَحْمَدَ فِي هَذَا كُلِّهِ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ كُلُّ سَهْوٍ لَيْسَ فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذِكْرٌ فَإِنْ كَانَتْ زِيَادَةً فِي الصَّلاَةِ يَسْجُدُهُمَا بَعْدَ السَّلاَمِ وَإِنْ كَانَ نُقْصَانًا يَسْجُدُهُمَا قَبْلَ السَّلاَمِ ‏.‏تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، وأخرجه البخاري (٨٢٩) و (١٢٣٠)، ومسلم (٥٧٠)، وأبو داود (١٠٣٤) و (١٠٣٥)، وابن ماجه (١٢٠٦) و (١٢٠٧)، والنسائي ٢/ ٢٤٤ و ٣/ ١٩ - ٢٠ و ٢٠ و ٣٤، وهو في "مسند أحمد" (٢٢٩١٩) و (٢٢٩٢٠)، و"صحيح ابن حبان" (١٩٣٨) و (١٩٣٩) و (١٩٤١). - ط الرسالة - جـ ١(ص: ٤٤٤
আবদুল্লাহ ইবনু বুহাইনা আল-আসাদী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের নামাযে (দ্বিতীয় রাক’আতে) বসার পরিবর্তে দাঁড়িয়ে গেলেন। নামায শেষ করার পর সালাম ফিরানোর আগে তিনি বসা অবস্থায় তাকবীরসহকারে দুটি সাজদাহ্‌ করলেন। তার সাথের লোকেরাও সাজদাহ্‌ করলো। ভুলে বর্জিত বসার পরিবর্তে এ সাজদাহ্‌।



সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(১২০৬, ১২০৭), বুখারী ও মুসলিম।



এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা ও আব্দুল্লাহ ইবনু সায়িব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত আছে, তারা উভয়েই সালামের পূর্বে সাহু সাজদাহ্‌ করতেন। সনদ সহীহ্‌। সায়িব তিনি ইবনু ‘উমাইর।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ বুহাইনার হাদীসটি হাসান সহীহ্‌।

কিছু বিদ্বান এই হাদীসের উপর ‘আমল করেন। ইমাম শাফিঈ এই মত পোষণ করেন। তার মতে সকল সাহু সাজদাহ্‌ই সালামের পূর্বে। তিনি আরো বলেন, এই হাদীস অন্যান্য হাদীসের নাসিখ। কেননা এটাই রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সর্বশেষ ‘আমল। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেন, কোন ব্যক্তি যদি দ্বিতীয় রাক’আতের পর দাঁড়িয়ে যায় তাহলে ইবনু বুহাইনার হাদীস অনুযায়ী সালামের পূর্বেই সাহু সাজদাহ্‌ করবে। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু বুহাইনা তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মালিক। তার মাতার নাম বুহাইনা। ইসহাক ইবনু মানসুর আলী ইবনু আব্দিল্লাহ আল-মাদানী হতে এরূপই বর্ণনা করেছেন।





আবূ ‘ঈসা বলেনঃ সাহু সাজদাহ্‌ কখন করবে এ ব্যাপারে বিদ্বানগণের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। কতক বিদ্বানের মতে সালামের পড়ে সাহু সাজদাহ্‌ করতে হবে। সুফ্‌ইয়ান সাওরী ও কুফাবাসীর মত এটাই। কতক বিদ্বানের মতে সালামের পূর্বেই সাহু সাজদাহ্‌ করবে। এটাই অধিকাংশ মদীনাবাসী ফুকাহদের অভিমত। যেমন-ইয়াহিয়ায়া ইবনু সা’ঈদ, রাবীয়া এবং অন্যান্য ইমামগণ। শাফিঈরও মত এটাই। আবার কেউ কেউ বলেন, নামাযে যদি অতিরিক্ত করে ফেলে তাহলে সালামের পরে, আর যদি নামাযে স্বল্পতা থাকে তবে সালামের পূর্বে। মালিক ইবনু আনাসের মত এটাই। ইমাম আহমাদ বলেন, সাহু সাজদাহ্‌ সম্পর্কে হাদীসসমূহে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যে নিয়ম বর্ণিত হয়েছে সে নিয়ম অনুযায়ীই আমল করতে হবে। যদি দুই রাক’আত শেষে দাঁড়িয়ে যায় তাহলে বুহাইনার হাদীস অনুযায়ী সালামের পূর্বে সাহু সাজদাহ্ করবে। আর যদি যুহরের নামায পাঁচ রাকআত পড়ে ফেলে তাহলে সালামের পরে সাহু সাজদাহ্‌ করবে। যদি যুহর বা আসরে দুই রাকআতের পর সালাম ফিরায় তাহলে সালামের পরে সাহু সাজদাহ্‌ করবে। আর যে সমস্ত ভুলের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে কোন বিবরণ নেই তাতে সালামের পূর্বেই সাহু সাজদাহ্‌ করবে। ইসহাকও আহমাদ অনুরূপ মত পোষণ করেন। তবে তিনি বলেন, যে সমস্ত ভুলের বিবরণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত হয়নি তা যদি নামাযে অতিরিক্ত হয় তবে সালামের পরে সাহু সাজদাহ্‌ করবে, আর যদি নামাযে স্বল্পতা হয় তবে সালামের পূর্বেই সাহু সাজদাহ্‌ করবে।

সুনান আত-তিরমিযী (391)

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ خَمْسًا فَقِيلَ لَهُ أَزِيدَ فِي الصَّلاَةِ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ بَعْدَ مَا سَلَّمَ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه مطولًا ومختصرًا البخاري (٤٠١) و (٤٠٤) و (١٢٢٦)، ومسلم (٥٧٢)، وأبو داود (١٠١٩ - ١٠٢٢)، وابن ماجه (١٢٠٣) و (١٢٠٥) و (١٢١١) و (١٢١٢)، والنسائي ٣/ ٢٨ و ٢٩ و ٣١ - ٣٢ و ٣٢ و ٣٣، وهو في "مسند أحمد" (٣٥٦٦)، و"صحيح ابن حبان" (٢٦٥٨) و (٢٦٥٩). وانظر تخريج الحديث الآتي.
‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু মাসঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের নামায পাঁচ রাক’আত আদায় করলেন। তাঁকে বলা হল, নামায কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? ফলে সালাম ফিরানোর পর তিনি দুটি সাজদাহ্‌ করলেন।



সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(১২০৫, ১২১১, ১২১২, ১২১৮), বুখারি ও মুসলিম।







আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ্‌।

সুনান আত-তিরমিযী (392)

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ بَعْدَ الْكَلاَمِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاوِيَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيحتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه بهذا اللفظ مسلم (٥٧٢) (٩٥)، وابن ماجه (١٢١٨)، والنسائي ٣/ ٦٦، وهو في "مسند أحمد" (٣٥٧٠). وانظر تخريج الحديث الذي قبله.
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথাবার্তা বলার পর সাহুসিজদা করেছেন।



সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(১২১২)।



এ অনুচ্ছেদে মু’আবিয়া, ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফর ও আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

সুনান আত-তিরমিযী (393)

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَجَدَهُمَا بَعْدَ السَّلاَمِ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَاهُ أَيُّوبُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ ‏.‏ وَحَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا إِذَا صَلَّى الرَّجُلُ الظُّهْرَ خَمْسًا فَصَلاَتُهُ جَائِزَةٌ وَسَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ وَإِنْ لَمْ يَجْلِسْ فِي الرَّابِعَةِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا صَلَّى الظُّهْرَ خَمْسًا وَلَمْ يَقْعُدْ فِي الرَّابِعَةِ مِقْدَارَ التَّشَهُّدِ فَسَدَتْ صَلاَتُهُ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَبَعْضِ أَهْلِ الْكُوفَةِ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيحتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه مطولًا ومختصرًا البخاري (٤٨٢)، ومسلم (٥٧٣)، وأبو داود (١٠٠٨ - ١٠١٤)، وابن ماجه (١٢١٤)، والنسائي ٣/ ٢٠ - ٢٦، وهو في "مسند أحمد" (٧٢٠١) و (٧٣٧٤)، و"صحيح ابن حبان" (٢٢٥٦). وسيأتي (٤٠١).
আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভুলের সাজদাহ্‌, দুটো সালাম ফিরানোর পর করেছেন।



সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(১২১৪), বুখারী ও মুসলিমে বিস্তারিত।







আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ্‌। এ হাদীসটি আইয়ূব এবং আরো অনেকে ইবনু সীরীন হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনু মাসঊদের হাদীসটিও হাসান সহীহ্‌।

একদল বিদ্বান এ হাদীসের উপর ‘আমল করেছেন। তাঁরা বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি ভুলে যুহরে পাঁচ রাক’আত নামায আদায় করে ফেলে তবে তার নামায জায়িয হবে, সে যদি চতুর্থ রাক’আতে নাও বসে থাকে, তবে দুটি ভুলের সাজদাহ্‌ করবে। ইমাম শাফঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ কথা বলেছেন। সুফিয়ান সাওরী ও কিছু কুফাবাসী বলেছেন, যদি যুহরের নামায পাঁচ রাক’আত আদায় করা হয় এবং চতুর্থ রাক’আতে তাশাহ্‌হুদের পরিমাণ সময় না বসা হয়ে থাকে তবে এ নামায ফাসিদ বলে ধরা হবে।

সুনান আত-তিরমিযী (394)

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَشْعَثُ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمْ فَسَهَا فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ تَشَهَّدَ ثُمَّ سَلَّمَ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثُ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَرَوَى مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ وَهُوَ عَمُّ أَبِي قِلاَبَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ ‏.‏ وَرَوَى مُحَمَّدٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ ‏.‏ وَأَبُو الْمُهَلَّبِ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو وَيُقَالُ أَيْضًا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو ‏.‏ وَقَدْ رَوَى عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ وَهُشَيْمٌ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ بِطُولِهِ وَهُوَ حَدِيثُ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَلَّمَ فِي ثَلاَثِ رَكَعَاتٍ مِنَ الْعَصْرِ فَقَامَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ الْخِرْبَاقُ ‏.‏ وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي التَّشَهُّدِ فِي سَجْدَتَىِ السَّهْوِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ يَتَشَهَّدُ فِيهِمَا وَيُسَلِّمُ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ فِيهِمَا تَشَهُّدٌ وَتَسْلِيمٌ وَإِذَا سَجَدَهُمَا قَبْلَ السَّلاَمِ لَمْ يَتَشَهَّدْ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالاَ إِذَا سَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ قَبْلَ السَّلاَمِ لَمْ يَتَشَهَّدْ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: شاذ بذكر التشهدتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح، مشکوۃ المصابیح (1019)تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: أخرجه أبو داود (١٠٣٩)، والنسائي ٣/ ٢٦، وهو في "صحيح ابن حبان" (٢٦٧٠) و (٢٦٧٢). قال البيهقي في "السنن" ٢/ ٣٥٥: تفرد به أشعث الحمراني، وقد رواه شعبة وابن علية ووهيب والثقفي وهشيم وحماد بن زيد ويزيد بن زريع وغيرهم عن خالد الحذاء، لم يذكر أحد منهم ما ذكر أشعث، عن محمد، عنه، ورواه أيوب، عن محمد قال: أخبرت عن عمران، فذكر السلام دون التشهد، وفي رواية هشيم - التي أوردها البيهقي عقب كلامه هذا - ذكر التشهد قبل السجدتين، وذلك يدل على خطأ أشعث فيما رواه. وحديث أيوب، عن محمد، أخرجه عقب حديث أبي هريرة الحميدي (٩٨٣)، والبيهقي ٢/ ٣٥٤. وقد حقق الحافظ في "الفتح" ٣/ ٩٩ أن ذكر التشهد في هذا الحديث شاذ، ثم قال: لكن قد ورد في التشهد في سجود السهو عن ابن مسعود عند أبي داود (١٠٢٨)، والنسائي في "الكبرى" (٦٠٨)، وعن المغيرة عند البيهقي ٢/ ٣٥٥، وفي إسنادهما ضعف، فقد يقال: إن الأحاديث الثلاثة في التشهد باجتماعها ترتقي إلى درجة الحسن، قال العلائي: وليس دلك ببعيد، وقد صح ذلك عن ابن مسعود من قوله، أخرجه ابن أبي شيبة ٢/ ٣١. قلنا: وروى الطحاوي في "شرح معاني الآثار" ١/ ٤٣٤ عن ربيع المؤذن، عن يحيى بن حسان، حدثنا وهيب، حدثنا منصور، عن إبراهيم، عن علقمة، عن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله ﷺ: "إذا صلى أحدكم فلم يدر، أثلاثًا صلى أم أربعًا، فلينظر أحرى ذلك إلى الصواب، فليتمه، ثم ليسلم، ثم ليسجد سجدتي السهو ويتشهد ويسلم". وإسناده قوي.
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নামায আদায় করালেন। তিনি ভুল করলেন, তারপর দুটি সিজদা করলেন, তারপর তাশাহ্‌হুদ পাঠ করলেন, তারপর সালাম ফিরালেন।



তাশাহ্‌হুদের উল্লেখ সহ বর্ণনাটি শাজ, ইরওয়া (৪০৩), যঈফ আবূ দাঊদ (১৯৩), মিশকাত (১০১৯)







আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন অন্যান্য হাদীস আবূ কিলাবার চাচা আবুল মুহাল্লাব হতে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এ হাদীসটি খালিদ আল-হাযযা হতে, তিনি কিলাবা হতে তিনি আবুল মুহাল্লাব হতে বর্ণনা করেছেন। আবুল মুহাল্লাব-এর নাম আব্দুর রহমান। তাকে মুয়াবিয়া ইবনু আমরও বলা হয়। আব্দুল ওয়াহ্‌হাব আস সাকাফী হুশাইম ও অন্যান্যরা এ হাদীসটি খালিদ আল-হায্যা হতে তিনি আবূ কিলাবা হতে পূর্ণটাই বর্ণনা করেছেন। ইমরান ইবনু হুসাইনের অপর বর্ণনায় আছেঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের তৃতীয় রাক‘আতে সালাম ফিরালেন। এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো, তার নাম ছিল খিরবাক।

সিজদা সাহুর পর তাশাহ্‌হুদ পাঠের ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল আছে। একদল বলেছেন, সিজদা করার পর তাশাহ্‌হুদ পাঠ করবে, তারপর সালাম ফিরাবে। অপর দল বলেছেন, সিজদা সাহুর পর তাশাহ্হুদ নেই, সালামও নেই। সালাম ফিরানোর পূর্বে সিজদা করলে তাশাহ্‌হুদ পাঠ করবে না। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক এই মতের সমর্থক। তাঁরা উভয়ে বলেছেন, সালাম ফিরানোর পূর্বে সিজদা সাহু করলে তাশাহ্‌হুদ পাঠ করবে না।

সুনান আত-তিরমিযী (395)

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِيَاضٍ يَعْنِي ابْنَ هِلاَلٍ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي سَعِيدٍ أَحَدُنَا يُصَلِّي فَلاَ يَدْرِي كَيْفَ صَلَّى فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلَمْ يَدْرِ كَيْفَ صَلَّى فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَعَائِشَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي الْوَاحِدَةِ وَالثِّنْتَيْنِ فَلْيَجْعَلْهُمَا وَاحِدَةً وَإِذَا شَكَّ فِي الثِّنْتَيْنِ وَالثَّلاَثِ فَلْيَجْعَلْهُمَا ثِنْتَيْنِ وَيَسْجُدْ فِي ذَلِكَ سَجْدَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ ‏"‏ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَصْحَابِنَا ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا شَكَّ فِي صَلاَتِهِ فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى فَلْيُعِدْ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيحتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ حسنتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح لغيره، وهذا إسناد ضعيف لجهالة عياض بن هلال الأنصاري، وأخرجه أبو داود (١٠٢٩)، وابن ماجه (١٢٠٤)، والنسائي في "الكبرى" (٥٩٠ - ٥٩٤)، وهو في "مسند أحمد" (١١٠٨٢)، و"صحيح ابن حبان" (٢٦٦٥).
‘ইয়ায ইবনু হিলাল (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ সা’ঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করলাম, আমাদের কেউ নামায আদায় করল কিন্তু তার মনে নেই সে কত রাক’আত আদায় করল? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামায আদায় করে, কিন্তু বলতে পারছে না সে কত রাক’আত আদায় করল, সে বসা অবস্থায়ই দুটি সাজদাহ্‌ করবে।



সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(১২০৪), মুসলিম অনুরূপ আরো পূর্ণভাবে।



এ অনুচ্ছেদে ‘উসমান, ইবনু মাসঊদ, ‘আয়িশাহ্‌, আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ সা’ঈদের হাদীসটি হাসান। উল্লেখিত হাদীসটি আবূ সা’ঈদের নিকট হতে অপরাপর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে আরো বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ ‘যদি তোমাদের কেউ এক এবং দুই রাক’আতের মধ্যে দ্বিধায় পরে যায় (এক রাক’আত আদায় করেছে না দুই রাক’আত আদায় করেছে) তবে সে এক রাক’আতই হিসাবে ধরবে। যদি সে দুই এবং তিন রাক’আতের মধ্যে সন্দেহে পরে তবে দুই রাক’আতই হিসাবে ধরবে এবং সালাম ফিরানোর পূর্বে দুটি সাজদাহ্‌ করবে।’’

আমাদের সঙ্গীরা এ হাদীস অনুযায়ী ‘আমল করেন। এক দল ‘আলিম বলেছেন, কত রাক’আত আদায় করেছে তা ঠিক করতে পারছে না- এ ধরনের সন্দেহে পরলে আবার নামায আদায় করবে।

সুনান আত-তিরমিযী (396)

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْتِي أَحَدَكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَيَلْبِسُ عَلَيْهِ حَتَّى لاَ يَدْرِي كَمْ صَلَّى فَإِذَا وَجَدَ ذَلِكَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيحتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null
আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কারো নামাযের সময় শাইত্বান উপস্থিত হয়ে তার নামাযের মধ্যে গণ্ডগোল সৃষ্টি করে। এমনকি সে (কোন কোন সময়) বলতে পারে না যে, সে কত রাক’আত আদায় করেছে। তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থায় পরলে সে যেন বসা অবস্থায়ই দুটি সাজদাহ্ করে।



সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাঊদ-(৯৪৩-৯৪৫), বুখারী ও মুসলিম।







আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।

সুনান আত-তিরমিযী (397)

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ ابْنُ عَثْمَةَ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ إِذَا سَهَا أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلَمْ يَدْرِ وَاحِدَةً صَلَّى أَوْ ثِنْتَيْنِ فَلْيَبْنِ عَلَى وَاحِدَةٍ فَإِنْ لَمْ يَدْرِ ثِنْتَيْنِ صَلَّى أَوْ ثَلاَثًا فَلْيَبْنِ عَلَى ثِنْتَيْنِ فَإِنْ لَمْ يَدْرِ ثَلاَثًا صَلَّى أَوْ أَرْبَعًا فَلْيَبْنِ عَلَى ثَلاَثٍ وَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيحتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسنتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حسن لغيره، وأخرجه ابن ماجه (١٢٠٩). وهو في "المسند" (١٦٥٦)، وانظر تمام الكلام عليه وتخريجه فيه. وأخرجه أحمد (١٦٧٧) مرسلًا. وفي الباب عن أبي سعيد الخدري، سلف تخريجه بإثر الحديث رقم (٣٩٨). وهو صحيح.
‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ যখন তার নামাযে ভুল করে তারপর সে বলতে পারছে না সে কি এক রাক’আত আদায় করেছে না দুই রাক’আত আদায় করেছে, এমতাবস্থায় সে এক রাক’আতের উপরই ভিত্তি করবে। সে কি দুই রাক’আত আদায় করেছে না তিন রাক’আত-তা ঠিক করতে না পারলে দুই রাক’আতকেই ভিত্তি ধরবে। সে তিন রাক’আত আদায় করেছে না চার রাক’আত-তা ঠিক করতে না পারলে তিন রাক’আতকেই ভিত্তি ধরবে এবং সালাম ফিরানোর আগে দুটি সাজদাহ্ করবে।



সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(১২০৯)।







আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ্। ‘আবদুর রহমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট হতে অপরাপর সূত্রেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। যুহরী তার সনদ পরম্পরায় ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

সুনান আত-তিরমিযী (398)

حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ، وَهُوَ أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنَ اثْنَتَيْنِ فَقَالَ لَهُ ذُو الْيَدَيْنِ أَقُصِرَتِ الصَّلاَةُ أَمْ نَسِيتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ النَّاسُ نَعَمْ ‏.‏ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى اثْنَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ كَبَّرَ فَرَفَعَ ثُمَّ سَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَابْنِ عُمَرَ وَذِي الْيَدَيْنِ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْكُوفَةِ إِذَا تَكَلَّمَ فِي الصَّلاَةِ نَاسِيًا أَوْ جَاهِلاً أَوْ مَا كَانَ فَإِنَّهُ يُعِيدُ الصَّلاَةَ وَاعْتَلُّوا بِأَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ كَانَ قَبْلَ تَحْرِيمِ الْكَلاَمِ فِي الصَّلاَةِ ‏.‏ قَالَ وَأَمَّا الشَّافِعِيُّ فَرَأَى هَذَا حَدِيثًا صَحِيحًا فَقَالَ بِهِ وَقَالَ هَذَا أَصَحُّ مِنَ الْحَدِيثِ الَّذِي رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّائِمِ إِذَا أَكَلَ نَاسِيًا فَإِنَّهُ لاَ يَقْضِي وَإِنَّمَا هُوَ رِزْقٌ رَزَقَهُ اللَّهُ ‏.‏ قَالَ الشَّافِعِيُّ وَفَرَّقُوا هَؤُلاَءِ بَيْنَ الْعَمْدِ وَالنِّسْيَانِ فِي أَكْلِ الصَّائِمِ بِحَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ فِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ إِنْ تَكَلَّمَ الإِمَامُ فِي شَيْءٍ مِنْ صَلاَتِهِ وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ قَدْ أَكْمَلَهَا ثُمَّ عَلِمَ أَنَّهُ لَمْ يُكْمِلْهَا يُتِمُّ صَلاَتَهُ وَمَنْ تَكَلَّمَ خَلْفَ الإِمَامِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ عَلَيْهِ بَقِيَّةً مِنَ الصَّلاَةِ فَعَلَيْهِ أَنْ يَسْتَقْبِلَهَا ‏.‏ وَاحْتَجَّ بِأَنَّ الْفَرَائِضَ كَانَتْ تُزَادُ وَتُنْقَصُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّمَا تَكَلَّمَ ذُو الْيَدَيْنِ وَهُوَ عَلَى يَقِينٍ مِنْ صَلاَتِهِ أَنَّهَا تَمَّتْ وَلَيْسَ هَكَذَا الْيَوْمَ لَيْسَ لأَحَدٍ أَنْ يَتَكَلَّمَ عَلَى مَعْنَى مَا تَكَلَّمَ ذُو الْيَدَيْنِ لأَنَّ الْفَرَائِضَ الْيَوْمَ لاَ يُزَادُ فِيهَا وَلاَ يُنْقَصُ ‏.‏ قَالَ أَحْمَدُ نَحْوًا مِنْ هَذَا الْكَلاَمِ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ نَحْوَ قَوْلِ أَحْمَدَ فِي الْبَابِ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيحتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وقد سلف تخريجه برقم (٣٩٦)، فانظره هناك.
আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই রাক’আত নামায আদায় করে সালাম ফিরালেন। যুল-ইয়াদাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! নামায কি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে না আপনি ভুলে গেছেন? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (লোকদের) প্রশ্ন করলেনঃ যুল-ইয়াদাইন কি ঠিক বলছে? লোকেরা বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে দাঁড়ালেন, বাকী দুই রাক’আত আদায় করালেন, তারপর সালাম ফিরালেন, তারপর তাকবীর বললেন, এবং আগের সাজদাহ্‌র সমান অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সময় সাজদাহ্‌য় থাকলেন, তারপর তাকবীর বলে মাথা তুললেন। তিনি আবার সাজদাহ্‌য় গিয়ে আগের সাজদাহ্‌র সমান অথবা তার চেয়ে বেশি সময় সাজদাহ্‌য় কাটালেন।



সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(১২১৪), বুখারী ও মুসলিম।



এ অনুচ্ছেদে ‘ইমরান ইবনু হুসাইন, ইবনু ‘উমার ও যুল-ইয়াদাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরায়রা হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীসকে কেন্দ্র করে বিদ্বানদের মধ্যে মত পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। কুফাবাসীদের একদল বলেছেন, যদি ভুলে অথবা অজ্ঞতাবশত অথবা যে কোন প্রকারে নামাযের মধ্যে কথা বলা হয় তবে আবার নামায আদায় করতে হবে। কেননা এ হাদীসটি নামাযের মধ্যে কথাবার্তা হারাম হওয়ার পূর্বেকার। ইমাম শাফিঈর মতে উল্লেখিত হাদীসটি সহীহ্। তিনি এ হাদীসের সমর্থক। তিনি বলেছেন, “রোযাদার যদি ভুলক্রমে পানাহার করে ফেলে তবে তাকে এ রোজা আর রাখতে হবে না (কাযা করতে হবে না)। কেননা আল্লাহ তা’আলাই তাকে এ রিযক দিয়েছেন’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এ হাদীসটির তুলনায় পূর্বল্লেখিত হাদীসটি বেশি সহীহ্। তিনি আরো বলেছেন, ফাকীহগণ আবূ হুরায়রার হাদীস অনুযায়ী রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা এবং ভুলে পানাহার করার মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

আবূ হুরায়রার হাদীস প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ বলেন, নামায পূর্ণ হয়েছে এই মনে করে যদি ইমাম নামাযের মধ্যে কথা বলে এবং পরে জানতে পারে যে, নামায এখনও বাকী রয়েছে-এ অবস্থায় সে বাকী নামায পূর্ণ করবে (কথা বলায় নামায বাতিল হয়নি)। নামায এখনো বাকী রয়েছে একথা জেনেও মুক্তাদী যদি কথা বলে তবে তাকে আবার নামায আদায় করতে হবে। তিনি এ যুক্তি প্রদান করেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফরয নামাযে (ওহীর মাধ্যমে) কম বেশি করা হত। এজন্য যুল-ইয়াদাইনের বিশ্বাস ছিল হয়ত নামায পূর্ণ হয়েছে। তাই তিনি কথা বলেছেন, কিন্তু আজকাল এরূপ কথা চলবে না, কেননা এখন আর নামাযের মধ্যে কম-বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এজন্য আজকাল আর যুল-ইয়াদাইনের মত (নামায কি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে?) প্রশ্ন করা চলবে না। ইমাম ইসহাকও এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদের সাথে একমত ।

সুনান আত-তিরমিযী (399)

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ أَبِي مَسْلَمَةَ، قَالَ قُلْتُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي نَعْلَيْهِ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ وَشَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ وَأَوْسٍ الثَّقَفِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَطَاءٍ رَجُلٍ مِنْ بَنِي شَيْبَةَ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ ‏.‏تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيحتحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہتحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه البخاري (٣٨٦)، ومسلم (٥٥٥)، والنسائي ٢/ ٧٤، وهو في "مسند أحمد" (١١٩٧٦).
সা’ঈদ ইবনু ইয়াযীদ আবূ মাসলামা (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি জুতা পরে নামায আদায় করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।



সহীহ্। সিফাতুস সালাত মূল, বুখারী ও মুসলিম।



এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ হাবীবা, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর, ‘আমর ইবনু হুরাইস, সাদ্দাদ ইবনু আওস, আওস আস-সাকাফী, আবূ হুরায়রা ও ‘আতা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি হাসান সহীহ্। আলিমগণ এ হাদীসের সমর্থনে সমাধান গ্রহণ করেছেন (জুতা পরা অবস্থায় নামায আদায় করা বৈধ, যদি তাতে নাপাক না থাকে)।

সুনান আত-তিরমিযী (400)